প্রতিনিধি ৪ জানুয়ারি ২০২৬ , ১:৩৫:২৯ প্রিন্ট সংস্করণ
মাজহারুল ইসলাম।।যে দেশে পুলিশ হত্যা ও লাশ পোড়ানোর মতো জঘন্য অপরাধের স্বীকারোক্ত আসামি গভীর রাতে বিশেষ আদালতে হাজির হয়ে জামিন পায়,আর একই দেশে অভিযোগহীন,অপরাধ প্রমাণহীন একজন ব্যারিস্টার মাসের পর মাস কারাগারে বন্দি থাকে—সে দেশে আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়াই স্বাভাবিক।

হবিগঞ্জের ব্যারিস্টার সুমনের ক্ষেত্রে
না আছে চার্জশিট,না আছে অভিযোগের গ্রহণযোগ্য ভিত্তি,
তবু জামিন নেই।
অন্যদিকে,যারা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে—
পুলিশ হত্যা,থানা পোড়ানো,রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস—
তাদের জন্য রাতের অন্ধকারে আদালত বসে,
জামিন মঞ্জুর হয়।
এটাই কি আইন?
এটাই কি ন্যায়বিচার?
বিশ্বের কোন সভ্য রাষ্ট্রে
খুনের স্বীকারোক্ত আসামি জামিন পায়,
আর নির্দোষ মানুষ বছরের পর বছর বিচার ছাড়াই জেলে পচে?
এই তালিকায় একজন নয়—
হাজারো আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী,
শিক্ষক,সাংবাদিক,মুক্তিযোদ্ধা,বুদ্ধিজীবী—
সবাই একই ধরনের বিচারবহির্ভূত শাস্তির শিকার।
যদি এটাকে ফ্যাসিবাদ বলা না যায়,
তাহলে ফ্যাসিবাদ কাকে বলে?
যদি এটাকে আইন বলা হয়,
তাহলে “আইন” শব্দটাই আজ অপমানিত।
এটা আইন নয়—
👉 এটা অত্যাচার
👉 এটা জুলুম
👉 এটা রাষ্ট্রীয় প্রতিশোধ
আজ বলা নিষিদ্ধ,
লেখা বিপজ্জনক,
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে প্রশ্ন করলেও অপরাধ।
বুকের ব্যথা বুকে না রাখলে—গ্রেপ্তার।
গণমাধ্যম অবরুদ্ধ।
ভিন্নমত মানেই “রাষ্ট্রদ্রোহ”।
সাংবাদিক আনিস আলমগীর—৫ দিনের রিমান্ডে।
এদিকে প্রকাশ্যে বলা হয়—“মেট্রোরেলে আগুন না দিলে,
বিটিভি না পোড়ালে,পুলিশ না মারলে বিপ্লব সফল হতো না।”
এই যদি হয় সংস্কারের ভাষা,এই যদি হয় নতুন বাংলাদেশের ন্যায়বিচার—তাহলে ইতিহাস একদিন প্রশ্ন করবেই।
ফ্যাসিবাদের আসল রূপ একটাই—কলম চুপ,কণ্ঠ স্তব্ধ।
এম মাজহারুল ইসলাম (প্রকাশক-সম্পাদক)
সাংবাদিক,লেখক ও কলামিস্ট











