রাজনীতি

অপপ্রচার,পোস্টার চুরি ও ছেড়াসহ হামলার ঘটনায় উত্তপ্ত নগরীর ৫টি ওয়ার্ড

  প্রতিনিধি ৬ জুন ২০২৩ , ৮:২৫:৫১ প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশাল জেলা প্রতিনিধি॥আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠ যখন সরগরম হয়ে উঠেছে ঠিক তখনই এক মেয়র প্রার্থীসহ কয়েকটি সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনে কাউন্সিলর প্রার্থীর ব্যানার ও পোস্টার চুরি ও ছিড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।প্রতিন্দ্বন্দ্বি প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে অপপ্রচারসহ সংর্ঘষে লিপ্ত হয়েছে। এমনকি এক প্রার্থীকে মুঠোফোনে রিং দিয়ে পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাচন অফিস কর্মকর্তার পরিচয়ে হুমকিসহ মিষ্টি খেতে চাইতেছে।সরেজমিন পরিদর্শনকালে এ সব তথ্য উঠে গেছে।

মেয়র পদে গোলাপ ফুল মার্কা প্রার্থী মিজানুর রহমান বাচ্চু বলেন,নগরীর বাজার রোড,পোর্ট রোড,লঞ্চঘাট ও বিএম কলেজ এলাকাসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে ঝুলিয়ে রাখা গোলাপ ফুল মার্কার ব্যানারগুলো রাতের আধাঁরে কে বা কারা যেন খুলে নিয়ে যাচ্ছে।অনেক স্থানে গোলাপ ফুল মার্কার পোস্টার ছিড়ে ফেলে দিয়েছে।পোস্টার নিয়ে অস্থিকর পরিবেশ সৃস্টি করেছে।

নগরীর ৩নং ওয়ার্ডে ঠেলাগাড়ি মার্কা প্রার্থী মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান আনিক বলেন,তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বর্তমান কাউন্সিলর রেডিও মার্কা প্রর্থী সৈয়দ হাবিবুর রহমান ফারুক। তিনি বিএনপির সমর্থক।তার বিএনপির কর্মীরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করে।আর দোষ দেয় এই দিকে।এলাকার ইয়ং ব্যাচ ঠেলাগাড়ি মার্কা নিয়ে প্রচারণা করে।তা বর্তমান কাউন্সিলরের সহ্য হয় না।তারপর আমার (ঠেলাগাড়ি মার্কা প্রার্থী) মুঠোফোন নম্বরে রিং দিয়ে পুলিশ,ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাচন অফিস কর্মকর্তার পরিচয়ে ০১৯৪৩৬৮৪৯১৫,০১৩২৮৩৮৪৩৮৬, ০১৯৮৫১০৯৯৯৪, ০১৩২০০৬৫৭৪৪ উল্টাপাল্টা কথা বলে। কেই ভয় দেখায়।আবার কেউ মিষ্টি খেতে চায়।পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি এ সব ভুয়া।বিষয়টি সম্পর্কে থানায় ও নির্বাচন অফিসে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।অপরদিকে মুঠোফোনে রেডিও মার্কা প্রর্থী সৈয়দ হাবিবুর রহমান ফারুকও বলেন,প্রতিন্দ্বন্দ্বি প্রার্থীরা আরো তার বিরুদ্ধে এলাকায় অপপ্রচারের পাশাপাশি নানা গুজব কথা ছড়াচ্ছে।সাধারণ আসনে ৩নং ওয়ার্ডে ঘুড়ি মার্কা প্রার্থী সালমা আক্তার কেও তার প্রতিন্দ্বন্দ্বি প্রার্থীর সমর্থকরা রাতের আধাঁরে ব্যানার ও পোস্টার ছিড়ে ফেলার পাশাপাশি তার গলা কেটে ছবি এডিট করে খারাপ ছবি বানিয়ে ভাইরাল করে দেয়ার হুমকি দিয়েছে।তবে কোন প্রার্থীর সমর্থক তা বলেননি এই ঘুড়ি মার্কা প্রার্থী।লাটিম মার্কা প্রার্থী মো. মেহেদি হাসান বলেন,রাতের আধাঁরে কে বা কারা যেন তার পোস্টার ছিড়ে ফেলছে।

