প্রতিনিধি ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ , ৬:৪০:৩৯ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন,যে প্রত্যাশায় আমাদের দেশের ছাত্র-জনতা জুলাই-আগস্ট মাসে এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুন পরিবর্তনের কেতন উড়িয়েছে,তার লক্ষ্য ছিল দেশের সকল স্তরে সামাজিক সাম্য,ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা।একটি ন্যায়ভিত্তিক শোষণ মুক্ত সমাজ গঠন এবং সমাজের সর্বস্তরে সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আইনের শাসনের কোনো বিকল্প নেই।

রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে বিচারপতিকে দেয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন,আমাদের সংবিধানেও আইনের চোখে সমতা,ন্যায়বিচারের অধিকার ও আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারের কথা বার বার উচ্চারিত হয়েছে।আর এই সাংবিধানিক চেতনার সফল বাস্তবায়ন করবেন আপনারা, বিজ্ঞ আইনজীবীরা।
রেফাত আহমেদ বলেন,একজন বিচারপ্রার্থী ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা নিয়ে প্রথমেই একজন আইনজীবীর দ্বারস্থ হন। পরম নির্ভরতায় বিজ্ঞ আইনজীবীদের ওপর তার সম্পদ ও স্বাধীনতা রক্ষার ভার অর্পণ করেন।বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের মধ্যে নির্ভরতার সম্পর্ক।আমি বিশ্বাস করি, ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সকল সদস্য তাদের পেশাগত দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করতে সর্বদা সচেষ্ট আছেন।
ড. সৈয়দ রেফাত তরুণ আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের স্মরণ রাখতে হবে,আপনারা মানুষকে আইনি সেবা প্রদানের জন্য এ মহান পেশায় এসেছেন।আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার মহান লক্ষ্য থেকে কখনই বিচ্যুত হবেন না। জাগতিক লোভ-লালসা আপনাদেরকে যেন পেশাগত নৈতিকতার জায়গা হতে সরাতে না পারে এ বিষয়ে সর্বদা সচেতন থাকবেন।
তিনি বলেন,১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সকল শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সম্ভ্রম হারানো মা-বোন,মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ।এখন আমাদের সকলেই ঐকান্তিক সহযোগিতায় এদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল কাদের মিয়ার সভাপতিত্বে জেলা দায়রা জজের বিচারক জিয়া হায়দার,জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্যা,পুলিশ সুপার আব্দুল জলিল,অ্যাডভোকেট মোদাররেস আলী ইছা, অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহা,অ্যাডভোকেট জাহিদ বেপারি বক্তব্য রাখেন।
এর আগে সকালে প্রধান বিচারপতি বিচারপ্রার্থীদের জন্য আদালত চত্বরে স্থাপন করা বিশ্রামাগার ‘ন্যায়কুঞ্জ’ উদ্বোধন করেন এবং আদালত চত্বরে বকুল গাছ রোপণ করেন।পরে তিনি আদালতের বিভিন্ন এজলাস পরিদর্শন করেন।















