নিজস্ব প্রতিবেদক।।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন,২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির পিলখানা ট্র্যাজেডিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা জাতির নৈতিক দায়িত্ব।তিনি সতর্ক করে বলেন,ইতিহাসে এই ঘটনাকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জাতিকে ক্ষমা করবে না।
বুধবার জাতীয় সেনা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে পিলখানায় শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় ও ইফতার অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী পিলখানায় শহীদ সেনা কর্মকর্তা ও অন্যান্য নিহতদের পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি বলেন,২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির নির্মম হত্যাকাণ্ড জাতির ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর অধ্যায়,যার ক্ষত আজও বহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন,দীর্ঘ সংগ্রামের পর জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করা হবে।তিনি জানান,সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে পিলখানা ট্র্যাজেডির স্মৃতি সংরক্ষণে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নেবে।
আবেগঘন বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন,ওই ঘটনায় ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন প্রাণ হারান।প্রতিটি মৃত্যু একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার করুণ ইতিহাস বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দেশে ফেরার পর বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদদের কবর জিয়ারতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন,গত ১৭ বছরে শহীদ পরিবারগুলোর বিচারপ্রাপ্তির সংগ্রাম ও ত্যাগ তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন,সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত।মহান মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকে ইপিআর সদস্যরা সেনাবাহিনীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পরবর্তীকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাহিনীটির আধুনিকায়ন ও পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেন।
পিলখানা হত্যাকাণ্ডকে জাতীয় সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে অপপ্রয়াস উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,এ ঘটনা দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা তুলে ধরেছিল।তাই আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করা হবে।
এসময় শহীদ পরিবারের সদস্যদের শিক্ষা,চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষে মাহে রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং রাষ্ট্রকে ন্যায়, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের পথে পরিচালিত করার জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানান।
![]()





















































সর্বশেষ সংবাদ :———