নগরীর ৪নং ওয়ার্ডে ৪ প্রার্থীর মধ্যে টিফিন ক্যারিয়ার প্রার্থী মোঃ ইউনুস মিয়া বলেন,এলাকায় অপরিচিত নারী-পুরুষরা এসে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে। যারা এ ওয়ার্ডের বাসিন্দা নয়।কিছু নারীরা বোরকা ব্যবহার করে প্রচারণা করছে।যাদের কেউ চিনে না।রাতের আধাঁরে তার নির্বাচনী ব্যানার ও পোস্টার কে বা কারা যেন ছিড়ে ফেলছে।আগে কাউন্সিলর থাকা অবস্থায় তিনি যে উন্নয়ন করেছে তারপর থেকে ছিটে ফোঁটাও উন্নয়ন হয়নি।জনগনের দাবীতে তিনি আবারো নির্বাচনে অংশ নিয়েছে।নির্বাচিত হলে প্রথমেই তিনি এলাকার সড়কসহ ড্রেন ব্যবস্থার কার্যক্রম শুরু করবে। ঘুড়ি মার্কা প্রার্থী মোঃ আরিফুল আলম (সম্রাট) বলেন,তার ঘুড়ি মার্কার ব্যানার ও পোস্টার রাতের আধাঁরে কে বা কারা যেন ছিড়ে ফলছে।জীবনে প্রথম নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।তবে এলাকার মসজিদ-মাদ্রাসাসহ একাধিক সামাজিক সংগঠনের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।ইয়ং যুকদের নিয়ে তিনি এলাকায় নতুন স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে চান।বর্তমান কাউন্সিলর লাটিম মার্কা প্রার্থী তৌহিদুল ইসলাম (বাদশা) বলেন,জনগনের সেবায় নিয়োজিত রয়েছি। আবারো নির্বাচিত হয়ে জনগনের সেবায় কাজ করব।এ ওয়ার্ডে অপরপ্রার্থী তার বাবার দাপট নিয়ে এলাকায় নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বলে জানান স্থানীয় কয়েক বাসিন্দা। তার মার্কা হল ঠেলাগাড়ি।নাম সৈয়দ শামসুদ্দোহা। ওই বাসিন্দারা আরো বলেন,নাম বললে খুন,গুম হয়ে যেতে পারি। এটা সকলেই দেখে বা জানে নির্বাচনের আগেই নিজেকে নির্বাচিত কাউন্সিলর স্টাইলে কথাবর্তা বলতে শুরু করেছেন।ঠেলাগাড়ি মার্কা প্রার্থীর ভাব দেখে মনে হয় তিনি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হয়ে গেছেন।

নগরীর ৩ ও ৪ নং ওয়ার্ডের তুলনায় প্রকাশ্যে মারামারি ও পোস্টার ছিড়ে ফেলার ঘটনা ঘটছে ১০, ১৪ ও ২৪ নং ওয়ার্ডে।শুক্রবার সন্ধ্যায় (২জুন) নগরীর বান্দ রোড সাউথ কিং রেস্টুরেণ্টের সামনে (মেয়র নৌকা মার্কা) প্রার্থী আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ’র ‌এক উঠান বৈঠক জনসভায় ১০ নং ওয়ার্ডের ঠেলাগাড়ি মার্কা পদপ্রার্থীর জয়নাল আবেদিন হাওলাদার ও তার একমাত্র প্রতিন্দ্বন্দ্বি রেডিও মার্কা প্রার্থী এ,টি,এম শহিদুল্লাহ কবিরের সমর্থকদের সংর্ঘষে নারীসহ ০৯ জন আহত হয়।এরপরও থেমে নেই।সম্প্রতি রেডিও মার্কা প্রার্থীর কর্মীদের কেডিসি এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় বাঁধাসহ টানানো পোস্টার ব্যানার ছিড়ে ফেলছে প্রতিন্দ্বন্দ্বি প্রার্থীর কর্মীরা।কর্মীদের মাঝে এখনও এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় সংর্ঘষ হতে পারে বলে মনে করেন একাধিক বাসিন্দা।একই অবস্থা ১৪ নং ওয়ার্ডে।

