মাজহারুল ইসলাম॥বরিশাল ও ভোলা জেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় ৪০ লক্ষাধিক মানুষ।নৌপথই এখনো দুই জেলার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হওয়ায় প্রতিদিন সময়, অর্থ ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।
সরেজমিনে জানা যায়,বরিশাল থেকে ভোলার দূরত্ব নৌপথে প্রায় ৪০ কিলোমিটার।অথচ মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের কালাবদর নদী থেকে তেতুলিয়া নদী পর্যন্ত মাত্র ৬ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন এবং কালাবদর–তেতুলিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করা গেলে বরিশাল-ভোলা দূরত্ব প্রায় ১৬ কিলোমিটারে নেমে আসবে।এতে দুই জেলার মধ্যে যোগাযোগ সময় ৫ ঘণ্টা থেকে কমে দেড় ঘণ্টায় নামিয়ে আনা সম্ভব বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
বর্তমানে যাত্রীদের লঞ্চ,ট্রলার ও স্পিডবোটে ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথে চলাচল করতে হচ্ছে।বর্ষা মৌসুমে উত্তাল ঢেউ এবং শীতকালে নাব্যতা সংকটে নৌযান চলাচল ব্যাহত হয়।ফলে অফিস-আদালত,হাসপাতাল,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে সময়মতো পৌঁছাতে না পেরে দুর্ভোগে পড়ছেন বিভিন্ন পেশার মানুষ। অনেকেই বাধ্য হয়ে অবৈধ স্পিডবোট ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনে যাতায়াত করছেন,যার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরিশাল-ভোলা সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু এবং তেতুলিয়া ও কালাবদর নদীর ওপর সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন।পরবর্তীতে বরিশাল বিভাগের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।এ প্রকল্পের অংশ হিসেবে সড়ক উন্নয়ন,নদী শাসন এবং সেতু নির্মাণে প্রায় ২৩ হাজার ৯৬ কোটি টাকার প্রস্তাব ও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সেতু ও সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে,বরিশাল-ভোলা সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে তেতুলিয়া নদীর ওপর বৃহৎ সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) সম্পন্নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) আসনের সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য রাজীব আহসান সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। এলাকাবাসীর বিশ্বাস,দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বরিশাল-ভোলা সড়ক যোগাযোগ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
স্থানীয়রা বলছেন,এই সড়ক যোগাযোগ চালু হলে শুধু যাতায়াত সহজ হবে না; বরং শিল্পায়ন,ব্যবসা-বাণিজ্য,কর্মসংস্থান ও আঞ্চলিক অর্থনীতি ব্যাপকভাবে এগিয়ে যাবে এবং লাখো মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।
![]()













সর্বশেষ সংবাদ :———