রাজনীতি

তারেক জিয়ার বক্তব্য,নীরবতা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: আইন,সংবিধান ও ভবিষ্যৎ শাসন নিয়ে প্রশ্ন

  প্রতিনিধি ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ , ২:৪৩:৫৩ প্রিন্ট সংস্করণ

তারেক জিয়ার বক্তব্য,নীরবতা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: আইন,সংবিধান ও ভবিষ্যৎ শাসন নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক।।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যে হাদী নামের এক ব্যক্তির প্রসঙ্গ উঠে এলেও আলোচিত দীপুর মৃত্যু, ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার ১৫ মাসের কার্যক্রম কিংবা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক-সামাজিক সহিংসতা নিয়ে কোনো মন্তব্য না করায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে,এই নীরবতা তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল ও শাসনদর্শন সম্পর্কে ইঙ্গিত বহন করে।

দীপুর মৃত্যু ও রাষ্ট্রীয় দায় নিয়ে নীরবতা

সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত দীপুর মৃত্যুর ঘটনায় সরকার ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নাগরিক মহলে প্রশ্ন উঠলেও এ বিষয়ে তারেক রহমান কোনো বক্তব্য দেননি।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন,সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২ অনুযায়ী নাগরিকের জীবন রক্ষার দায় রাষ্ট্রের।এ ধরনের ঘটনায় প্রধান রাজনৈতিক নেতাদের অবস্থান জনআস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

১৫ মাসের অন্তর্বর্তী শাসন: সাংবিধানিক প্রশ্ন

ড. ইউনুসের নেতৃত্বে বর্তমান ব্যবস্থায় পূর্ণাঙ্গ সংসদ ও নির্বাচিত সরকার না থাকায় নির্বাহী ক্ষমতার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে আলোচনা চলছে।

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৫ ও ৫৬ অনুযায়ী নির্বাহী বিভাগ সংসদের প্রতি জবাবদিহি করতে বাধ্য।তবে এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য আসেনি।

নির্বাচন প্রসঙ্গ: ১৯৯৬ ও ২০২৬-এর তুলনা

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির একতরফা নির্বাচনের সঙ্গে ২০২৬ সালের সম্ভাব্য নির্বাচন পরিস্থিতির তুলনা করছেন।
Representation of the People Order (RPO) অনুযায়ী অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন না হলে নির্বাচন ও সরকার—উভয়ের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি ইতোমধ্যে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

তারেক রহমানের অতীত মামলাসমূহ ও আইনি অবস্থান

তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অতীতে দুর্নীতি,অর্থপাচারসহ একাধিক মামলা হয়েছে,যা বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছে।

আইন অনুযায়ী,সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৬ সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ করে এবং দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা আরোপ করে।

তবে বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে,এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণ

মার্কিন বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।

অন্যদিকে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট তাকে বাংলাদেশের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের একজন হিসেবে তুলে ধরেছে।

সংখ্যালঘু অধিকার ও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা

সংবিধানের

অনুচ্ছেদ ২৭ (আইনের দৃষ্টিতে সমতা),

অনুচ্ছেদ ২৮ (বৈষম্য নিষিদ্ধ)

অনুচ্ছেদ ৪১ (ধর্মীয় স্বাধীনতা)

অনুযায়ী সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অধিকার রাষ্ট্রের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব।

সম্প্রতি শেখ হাসিনা ভারতের একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন, যা আন্তর্জাতিক পরিসরে আলোচনার জন্ম দেয়।

পাকিস্তান অভিজ্ঞতা ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

বিশ্লেষকরা মনে করছেন,পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাস—বারবার সরকার পরিবর্তন,প্রধানমন্ত্রীর গ্রেপ্তার, নির্বাসন—বাংলাদেশের জন্য সতর্কবার্তা হতে পারে।

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭, ৭ক ও ৭খ রাষ্ট্রক্ষমতা দখল ও সংবিধানবিরোধী কার্যক্রমকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

তারেক রহমানের বক্তব্য ও নীরবতা—দু’টিই বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দেশ যখন নির্বাচন,সাংবিধানিক বৈধতা ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের সন্ধিক্ষণে,তখন প্রধান রাজনৈতিক নেতৃত্বের স্পষ্ট অবস্থানই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যৎ পথরেখা—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক ও আইনি বিশ্লেষকেরা।

আরও খবর

Sponsered content