ব্যবসা ও বাণিজ্য সংবাদ

বিশ্ববাজারে আউন্সপ্রতি সোনার দাম ৩৩ ডলার কমেছে

  প্রতিনিধি ২৪ নভেম্বর ২০২৫ , ৪:৫৯:১৮ প্রিন্ট সংস্করণ

অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।বিশ্ববাজারে সোনার দাম আরও কিছুটা কমেছে।গোল্ড প্রাইস ডট অর্গের তথ্যানুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের সময় আজ সোমবার আউন্সপ্রতি সোনার দাম ৩৩ ডলার কমেছে।বিভিন্ন বৈশ্বিক সংস্থা বলছে,আগামী কিছুদিন সোনার দাম নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ওঠানামা করবে।দাম একেবারে কমে যাবে না,আবার অনেকটা বেড়েও যাবে না।

চলতি বছর সোনার দাম একটানা অনেক দিন বাড়ার পর সম্প্রতি কিছুটা কমেছে।তা সত্ত্বেও সোনার দাম এখন পর্যন্ত আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ডলারের ওপরে।নিউইয়র্কের সময় অনুযায়ী,রোববার রাত ১১টার সময় সোনার দাম ছিল আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৫০ ডলার ৪৩ সেন্ট।

তবে বেশ কিছু কারণে সোনার দাম সীমিত পরিসরের মধ্যে ওঠানামা করবে বলে মনে করছেন বাজার–বিশ্লেষকেরা।তাঁরা বেশ কিছু অর্থনৈতিক সূচকের দিকে তাকিয়ে আছেন। প্রথমত,যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন শাটডাউন থাকার কারণে কী পরিস্থিতি হয়,সেদিকে নজর রাখছেন তাঁরা।দেশটির মূল্যস্ফীতি ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার কী দাঁড়ায়,সেদিকে বিনিয়োগকারীদের তীক্ষ্ণ নজর।সেই সঙ্গে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়,অর্থাৎ ফেডারেল রিজার্ভ নীতি সুদহার হ্রাস-বৃদ্ধি করে কি না, সেদিকেও বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আছে।ডিসেম্বর মাসে ফেডের মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠক।ফলে এই সময়ে মধ্যে,অর্থাৎ আগামী এক মাস সোনার দাম খুব বেশি ওঠানামা করবে না।

ফেডারেল রিজার্ভ নীতি সুদহারের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার জন্য আরও কিছু সূচক গুরুত্বপূর্ণ।সেগুলোর মধ্যে আছে সাপ্তাহিক কর্মসংস্থানের হার,ভোক্তাদের আত্মবিশ্বাস, উৎপাদনবহির্ভূত খাতের পিএমআই।বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ডিসেম্বর মাসে ফেডের নীতি সুদহার ঘোষণার আগে সোনার দাম স্থিতিশীল থাকবে।

সোনার দাম হ্রাস-বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আরেকটি যে বিষয় গুরুত্বপূর্ণ তা হলো,ডলারের বিনিময় হার।সোনার দাম আপাতত স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা বেশি হলেও একটি কারণে দাম হঠাৎ কমে যেতে পারে। সেটা হলো,ডলারের বিনিময় হার বেড়ে যাওয়া।দ্য অ্যালয় মার্কেটের প্রধান নির্বাহী ব্র্যান্ডন অ্যাভেরসানো বলেন,সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো মার্কিন ডলারের আবার শক্তিশালী হয়ে ওঠা।এতে সোনার চাহিদা কমে যেতে পারে।বিনিয়োগকারীরা তখন মার্কিন ডলারভিত্তিক বন্ডের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারেন। সেটা হলে সোনার দাম আবার কমে যেতে পারে।খবর ইনভেস্টোপিডিয়ার

এ বছর সোনার দাম ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।ইতিহাসে এই প্রথম আউন্সপ্রতি দাম ৪ হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে। অ্যাভেরসানোর মতে,অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণেই মূলত সোনার দামের এই উল্লম্ফন।পাশাপাশি মার্কিন ডলারের বিনিময় হার নিয়ে উদ্বেগ এবং অন্যান্য মুদ্রার দুর্বলতার কারণেও সোনার এই দাম বৃদ্ধি বলে তিনি মনে করেন।বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশের সরকার—সবাই মনে করে, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়লে অন্তত সোনার দাম অক্ষুণ্ন থাকবে।উদাহরণ হিসেবে ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের কথা বলা যায়,যখন প্রায় সব সম্পদের দাম কমলেও (সরকারি বন্ড ছাড়া) সোনার দাম বরং ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছিল।

সোনার বাড়তি চাহিদাও দাম বাড়ার আরেকটি বড় কারণ। অ্যাভেরসানো বলেন,রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার সময়ে শুধু সাধারণ মানুষই নিশ্চিত সম্পদ হিসেবে সোনা কেনে না,কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও একই কাজ করে।তিনি উল্লেখ করেন,বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন রেকর্ড পরিমাণ সোনা কিনছে।উদাহরণ হিসেবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি কয়েক বছরে নজিরবিহীন পরিমাণে সোনা কিনেছে।ফলে বাজারে সোনার সরবরাহ কমে যাচ্ছে। সে কারণে দাম বেড়ে যাচ্ছে।

বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়লে দেশের বাজারে বাড়ানো হয়। আবার বিশ্ববাজারে দাম কমলে দেশের বাজারে কমানো হয়।

আরও খবর

Sponsered content