প্রতিনিধি ৯ অক্টোবর ২০২৩ , ৪:৪৯:২০ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।স্বপ্না আক্তার নামে এক নারীকে এক হাজার পিচ ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে উল্টো ফেঁসে যাচ্ছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা।স্বপ্না আক্তারকে মিথ্যাভাবে ফাঁসিয়ে,অবৈধভাবে আটক করে এবং মিথ্যা অভিযোগে মামলা করায় অধিদপ্তরের গুলশান সার্কেলের উপ-পরিদর্শক শেখ মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে মামলা করে আদালতকে অবগত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোশাররফ হোসেনের আদালত গত রোববার এ আদেশ দেন।একই সাথে ভুক্তভোগী স্বপ্না আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
সোমবার (৯ অক্টোবর) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর উত্তরের প্রসিকিউটর নজরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
স্বপ্না আক্তারকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা তদন্ত কর্মকর্তা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক আহসানুর রহমানকে মামলাটি দায়েরের নির্দেশ দিয়ে সিআইডিকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত।
স্বপ্নার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়,২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিদর্শক রোকেয়া আক্তার,সহকারী উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান ও রুবেল হোসেন,সিপাহী শরিফুল ইসলামসহ তিনজন পুলিশ ফোর্সের সমন্বয়ে গঠিত রেইডিং টিমের সহযোগিতায় সন্ধ্যা সাতটার দিকে স্বপ্না আক্তারের খিলক্ষেতের বাসায় তল্লাশি চালায়।মামলার বাদী সাজ্জাদ হোসেন উপ-পরিদর্শক রোকেয়া আক্তারেরর মাধ্যমে আসামির দেহ ও শয়ন কক্ষ তল্লাশি করে পাঁচটি স্লিপারযুক্ত পলিপ্যাকেটে রক্ষিত অ্যামফিটামিন যুক্ত মোট এক হাজার পিচ ইয়াবা উদ্ধার করেন।ঘটনাস্থলে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করেন ও সাক্ষীদের স্বাক্ষর গ্রহণ করেন।
মামলার তদন্তভার পড়ে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক আহসানুর রহমানেরর ওপর।তিনি সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
উপ-পরিদর্শক রোকেয়া আক্তার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে জানান,গত ১৬ ফেব্রুয়ারি গুলশান সার্কেলের অভিযানের রেইডিং টিমে তার নাম যুক্ত করা হয়েছে।ওই তারিখে তিনি অফিসের কার্যক্রম শেষে সন্ধ্যার পরে বাসায় ফিরে তার বড় ছেলেকে নিয়ে বনশ্রীতে ফরাজী হাসপাতালে ডাক্তারের কাছে যান।গুলশান সার্কেলের অভিযানের রেইডিং টিমে তিনি অংশগ্রহণ করেন নাই।স্বপ্না আক্তারকে তিনি চিনেন না এবং কোন কিছুই অবগত নন।
সহকারী উপ-পরিদর্শক জিয়াউর রহমানও লিখিতভাবে তদন্তকর্তাকে বলেন,ওই অভিযানে যে মামলাটি হয় সেই মামলার ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না।কিন্তু ওই মামলায় তাকে রেইডিং টিমের সদস্য হিসেবে দেখানো হয়েছে। সে ব্যাপারে জানতে পেরে গত বছর ২২ জুন ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বরাবর একটি লিখিত বক্তব্য প্রদান করে বিষয়টি অবগত করেন।তিনি ঘটনা সম্পর্কে কিছু জানেন না।
আরেক সহকারী উপ-পরিদর্শক মো. রুবেল হোসেন তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে লিখিত বক্তব্যে জানান,আসামির ফ্ল্যাট ও দেহ তল্লাশিকালে ও আলামত উদ্ধারের সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সিপাহী মো. শরিফুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত বক্তব্যে বলেন,অভিযান পরিচালনার সময় তাকে মামলার বাদী একটি ফাঁকা জায়গায় অবস্থান করতে বলেন।তল্লাশিকালে ও আলামত উদ্ধারের সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।পরবর্তীতে বাদীর ফোন পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান ও দুইজন পুলিশের সহযোগিতায় আসামিকে গাড়িতে তুলেন।
জব্দ তালিকার পাবলিক সাক্ষী রিপন মিয়া লিখিত জবানবন্দিতে জানান,তিনি ১৬ ফেব্রুয়ারি অফিস শেষে রাত সাড়ে ১০ টায় বাসায় আসেন।বাসায় ঢুকতেই দোতলার ভাড়াটিয়া স্বপ্নার ফ্ল্যাটের ভিতর ৪/৫ জন পুরুষ সরকারি লোকজনকে দেখতে পান।তাকে সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করতে বললে তিনি একটি কাগজে স্বাক্ষর করেন।জব্দকৃত ইয়াবা তার সম্মুখে উদ্ধার করে নাই।তল্লাশির জন্য ওই টিমে কোনো মহিলা সদস্য ছিল না।
আরেকজন পাবলিক সাক্ষী মামুন খান বলেন,সাজ্জাদ ভাইয়ের হাতে তিনি একটি ব্যাগ দেখতে পান,যার ভিতরে ইয়াবা আছে বলে জানান।ইয়াবা কোথা থেকে উদ্ধার হয়েছে তা তিনি দেখেন নাই।তাকে একটি কাগজে সই করতে বললে তিনি সই করেন।তাদের সঙ্গে তাকে তেজগাঁও আবগারি অফিসে নিয়ে যায় এবং অফিসে নিয়েও পুনরায় তার সই নেয়।
তদন্ত কর্মকর্তা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক আহসানুর রহমান স্বপ্না আক্তারকে অব্যাহতির সুপারিশ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
এদিকে,সার্বিক দিক বিবেচনায় আদালত পর্যালোচনায় বলেন, প্রতীয়মান হয় যে,২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭ টা থেকে রাত সাড়ে ৮ টার মধ্যে ৫ জন অধিদপ্তরের স্টাফ ও দুই জন পুলিশ ফোর্স নিয়ে অভিযান পরিচালিত হয়নি। কথিত ঘটনাস্থল ভুল,উপ-পরিদর্শক রোকেয়া আক্তারের মাধ্যমে মহিলা আসামি স্বপ্না আক্তারের দেহ ও তার কক্ষ তল্লাশি হয়নি এবং টিমে কোন মহিলা সদস্য ছিল না।ওই সময়ে স্বপ্না পার্শ্ববর্তী বাসায় টিউশনি করাচ্ছিলো। সঙ্গীয় ফোর্স,জব্দ তালিকার সাক্ষী বা প্রত্যক্ষদর্শী অন্য কোনো সাক্ষীর উপস্থিতিতে আসামির দেহ হতে বা ওয়ারড্রপের ভিতর থেকে কোনো ইয়াবা উদ্ধার হয় নাই।কথিত জব্দ তালিকার সাক্ষীদের সামনে ইয়াবা গণনা বা ওজন করা হয় নাই এবং ঘটনাস্থলে সম্পূর্ণরূপে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয় নাই।তাই আসামি স্বপ্না আক্তারের কাছ থেকে কোনো ইয়াবা উদ্ধার হয় নাই ও স্বপ্না আক্তার ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত নয়।
















