অপরাধ-আইন-আদালত

কারাগার ভেঙে পলায়ন ২,২০০ আসামি: এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে ৭০০, নিখোঁজ ৪০% লুট হওয়া অস্ত্র

  প্রতিনিধি ৩ জানুয়ারি ২০২৬ , ৭:১০:২২ প্রিন্ট সংস্করণ

কারাগার ভেঙে পলায়ন ২,২০০ আসামি: এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে ৭০০, নিখোঁজ ৪০% লুট হওয়া অস্ত্র

অনুসন্ধানী সংবাদ প্রতিবেদন।।জুলাই–আগস্টের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার পর দেশের কারাগার থেকে পলায়ন করেছে দণ্ডপ্রাপ্ত শীর্ষ জঙ্গি ও সন্ত্রাসীসহ প্রায় ২,২০০ আসামি।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী,এখনও অন্তত ৭০০ জন পলাতক রয়েছে—যাদের মধ্যে প্রায় ৭০ জন চিহ্নিত জঙ্গি ও দণ্ডপ্রাপ্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। একই সময়ে কারাগার ও থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের প্রায় ৪০ শতাংশ এখনও উদ্ধার হয়নি।

পটভূমি: অস্থিরতার সুযোগে সংগঠিত পলায়ন

জুলাই–আগস্টে দেশব্যাপী সহিংস আন্দোলন,হামলা ও অগ্নিসংযোগের মধ্যে একাধিক কারাগার ও থানা আক্রমণের ঘটনা ঘটে।সেই সুযোগে পরিকল্পিতভাবে তালা ভেঙে,দেয়াল কেটে এবং অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বন্দিদের বের করে আনা হয়।নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে,এটি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত বিশৃঙ্খলার চেয়ে সমন্বিত অপরাধ তৎপরতার লক্ষণ।

কারা পলাতক?

অনুসন্ধানে জানা যায়—

মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ সদস্য

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি নেটওয়ার্কের প্রশিক্ষিত অপারেটিভ

বহুল আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চক্রের নেতা

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়,পলাতকদের একটি অংশ ইতোমধ্যে আত্মগোপনে চলে গেছে,কেউ কেউ সীমান্তবর্তী এলাকা বা পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থান করছে বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।

লুট হওয়া অস্ত্র: সবচেয়ে বড় উদ্বেগ

পলায়নের সময় কারাগার ও থানা থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়।সরকারি হিসাবে প্রায় ৬০ শতাংশ উদ্ধার হলেও ৪০ শতাংশ অস্ত্র এখনও বাইরে রয়ে গেছে,যা নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

একজন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি বলেন,

> “পলাতক জঙ্গির চেয়েও ভয়ংকর হলো অবৈধ অস্ত্র। অস্ত্র থাকলে নতুন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা সময়ের ব্যাপার মাত্র।”

রাষ্ট্রীয় প্রতিক্রিয়া ও সীমাবদ্ধতা

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে—

বিশেষ অভিযান চলছে

গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে

সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত তল্লাশি বসানো হয়েছে

তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে কয়েকটি সীমাবদ্ধতা—

কারাগারের নিরাপত্তা অবকাঠামো দুর্বল

জনবল সংকট ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা

রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সমন্বিত অভিযান ব্যাহত

আইন ও দায়বদ্ধতা

সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকের জানমাল রক্ষা করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। বিশ্লেষকদের মতে—

পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি থাকা মানে বিচারিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থায় ফাটল

অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ঘাটতির প্রমাণ

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন,এ ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষ,সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সাধারণ নাগরিক কতটা ঝুঁকিতে?

নিরাপত্তা বিশ্লেষণে দেখা যায়—

সাধারণ নাগরিক তাৎক্ষণিক টার্গেট না হলেও

বড় জমায়েত,গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও রাজনৈতিক কর্মসূচি ঝুঁকিতে

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—গুজবে কান না দিয়ে সচেতন থাকা, সন্দেহজনক কিছু দেখলে দ্রুত প্রশাসনকে জানানো।

উপসংহার

পলাতক জঙ্গি,শীর্ষ সন্ত্রাসী ও উদ্ধার না হওয়া অস্ত্র—এই তিনটি উপাদান একসঙ্গে থাকলে তা যে কোনো দেশের জন্যই নীরব কিন্তু গভীর নিরাপত্তা সংকেত।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে কেবল অভিযান নয়,প্রয়োজন স্বচ্ছ তদন্ত,দায় নির্ধারণ ও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সংস্কার।

প্রশ্ন থেকেই যায়— এই পলাতকরা কোথায়,কারা তাদের আশ্রয় দিচ্ছে,আর লুট হওয়া অস্ত্র কার হাতে?

(তথ্যসূত্র: বিবিসি নিউজ বাংলা, ৩ জানুয়ারি ২০২৬)

আরও খবর

Sponsered content