প্রতিনিধি ৮ জানুয়ারি ২০২৬ , ৩:৩৫:৩৭ প্রিন্ট সংস্করণ
বিশেষ প্রতিনিধি।।ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার,কেরানীগঞ্জে কারা আইন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালা অমান্য করে প্রায় ১৮০০ থেকে ২০০০ হাজতিকে টানা ২৪ ঘণ্টা সেলবন্দি রেখে অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে।

কারাগারের বনফুল সেল ভবনের হাজতি মোঃ তরিকুল ইসলাম তারেক (হাজতি নং–৩১০৪৭/২৫),যিনি বাংলাদেশ ছালীগের প্রচার সম্পাদক বলে নিজেকে পরিচয় দিয়েছেন, তার পাঠানো এক লিখিত বার্তায় জানান—গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে শাপলা,বনফুল ও সূর্যমুখী ভবনের হাজতিদের অনির্দিষ্টকালের জন্য পূর্ণ লকআপে রাখা হয়েছে।
তার অভিযোগ অনুযায়ী,
হাজতিদের ২৪ ঘণ্টা তালাবদ্ধ সেলে আটকে রাখা হচ্ছে
পর্যাপ্ত খাবার,বিশুদ্ধ পানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ বন্ধ
অসুস্থদের জন্য যথাযথ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে না
শারীরিক ও মানসিকভাবে মানবতাবিরোধী অমানবিক আচরণ চালানো হচ্ছে
তিনি এ অবস্থাকে “কারা আইন বহির্ভূত ও মানবাধিকার পরিপন্থী” বলে উল্লেখ করেন।
আইনি বিশ্লেষণ: কারা আইন ও সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন,অভিযোগগুলো সত্য হলে তা সরাসরি—
🔹 কারা আইন, ১৮৯৪
ধারা ২৪ ও ৩৭ অনুযায়ী হাজতিদের সঙ্গে মানবিক আচরণ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতা।
দীর্ঘ সময় সেলবন্দি রাখা ও মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত করা আইনসিদ্ধ শাস্তির আওতায় পড়ে না।
🔹 বাংলাদেশ সংবিধান
অনুচ্ছেদ ৩১: আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার
অনুচ্ছেদ ৩২: জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার
বিচারাধীন হাজতিদের ক্ষেত্রে এসব অধিকার আরও সুরক্ষিত।
আইনজ্ঞদের মতে,বিচারাধীন হাজতিকে শাস্তিস্বরূপ আচরণ করা সংবিধান ও উচ্চ আদালতের রায়বিরোধী।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তির আলোকে
বাংলাদেশ যে সব আন্তর্জাতিক চুক্তির পক্ষভুক্ত,তার আলোকে অভিযোগগুলো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে—
🔹 জাতিসংঘের Universal Declaration of Human Rights (UDHR)
অনুচ্ছেদ ৫: “কাউকে নির্যাতন বা অমানবিক আচরণের শিকার করা যাবে না।”
🔹 ICCPR (International Covenant on Civil and Political Rights)
অনুচ্ছেদ ১০: আটক ব্যক্তিদের মানবিক মর্যাদার সঙ্গে আচরণ বাধ্যতামূলক।
🔹 UN Standard Minimum Rules for the Treatment of Prisoners (Nelson Mandela Rules)
পর্যাপ্ত খাবার,পানি,চিকিৎসা ও খোলা বাতাসে চলাচল নিশ্চিত না করলে তা Cruel, Inhuman and Degrading Treatment (CIDT) হিসেবে গণ্য হয়।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ
একাধিক মানবাধিকার সংগঠন দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের কারাগার ব্যবস্থায় অতিরিক্ত বন্দিত্ব ও অমানবিক আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
মানবাধিকার বিশ্লেষকরা বলছেন,
> “যদি হাজার হাজার হাজতিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ২৪ ঘণ্টা লকআপে রাখা হয়,তবে তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে ‘Collective Punishment’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।”
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের মতে,এ ধরনের অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
কারা কর্তৃপক্ষের নীরবতা
এ বিষয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মানবাধিকার কর্মীদের দাবি
মানবাধিকার কর্মীরা দাবি জানিয়েছেন—
অবিলম্বে ২৪ ঘণ্টার লকআপ প্রত্যাহার
স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন
দোষী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা
হাজতিদের ন্যূনতম মানবিক অধিকার নিশ্চিতকরণ














