সম্পাদকীয়

সুরভী মামলা: আইনের শাসন কি প্রভাবের কাছে হার মানবে?

  প্রতিনিধি ৬ জানুয়ারি ২০২৬ , ১২:৪৩:৫৫ প্রিন্ট সংস্করণ

সুরভী মামলা: আইনের শাসন কি প্রভাবের কাছে হার মানবে?

মাজহারুল ইসলাম।।ধর্ষণচেষ্টা—আইনের চোখে এটি একটি গুরুতর ও অমার্জনীয় অপরাধ।অথচ গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সুরভী নামের এক তরুণীর অভিযোগ ঘিরে যে চিত্র সামনে আসছে,তা আমাদের বিচারব্যবস্থা,আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী এবং ক্ষমতাকাঠামোর নিরপেক্ষতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলছে।

একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে—এটি কোনো সাধারণ বিষয় নয়।কারণ সাংবাদিকতা পেশাটি ন্যায়,নৈতিকতা ও জনস্বার্থের প্রতীক।সেই পেশার পরিচয় ব্যবহার করে যদি কোনো নারীকে ইন্টারভিউয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নির্জন স্থানে নেওয়ার অভিযোগ সত্য হয়,তবে তা শুধু একটি ফৌজদারি অপরাধ নয়; এটি পুরো পেশার বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর আঘাত।

আরও উদ্বেগজনক হলো,মামলা দায়েরের পরও অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার না করা,দ্রুত আগাম জামিন পাওয়া এবং ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী পুলিশি হয়রানি।ধর্ষণ বা ধর্ষণচেষ্টার মামলায় রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব হওয়া উচিত ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরপেক্ষ তদন্ত। সেখানে যদি তদন্ত কর্মকর্তা নিজেই ঘুষ দাবির অভিযোগে অভিযুক্ত হন,তবে প্রশ্ন উঠবেই—এই তদন্ত কতটা বিশ্বাসযোগ্য?

আইনের শাসনের মূলনীতি হলো—আইন সবার জন্য সমান। পেশা,পরিচয় বা রাজনৈতিক–প্রশাসনিক প্রভাবের কারণে কেউ বিশেষ সুবিধা পাবে—এমন ধারণাই রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করে।আগাম জামিন আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বিষয় হলেও,তদন্তে প্রভাব,হুমকি বা মিডিয়া ট্রায়ালের অভিযোগ থাকলে রাষ্ট্রপক্ষের দায়িত্ব জামিন বাতিলের পথ খোলা রাখা।

এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে—ক্ষমতাবান উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি কেবল নীরব দর্শক হয়ে থাকবেন,নাকি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দৃশ্যমান ভূমিকা রাখবেন?বিচার বিভাগ স্বাধীন—এতে সন্দেহ নেই।তবে নির্বাহী বিভাগের দায়িত্ব হলো,তদন্ত যেন প্রভাবমুক্ত ও স্বচ্ছ হয়, তা নিশ্চিত করা।অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত,মামলার তদন্ত অন্য ইউনিটে হস্তান্তর এবং ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা—এগুলো কোনো দয়া নয়, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়।

সুরভী মামলা এখন আর শুধু একটি ব্যক্তিগত অভিযোগ নয়; এটি একটি পরীক্ষাকাঠি।এই মামলায় যদি ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়,তবে বার্তা যাবে—প্রভাবশালী হলেও কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।আর যদি প্রভাবের কাছে আইন হার মানে,তবে সেটি হবে রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য এক ভয়ংকর নজির।

এই মুহূর্তে দেশবাসী তাকিয়ে আছে—আইন কি তার নিজস্ব শক্তিতেই দাঁড়াবে,নাকি পরিচয় ও প্রভাব আবারও ন্যায়বিচারকে আড়াল করে দেবে?

আরও খবর

Sponsered content