রাজনীতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের সম্পদ ও আয়ের অনুসন্ধানী রিপোর্ট

  প্রতিনিধি ১ জানুয়ারি ২০২৬ , ৩:১৩:৪৩ প্রিন্ট সংস্করণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের সম্পদ ও আয়ের অনুসন্ধানী রিপোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীরা দাখিল করেছেন হলফনামা।গণমাধ্যম ও অনুসন্ধান অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে—কোটি কোটি টাকার সম্পদ,লাখ লাখ টাকার বার্ষিক আয়।কিন্তু আয়ের উৎস ও কর নথি নেই।অনেক প্রার্থীর স্বর্ণালংকারের মূল্য লাখ লাখ টাকা,যা প্রমাণ ছাড়া রাখার মাধ্যমে কর ফাঁকি সম্ভব।

স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ,নগদ,ব্যাংক ব্যালেন্স ও স্বর্ণের তথ্য একত্র করে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়-আইনি,রাজনৈতিক,সামাজিক,অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

১. হান্নান মাসউদ

পেশা: ব্যবসা
বার্ষিক আয়: ৬,০০,০০০ টাকা
স্থাবর সম্পদ: ৫০ লাখ টাকা
অস্থাবর সম্পদ: ৪৮ লাখ টাকা
নগদ/ব্যাংক: ১০ লাখ টাকা
স্বর্ণালংকার: নেই
মোট সম্পদ: ৯৮ লাখ টাকা
ধার্যকৃত কর (আনুমানিক): ৬০,০০০–৭০,০০০ টাকা
বিশেষ পর্যবেক্ষণ: বাবার তুলনায় ১৮ গুণ বেশি সম্পদ; আয়ের উৎস অস্বচ্ছ, কর নথি নেই।

২. তারেক রহমান

পেশা: –
বার্ষিক আয়: ৬,৭৫,০০০ টাকা
স্থাবর সম্পদ: ২০ লাখ টাকা
অস্থাবর সম্পদ: ১৫ লাখ টাকা
নগদ/ব্যাংক: ৫ লাখ টাকা
স্বর্ণালংকার: নেই
মোট সম্পদ: ৪০ লাখ টাকা
ধার্যকৃত কর (আনুমানিক): ৬৭,৫০০ টাকা
বিশেষ পর্যবেক্ষণ: আয়ের উৎস অস্বচ্ছ, কর নথি নেই।

৩. নাহিদ ইসলাম

পেশা: শিক্ষকতা ও পরামর্শ
বার্ষিক আয়: ১৬,০০,০০০ টাকা
স্থাবর সম্পদ: নেই
অস্থাবর সম্পদ: ১০ লাখ টাকা
নগদ/ব্যাংক: ৩ লাখ টাকা
স্বর্ণালংকার: নেই
মোট সম্পদ: ১৩ লাখ টাকা
ধার্যকৃত কর (আনুমানিক): ১,৬০,০০০ টাকা
বিশেষ পর্যবেক্ষণ: কোন বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠান উল্লেখ নেই; কর নথি নেই।

৪. মির্জা ফখরুল

পেশা: –
বার্ষিক আয়: ১১,০০,০০০ টাকা
স্থাবর সম্পদ: ২.৫ কোটি টাকা
অস্থাবর সম্পদ: ১.৫ কোটি টাকা
নগদ/ব্যাংক: ২০ লাখ টাকা
স্বর্ণালংকার: নেই
মোট সম্পদ: ৪ কোটি টাকা
ধার্যকৃত কর (আনুমানিক): ১,১০,০০০ টাকা
বিশেষ পর্যবেক্ষণ: সম্পদ বৃদ্ধির উৎস অস্বচ্ছ; কর নথি নেই।

৫. নুরুল হক নুর

পেশা: ব্যবসা
বার্ষিক আয়: ২০,০০,০০০ টাকা
স্থাবর সম্পদ: ৫০ লাখ টাকা
অস্থাবর সম্পদ: ৪০ লাখ টাকা
নগদ/ব্যাংক: ১৫ লাখ টাকা
স্বর্ণালংকার: নেই
মোট সম্পদ: ৯০ লাখ টাকা
ধার্যকৃত কর (আনুমানিক): ২,০০,০০০ টাকা
বিশেষ পর্যবেক্ষণ: ব্যবসার লাইসেন্স/ভ্যাট নথি অনুপস্থিত।

৬. হাসনাত আবদুল্লাহ

পেশা: ব্যবসা
বার্ষিক আয়: ১২,৫৩,৫৩৯ টাকা
স্থাবর সম্পদ: ৩০ লাখ টাকা
অস্থাবর সম্পদ: ২০ লাখ টাকা
নগদ/ব্যাংক: ৫ লাখ টাকা
স্বর্ণালংকার: নেই
মোট সম্পদ: ৫০ লাখ টাকা
ধার্যকৃত কর (আনুমানিক): ১,২৫,০০০ টাকা
বিশেষ পর্যবেক্ষণ: আয়ের বৈধতা প্রমাণ নেই।

৭. সারজিস আলম

পেশা: –
বার্ষিক আয়: ৯,০০,০০০ টাকা
স্থাবর সম্পদ: ২০ লাখ টাকা
অস্থাবর সম্পদ: ১৪ লাখ টাকা
নগদ/ব্যাংক: ৩,১১,০০০ টাকা
স্বর্ণালংকার: নেই
মোট সম্পদ: ৩৪ লাখ টাকা
ধার্যকৃত কর (আনুমানিক): ৯০,০০০ টাকা
বিশেষ পর্যবেক্ষণ: আয়ের উৎস বৈধতা প্রমাণিত নয়।

