প্রতিনিধি ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১:১১:২৬ প্রিন্ট সংস্করণ
মেহেন্দিগঞ্জ(বরিশাল)প্রতিনিধি।।বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও নদীভাঙন রোধে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ (ওয়াপদা বেড়ীবাঁধ) নির্মাণ প্রকল্প দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের জন্য প্রধান উপদেষ্টার সুদৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এলাকাবাসীর মতে,প্রস্তাবিত এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,বসতবাড়ি ও যোগাযোগব্যবস্থা রক্ষা পাবে এবং টেকসই উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
প্রস্তাবিত প্রকল্প অনুযায়ী,বরিশাল–ভোলা মহাসড়কের শাখা সড়ক শ্রীপুর মহিষা ওহেদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে হাওলাদার বাড়ির সামনের ডাক্তারনী খালের ব্রিজ (কালাবদর নদী পর্যন্ত) থেকে বাহের চর কাঠেরপোল (শান্তিনগর) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কলোনীর (মুজিববর্ষের ঘর) পাশ দিয়ে ইউনুস কাজীর বাড়ির সামনে মসজিদের পাশে একটি ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।একইসঙ্গে খোরশেদ বয়াতির বাড়ির সামনে ১৫০১ দাগে পানি নিষ্কাশনের জন্য দুটি কালভার্ট নির্মাণ করে ভোলা–বরিশাল মহাসড়কের ভেদুরিয়া (বিশ্বরোড) ফেরিঘাট পর্যন্ত ওয়াপদা বেড়ীবাঁধ নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়াও,ইউনুস কাজীর বাড়ির পাশ থেকে উত্তরে হানিফ খন্দকারের বাড়ি,শাজাহান বেপারীর বাড়ি (১৫০১ দাগ), তৈয়ব আলী চৌকিদারের বাড়ির পশ্চিম থেকে দক্ষিণে ভোলা–বরিশাল মহাসড়কের মহিষমারী ৩ নম্বর ব্রিজ হয়ে দক্ষিণ–পশ্চিমে লতিফ জোমাদ্দারের বাড়ির পাশ দিয়ে আজিজ মিয়ার বাড়ি,শহীদ চৌকিদারের বাড়ির পাশ হয়ে ওহিদ সর্দারের বাড়ির পশ্চিম দিক দিয়ে শ্রীপুর মহিষা ওহেদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশ ঘেঁষে হাওলাদার বাড়ির সামনে,সাবেক মেম্বার মাহমুদুল হাসান বেপারীর উত্তর পাশ দিয়ে আনিস জোমাদ্দারের দোকান থেকে দক্ষিণে হারুন কাজীর বাড়ির সামনে মসজিদ পর্যন্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ,প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে নদীর জোয়ার-ভাটার প্রভাবে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়,শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং গ্রামীণ সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।প্রস্তাবিত বাঁধ ও পানি নিষ্কাশন অবকাঠামো নির্মাণ হলে এই দুর্ভোগ অনেকাংশে কমবে বলে তারা আশা করছেন।
এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা প্রধান উপদেষ্টা ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত প্রকল্প অনুমোদন,বাজেট বরাদ্দ এবং বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়,স্থানীয় মেম্বার মোঃ নোমান মোল্লা ও মোঃ হাফেজ খান এবং শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ হারুন অর রশিদ মোল্লা সাবেক সংসদ সদস্য পংকজ নাথের মাধ্যমে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এই প্রকল্পের প্রস্তাব দাখিল করলেও আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে প্রায় ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এর মধ্যে অন্তত ৮ শতাধিক হতদরিদ্র পরিবার অতিবৃষ্টির সময় গৃহবন্দি হয়ে দিনের পর দিন অনাহারে-অর্ধাহারে জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ,ঝড়-তুফানে ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেলে অনেক পরিবার মাচা পেতে কোনোমতে দিন কাটালেও চুলায় আগুন জ্বলে না।কাজ হারিয়ে অসংখ্য মানুষ বেকার হয়ে পড়ে,ভেঙে পড়ে পুরো এলাকার জীবনযাত্রা ও অর্থনীতি।
বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব), জেলা প্রশাসকসহ উপজেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা ২০২০ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে অন্তত তিন থেকে চারবার এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।নদীভাঙন রোধে প্রায় ৬০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন পেলেও দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় জনমনে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
এমতাবস্থায় ভুক্তভোগী এলাকাবাসী শ্রীপুরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ (ওয়াপদা বেড়ীবাঁধ) নির্মাণ প্রকল্পটি মানবিক ও জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।তাদের দাবি,প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু শ্রীপুর ইউনিয়ন নয়,বরং মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা, শিক্ষা ও কৃষি নিরাপদ হবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা,প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা ও টেন্ডার জটিলতা নিরসনে প্রধান উপদেষ্টার সুদৃষ্টি পড়লেই বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকা এই প্রকল্প দ্রুত বাস্তব রূপ পাবে এবং বর্ষাকালের নীরব দুর্যোগ থেকে হাজারো পরিবার স্থায়ী মুক্তি পাবে।













