শিক্ষা

যৌন হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া অ্যাডভাইজারকে বহিস্কারের দাবি

  প্রতিনিধি ৪ জানুয়ারি ২০২৬ , ৮:৩৪:৫৯ প্রিন্ট সংস্করণ

যৌন হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া অ্যাডভাইজারকে বহিস্কারের দাবি

রাজশাহী প্রতিনিধি।।বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া অ্যাডভাইজার ও জার্নালিজম,কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের অ্যাজুটেন ফ্যাকাল্টি জনাব গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি,আর্থিক দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কারের দাবি জানিয়েছেন একদল শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান জনাব হাফিজুর রহমান খানের কাছে দেওয়া লিখিত আবেদনে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন,অভিযুক্ত শিক্ষক প্রশাসনিক ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভয় ও অনিরাপত্তার পরিবেশ তৈরি করে আসছেন। আবেদনের অনুলিপি শিক্ষা মন্ত্রণালয়েও পাঠানো হয়েছে।

ছাত্রীদের যৌন হয়রানির গুরুতর অভিযোগ

আবেদনে বলা হয়,অভিযুক্ত শিক্ষক কয়েকজন ছাত্রীকে তার ব্যক্তিগত মিডিয়া প্রতিষ্ঠান,অনলাইন পোর্টাল ও টেলিভিশনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। অভিযোগ অনুযায়ী,এই প্রলোভনের আড়ালে তিনি একাধিক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির শিকার করেন।ক্ষমতার দাপট ও প্রশাসনিক ঘনিষ্ঠতার কারণে ভুক্তভোগী ছাত্রীরা প্রকাশ্যে অভিযোগ জানাতে ভয় পাচ্ছেন বলে শিক্ষার্থীদের দাবি।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য,যারা তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বা তার প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে এসেছে,তাদের জায়গায় নতুন ছাত্রীদের টার্গেট করা হয়েছে—যা একটি ধারাবাহিক নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরে।

আইনি বিশ্লেষণ: যৌন হয়রানি অপরাধ কি না?

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে এটি বাংলাদেশে একাধিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন—

হাইকোর্ট নির্দেশনা (BNWLA বনাম বাংলাদেশ, ২০০৯):
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী বা কর্মস্থলে নারীকে যৌন হয়রানি দণ্ডনীয় অপরাধ।প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন ও অভিযোগের তদন্ত বাধ্যতামূলক।

দণ্ডবিধি,১৮৬০-এর ধারা ৩৫৪ ও ৫০৯:
নারীর শালীনতা ক্ষুণ্ন করা বা অশ্লীল ইঙ্গিত,প্রস্তাব বা আচরণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। দোষী সাব্যস্ত হলে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বিধিমালা:
শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীদের প্রতি ক্ষমতার অপব্যবহার ও যৌন হয়রানি প্রমাণিত হলে তা গুরুতর অসদাচরণ (Gross Misconduct) হিসেবে গণ্য হয় এবং চাকরিচ্যুতির বিধান রয়েছে।

আইনজ্ঞদের মতে,এই ধরনের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হচ্ছে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা,যাতে ভুক্তভোগীরা নিরাপদে সাক্ষ্য দিতে পারেন।

ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রশাসনিক প্রভাব

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন,উপাচার্যের ঘনিষ্ঠতার কথা বলে অভিযুক্ত শিক্ষক ক্যাম্পাসে এক ধরনের ‘ত্রাসের পরিবেশ’ তৈরি করেছেন।কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার,ক্যান্টিনে নিয়ম ভেঙে ধূমপান,নির্ধারিত সময়ের পর ক্যান্টিন খোলা রাখাসহ একাধিক ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ

ডকুমেন্টারি ও প্রোমোশনাল ভিডিও নির্মাণে অতিরিক্ত বাজেট দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তোলা হয়েছে।শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের বিনিময়ে সামান্য আপ্যায়ন দেখিয়ে বড় অঙ্কের বিল উত্তোলনের অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি ও প্রত্যাশা

শিক্ষার্থীরা জানান,বর্তমান উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি উন্নয়নের যে উদ্যোগ চলছে,অভিযুক্ত শিক্ষকের কর্মকাণ্ড তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাকে দ্রুত সব দায়িত্ব থেকে অপসারণের জোর দাবি জানানো হয়েছে।

প্রশাসনের বক্তব্য

এ বিষয়ে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও অভিযুক্ত জনাব গোলাম রাব্বানীর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও খবর

Sponsered content