প্রতিনিধি ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৪:৪৪:০১ প্রিন্ট সংস্করণ
মাজহারুল ইসলাম।।একটি সভ্য রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো—সে তার শিশুদের কতটা নিরাপদ রাখতে পারে।অথচ বারবার আমরা দেখছি,দারিদ্র্যপীড়িত শিশুদের ওপর সবচেয়ে ভয়ংকর নির্যাতন চালাচ্ছে সমাজের ক্ষমতাবান,প্রভাবশালী ও তথাকথিত ‘ভদ্র’ শ্রেণি।উত্তরা পশ্চিম থানার সাম্প্রতিক শিশুনির্যাতন মামলাটি সেই নগ্ন সত্য আবারও সামনে এনে দিয়েছে।

১১ বছর বয়সী একটি শিশু—যার অপরাধ শুধু দারিদ্র্য—তাকে আশ্রয়ের নাম করে একটি প্রভাবশালী দম্পতির বাসায় নেওয়া হয়।আশ্বাস দেওয়া হয় ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার।কিন্তু বাস্তবে সেই বাসা হয়ে ওঠে নির্যাতনকেন্দ্র।অভিযোগ অনুযায়ী,মাসের পর মাস শিশুটিকে মারধর করা হয়েছে,আগুনে গরম খুন্তি দিয়ে দগ্ধ করা হয়েছে।শিশুটির শরীর জুড়ে যে ক্ষতচিহ্ন,তা কেবল একটি পরিবারের নিষ্ঠুরতার প্রমাণ নয়—এটি রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার দলিল।
এই মামলার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো অভিযুক্তদের সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান। অভিযুক্তদের একজন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে অধিষ্ঠিত। প্রশ্ন হলো—ক্ষমতার আসনে বসে থাকা একজন ব্যক্তি যদি নিজের ঘরে এমন অমানবিক আচরণ করেন, তবে তার নৈতিকতা দিয়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব কতটা নিরাপদ?
আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—
পদ, পরিচয় কিংবা স্যুট-টাই কোনো অপরাধীর ঢাল হতে পারে না।
শিশু নির্যাতনের ক্ষেত্রে ‘সম্মান’ বা ‘প্রভাব’ শব্দগুলো সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক।
আরও একটি ভয়ংকর বাস্তবতা হলো—গৃহপরিচারিকা শিশুরা এখনো আমাদের আইনি ও সামাজিক সুরক্ষার বাইরে রয়ে গেছে। পরিবারগুলো শিশুদের ‘মানুষ’ হিসেবে নয়, ‘সম্পত্তি’ হিসেবে ব্যবহার করছে। প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি না থাকায় এই নির্যাতনগুলো চার দেয়ালের ভেতর চাপা পড়ে থাকে—যতক্ষণ না কোনো শিশু মৃত্যুর মুখে পড়ে।
আমরা জোরালোভাবে দাবি করছি—
1. এই মামলার দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করতে হবে
2. কোনো ধরনের বিশেষ সুবিধা বা প্রভাব খাটানোর সুযোগ দেওয়া যাবে না
3. গৃহপরিচারিকা শিশুদের জন্য জাতীয় নিবন্ধন ও তদারকি ব্যবস্থা চালু করতে হবে
4. প্রভাবশালী আসামিদের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে
এটা কোনো ব্যক্তি বিশেষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ নয়—এটা একটি বার্তা।
যদি আজ রাষ্ট্র দৃঢ় অবস্থান না নেয়, তবে আগামীকাল আরও শত শত শিশু নীরবে পুড়বে, ভাঙবে, নিঃশেষ হবে।
একটি রাষ্ট্রকে বিচার করা হয় তার শক্তিশালীদের দিয়ে নয়—
তার সবচেয়ে দুর্বল নাগরিকদের সঙ্গে আচরণ দিয়ে।
এখন দেখার বিষয়, এই রাষ্ট্র কোন পাশে দাঁড়ায়।