রোববার (৪ জুন) দুপুরে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে টিফিন ক্যারিয়ার প্রতীকের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. শাকিল হোসেন পলাশ কেসহ তার কর্মীদের বেদম মারধর করার পাশাপাশি নির্বাচনী (টিফিন ক্যারিয়ার) কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগে উঠে প্রতিদ্বন্দ্বি ঠেলাগাড়ি মার্কা প্রার্থী রিয়াদ হোসেন খান এর সমর্থকদের বিরুদ্ধে।পলাশের অনুসারীরা বিক্ষোভ মিছিল করে এবং পুলিশ কমিশনার কার্যালয় ঘোরাও করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবী জানান।ঘটনার পর থেকেই এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।অধিকাংশ বাসিন্দাদের ধারণা,যে কোন এ এলাকায় সময় ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে পারে।

আবার নগরীর ২৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিল পদে ঘুড়ি মার্কা প্রার্থী মোঃ সাফিন মাহামুদ (তারেক) এর নির্বাচনী প্রচারণায় বাঁধা,হুমকিসহ নেতা কর্মীদের হয়রানী ও মারধর করার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।একইদিন বিকেলে তার প্রতিন্দ্বন্দ্বি ঠেলাগাড়ি মার্কা পদ প্রার্থী শরীফ মোঃ আনিছুর রহমানও (আনিছ শরীফ) তার নির্বাচনী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। ঘুড়ি মার্কা প্রার্থী বলেন, রোববার বোলা সাড়ে ১২ টার দিকে নগরীর ধান গবেষণা সড়কে ঘুড়ি মার্কায় প্রচারণা করতে যাওয়া কর্মী চাঁন খান (৩৫) ও আজিম হাওলাদার (২৩) কে বেদম মারধর করেছে।হামলা চালিয়েছে ঠেলাগাড়ি মার্কার প্রার্থীসহ তার কর্মী মোহন শরীফ,সাইফুল শরীফ,আপি শরীফ,শামিম হাওলাদার, নাজমুল হুদাসহ ৩/৪ জন।ওই দিন সকালে নগরীর গ্যাসটারবাইন এলাকায় ঘুড়ি মার্কায় প্রচারণা করা ৫ জন মহিলা কর্মীকে প্রচারণা করতে বাধাঁ দেয়।নগরীর ২৪নং ওয়ার্ড আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক হবার পরও আমার প্রতিন্দ্বন্দ্বি ওই প্রার্থী ও তার কর্মীরা এলাকার মানুষের মাঝে গুঞ্জন ছড়ায়।আমার কর্মীরা নাকি হাতপাখা মার্কার প্রচারণা করে।যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।মূলত আমি কর্মীদের দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছি।একদল নৌকার প্রচারণা করে অপর দল ঘুড়ি মার্কার প্রচারণা করে। এর দু’তিন দিন পূর্বে মিথ্যা তথ্যের অনুকূলে প্রতিন্দ্বন্দ্বি প্রার্থী কৌশলে আমার ঘুড়ি মার্কার তিন কর্মীকে প্রাথমিকভাবে আটক করিয়ে দেয়। পরে পুলিশ অভিযোগের ঘটনার সত্যতা না পেয়ে ছেড়ে দেয়।মধ্যের দু’দিন প্রতিন্দ্বন্দ্বি প্রার্থী ও তার নেতা কর্মীরা ঘুড়ি মার্কার কর্মীদের হুমকি,অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও হয়রানীর পর রোববার হামলার ঘটনা ঘটায়।

ঠেলাগাড়ি মার্কা প্রার্থী তার প্রতিন্দ্বন্দ্বি ঘুড়ি মার্কা প্রার্থীসহ কর্মীদের বিরুদ্ধে নানা তথ্য তুলে ধরলেও তিনি দেশজুড়ে ভাইরাল হয়েছেন একটি ভিডিওতে।বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীকে পরাজিত করতে হাতপাখার প্রার্থীকে ৩ কোটি টাকা দিয়েছেন আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ।জনমুখে শ্লোগান উঠেছে,নৌকার মধ্যে হাতপাখা,ঢুকিয়েছে হাসানাত, ভিডিও বক্তব্য দিল আনিছ শরীফ।

আরও খবর

Sponsered content