প্রতিনিধি ৭ জানুয়ারি ২০২৬ , ২:২৫:৫২ প্রিন্ট সংস্করণ
কেশবপুর(যশোর)প্রতিনিধি।।যশোরের কেশবপুর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের তিথি সাহা (১৯) স্বপ্নের পথে এগোচ্ছেন—তবে পরিবারে আর্থিক সংকট তাঁর মেডিকেল ভর্তি প্রক্রিয়াকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

বাবা কালিদাস সাহা একটি কোম্পানির জুস,মসলা ও জেলিসহ বিভিন্ন পণ্য ভ্যানে করে ডেলিভারি দেন।মা মাধবী সাহা অবসরে ঠোঙা ও পাঁপড় বানিয়ে বিক্রি করেন।চার সদস্যের এই পরিবারটি ছোট্ট টিন-ইটের ছাপরাঘরে বাস করছে।ঘরের কাঠের বেড়াগুলো ক্ষয়প্রাপ্ত,তাই পরিবারকে বেশিরভাগ সময় বারান্দায় থাকতে হয়।
তিথি সাহা নীলফামারী মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।কিন্তু ভর্তি ও পড়াশোনার খরচ জোগাড় করতে পারছে না পরিবার।মা মাধবী সাহা জানান,“তিথিকে বড় করতে অনেক কষ্ট করেছি।খেয়ে না-খেয়েও দিন চলে গেছে।কিন্তু এখন তার ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি।”
তিথি ছোটবেলা থেকেই মেধাবী।তিনি পঞ্চম শ্রেণি থেকে বৃত্তি পেয়ে আসছেন।কেশবপুর সরকারি পাইলট উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ এবং কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।
তিনি মেডিকেল ভর্তি কোচিংয়ে বিনামূল্যে সহায়তা পেয়েছেন শিক্ষকদের কাছ থেকে।শহীদ ফ্লাইট লেফটন্যান্ট মাসুদ মেমোরিয়াল কলেজের সহকারী অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র দেবনাথ বলেন,“তিথি অত্যন্ত মেধাবী।তার নিজের চেষ্টায় এ পর্যন্ত এসেছে।”
কেশবপুর পাইলট সরকারি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু তালেব জানান,“তিথি খুবই বিনয়ী।লেখাপড়ায় একাগ্রতার জন্যই সে এই সাফল্য অর্জন করেছে।সহযোগিতা পেলে সে জীবনে অনেক বড় হতে পারবে।”
পরিবারের আর্থিক সহায়তা ও স্থানীয় well-wisherদের সমর্থন ছাড়া তিথি সাহার স্বপ্ন পূরণ কঠিন হয়ে উঠেছে। আগামী ১০-১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রম চলবে।