৮. নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

পেশা: –
বার্ষিক আয়: ১০,০০,০০০ টাকা
স্থাবর সম্পদ: ১০ লাখ টাকা
অস্থাবর সম্পদ: নেই
নগদ/ব্যাংক: ২৫ লাখ টাকা
স্বর্ণালংকার: ২২ লাখ টাকা
মোট সম্পদ: ৫৭ লাখ টাকা
ধার্যকৃত কর (আনুমানিক): ১,০০,০০০+ টাকা
বিশেষ পর্যবেক্ষণ: স্বর্ণ ও নগদে লাখ লাখ টাকার কর ফাঁকি সম্ভব; স্ত্রীর সম্পদ তার চেয়ে বেশি।

৯. সালাহউদ্দিন আহমদ

পেশা: –
বার্ষিক আয়: ৬ কোটি টাকা
স্থাবর সম্পদ: ২ কোটি টাকা
অস্থাবর সম্পদ: ৪ কোটি টাকা
নগদ/ব্যাংক: ৫০ লাখ টাকা
স্বর্ণালংকার: ১২ ভরি (~৩০ লাখ টাকা)
মোট সম্পদ: ৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা
ধার্যকৃত কর (আনুমানিক): ১,২০,০০,০০০+ টাকা
বিশেষ পর্যবেক্ষণ: স্বর্ণসহ সম্পদ; কর নথি নেই; লাখ লাখ টাকার কর ফাঁকি সম্ভব।

১০. ডা. তাহের

পেশা: –
বার্ষিক আয়: –
স্থাবর সম্পদ: ১ কোটি টাকা
অস্থাবর সম্পদ: ৮৫ লাখ টাকা
নগদ/ব্যাংক: ২৫ লাখ টাকা
স্বর্ণালংকার: নেই
মোট সম্পদ: ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা
ধার্যকৃত কর (আনুমানিক): –
বিশেষ পর্যবেক্ষণ: স্ত্রীর সম্পদ তার চেয়ে ৫ গুণ বেশি; কর নথি অনুপস্থিত।

১১. আখতার

পেশা: –
বার্ষিক আয়: –
স্থাবর সম্পদ: –
অস্থাবর সম্পদ: –
নগদ/ব্যাংক: ১৩ লাখ টাকা
স্বর্ণালংকার: নেই
মোট সম্পদ: ১৩ লাখ টাকা
ধার্যকৃত কর (আনুমানিক): –
বিশেষ পর্যবেক্ষণ: গাড়ি-বাড়ি নেই; ব্যাংকিং ট্রেইল অনুপস্থিত।

১২. আমির হামজা

পেশা: –
বার্ষিক আয়: –
স্থাবর সম্পদ: –
অস্থাবর সম্পদ: –
নগদ/ব্যাংক: –
স্বর্ণালংকার: নেই
মোট সম্পদ: –
ধার্যকৃত কর (আনুমানিক): –
বিশেষ পর্যবেক্ষণ: পারিবারিক খরচ আকিজ গ্রুপ বহন করে; করপোরেট সহায়তার বৈধতা অনিশ্চিত।

আইনি বিশ্লেষণ

ইসি’র বিধি অনুযায়ী প্রার্থীর আয়ের উৎস যাচাই বাধ্যতামূলক।

আয়কর রিটার্ন,ব্যাংক স্টেটমেন্ট,স্বর্ণালংকার ও সম্পদের বৈধ দলিল জমা দিতে হবে।

মিথ্যা বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে প্রার্থিতা বাতিলযোগ্য।

বাস্তবে প্রার্থীর বেশিরভাগই কর নথি জমা করেননি, যা আইনি শৃঙ্খলা ভঙ্গ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

অপ্রমাণিত অর্থ → রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার সহজ।

সংসদে প্রবেশ করলে নীতি নির্ধারণে সাধারণ জনগণের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হতে পারে।

সামাজিক প্রভাব

সাধারণ করদাতাদের সঙ্গে বৈষম্য।

কোটি টাকার সম্পদ দেখিয়ে কর না দেওয়ার ফলে জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত।

অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ঝুঁকি

অপ্রদর্শিত সম্পদ → ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অস্পষ্টতা,দুর্নীতি ও অর্থপাচার উৎস।

স্বর্ণসহ অপ্রমাণিত সম্পদ → রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি।

বিদেশি লবি বা কর্পোরেট চাপের মাধ্যমে নীতি প্রভাবিত হতে পারে।

উপসংহার

প্রার্থীদের নগদ,ব্যাংক,স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ও স্বর্ণালংকার প্রকাশিত হলেও আয়ের বৈধতা ও কর প্রমাণ নেই।

স্বর্ণের মূল্য অন্তর্ভুক্ত করলে দেখা যায়—লাখ লাখ টাকার কর ফাঁকি হতে পারে।

যদি হলফনামা যাচাইবিহীনভাবে বৈধ হয়,আইন,অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংকটে পড়ে।

প্রশ্ন রয়ে গেল: আইন কি সাধারণ মানুষের জন্য সমান, নাকি প্রার্থীদের জন্য আলাদা?

✍️ তথ্যসূত্র: Samakal, Channel24, Ekattor, Durbin News, BVNews24, Prothom Alo, Ittefaq, Dhaka Post, প্রকাশিত হলফনামা।

আরও খবর

Sponsered content