প্রতিনিধি ৮ জানুয়ারি ২০২৬ , ৩:১৫:০৮ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।কৃষিজ উৎপাদন ও জমির উর্বরতা রক্ষায় কৃষি জমির উপরি-স্তর কর্তন/খনন ও অনুমোদনহীন ভরাটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।এ বিষয়ে দেশের সকল জেলা প্রশাসককে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (সায়রাত অনুবিভাগ) সাবেরা আক্তার স্বাক্ষরিত এক সরকারি স্মারকে জানানো হয়,দেশের বিভিন্ন জেলায় কিছু অসাধু ব্যক্তি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত না করে রাতের আঁধারে সরকারি বা ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির উপরি-স্তর কর্তন করছে।এর ফলে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং কৃষিজ উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্মারকে উল্লেখ করা হয়, “ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩”-এর ১৩ ধারা অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া আবাদযোগ্য বা কর্ষণীয় জমির উপরি-স্তর কর্তন করা কিংবা রেকর্ডভুক্ত মালিকের অনুমতি ব্যতিরেকে জমি বালু বা মাটি দিয়ে ভরাট করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের অপরাধে অনধিক দুই বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
বর্ণিত পরিস্থিতিতে উক্ত আইনের ১৩ ধারা অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ নির্দেশনার অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ,ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন শাখা,সকল বিভাগীয় কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।
আইনি বিশ্লেষণ
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন,২০২৩ প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য ছিল কৃষি জমি রক্ষা ও ভূমি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা।উক্ত আইনের ১৩ ধারা সরাসরি কৃষি জমির উপরি-স্তর কর্তনকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে,যা পরিবেশ সংরক্ষণ ও খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
এই আইনের অধীনে জেলা প্রশাসকই প্রধান বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ।ফলে অবৈধ মাটি কাটার ঘটনায় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কোনো কার্যক্রম চললে তাৎক্ষণিক মোবাইল কোর্ট, ফৌজদারি মামলা ও জব্দকরণ আইনগতভাবে বৈধ।একই সঙ্গে জমির মালিক,ইজারাদার ও মাটি উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ঠিকাদার—সকলেই অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত হতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করেন,নিয়মিত নজরদারি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে এই আইন কার্যকর হবে না।ফলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের এ নির্দেশনা মাঠ প্রশাসনের জন্য একটি বাধ্যতামূলক প্রশাসনিক নির্দেশ হিসেবেই বিবেচিত হবে।
কর্তৃপক্ষের মতে,কৃষি জমির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং অবৈধ মাটি কাটা ও ভরাট কার্যক্রম বন্ধে মাঠ প্রশাসনের সক্রিয়,কঠোর ও নিয়মিত ভূমিকা অপরিহার্য।


















