সম্পাদকীয়

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন: ইতিহাসের ন্যায়বিচার

  প্রতিনিধি ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৪:২৯:১২ প্রিন্ট সংস্করণ

মাজহারুল ইসলাম।।রাজনীতি কেবল ক্ষমতার হিসাব নয়—রাজনীতি স্মৃতি রাখে,অপেক্ষা জানে এবং সময় এলে তার দেনা শোধ করে। ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ সেই শোধের একটি দিন।

দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমান ছিলেন দেশের বাইরে—স্বেচ্ছা নির্বাসনে নয়,বরং এক জটিল রাজনৈতিক বাস্তবতায়। তার অনুপস্থিতি শুধু একটি ব্যক্তির অনুপস্থিতি ছিল না; এটি ছিল একটি বড় রাজনৈতিক শক্তিকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে রাখার প্রয়াস।মামলা,অপপ্রচার,চরিত্রহনন—সব মিলিয়ে এক দীর্ঘ অধ্যায়।

আজ তারেক রহমানের দেশে ফেরা সেই অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়,বরং একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।এই প্রত্যাবর্তন প্রমাণ করে—রাজনীতিতে চূড়ান্ত পরাজয় বলে কিছু নেই,যদি জনগণের বিশ্বাস অটুট থাকে।

এই দেশে বহুবার গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে,মত প্রকাশ রুদ্ধ হয়েছে,বিরোধী রাজনীতি দমন করা হয়েছে।সেই বাস্তবতায় তারেক রহমানের ফিরে আসা গণতান্ত্রিক পরিসর পুনরুদ্ধারের একটি প্রতীক হয়ে উঠেছে।

রাজকীয়তা এখানে কোনো রাষ্ট্রীয় আয়োজন নয়।রাজকীয়তা মানুষের আবেগে,দীর্ঘ অপেক্ষার ভারে এবং ইতিহাসের নীরব সম্মতিতে।রাষ্ট্র,সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব এখন এই প্রত্যাবর্তনকে রাজনৈতিক সহনশীলতা ও আইনের শাসনের পরীক্ষায় রূপ না দেওয়া।

ইতিহাস আজ কলম ধরেছে—দেখা যাক, আমরা কোন পৃষ্ঠায় কী লিখি।

📊 রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

তারেক রহমানের আগমন: রাজনীতির ভারসাম্যে কী বদলাবে

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে কয়েকটি মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে—

প্রথমত,বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি নতুনভাবে সক্রিয় হবে। দীর্ঘদিন দলটি নেতৃত্বের শারীরিক অনুপস্থিতিতে যে স্থবিরতা অনুভব করছিল,তা কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, ক্ষমতা–বিরোধী রাজনীতিতে নতুন গতি আসবে। তারেক রহমান কেবল একটি দলের নেতা নন,তিনি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক ব্লকের প্রতীক।

তৃতীয়ত, সরকারের জন্য এটি একটি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনীতিকে সহনশীলতার সঙ্গে মোকাবিলা করা হবে, নাকি পুরোনো দমননীতির পুনরাবৃত্তি ঘটবে—এই প্রশ্ন এখন সামনে।

চতুর্থত, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বার্তা যাবে—বাংলাদেশে নির্বাসিত রাজনীতির অধ্যায় শেষ হচ্ছে কি না,তা পর্যবেক্ষণের বিষয়।

সব মিলিয়ে,তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন কোনো একক ঘটনা নয়; এটি ক্ষমতার ভারসাম্য, রাজনৈতিক ভাষা এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

🔚 শেষ কথা

২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ কেবল একটি তারিখ নয়—
এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সময়রেখায় একটি টার্নিং পয়েন্ট।

Paper

Newspapers headlines

আরও খবর

Sponsered content