প্রতিনিধি ১ জানুয়ারি ২০২৬ , ১১:৫৭:১২ প্রিন্ট সংস্করণ
মাজহারুল ইসলাম।।খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ সালে পারসিক সম্রাট ক্যাম্বাইসিস দ্বিতীয়ের সময়ে সিসামনেস নামে একজন রাজকীয় বিচারক ছিলেন।তিনি ঘুষের বিনিময়ে অন্যায্য রায় প্রদান করতেন।তার অপরাধ প্রমাণিত হলে রাজা তাকে গ্রেফতার করে,এমনকি তার দেহের ত্বক জীবিত অবস্থায় তুলে নেওয়ার আদেশ দেন।

পরবর্তী প্রধান বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে সিসামনেস নিজ পুত্র ওতানেসের নাম প্রস্তাব করেন।রাজা তার সুপারিশ মেনে ওতানেসকে প্রধান বিচারক নিয়োগ দেন।ওতানেস তার দায়িত্বে দীর্ঘদিন সততার সাথে নিযুক্ত থাকেন,প্রতিনিয়ত স্মরণ রাখতেন যে তিনি সেই আসনে বসেছেন যেখানে তার পিতার অন্যায় চামড়া ব্যবহার করা হয়েছে।এই গল্প ন্যায়ের মহিমা এবং ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধের চমৎকার উদাহরণ।
ইসলামের ইতিহাসেও অনুরূপ শিক্ষণীয় ঘটনা আছে।হজরত উমর (রা:) এর শাসনামলে কাজী শুরায়হের আদালতে এক ব্যক্তি তাঁর সাওয়ারীর ক্ষতির জন্য বিচার প্রার্থনা করেছিলেন। রায় হজরত উমরের বিপরীতে গিয়েছিল,কিন্তু উমর বিন্দুমাত্র কুণ্ঠিত হননি।বরং বাদীর দাবী অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদান করেছেন। এই সাহসিক এবং ন্যায়পরায়ণ আচরণের জন্য কাজী স্থায়ীভাবে কুফার বিচারপতির আসনে অধিষ্ঠিত হন এবং ৭৫ বছর সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
অন্য একটি উদাহরণ,হজরত আলী (রা:) এবং এক ইয়াহুদির মধ্যে লৌহবর্মের বিবাদ।হজরত আলী (রা:) তাঁর পুত্র ও ক্রীতদাসকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করলে কাজী স্পষ্টভাবে জানালেন যে,পিতার পক্ষে পুত্রের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়।বিচার আইনের ভিত্তিতে রায় ইয়াহুদি পক্ষের হলো।সেই ন্যায়পরায়ণ বিচার দেখে ইয়াহুদি ইসলাম গ্রহণ করেন।
এখান থেকে শিক্ষা নেওয়া যায় যে,আল্লাহর ভয় যারা অন্তরে ধারণ করেন,তারা কোনো যাজক,শক্তিধর শাসক বা উচ্চপদস্থ ব্যক্তির ভয়ে ন্যায় বিচারে বিকৃতি ঘটান না।
প্রার্থনা: হোক সকল বিচারক ন্যায়ের পথে অটল এবং অবিচল।আল্লাহ তাআলা আমাদের অন্তরে ন্যায়বোধ এবং সাহস দান করুন।আমিন।

















