নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশে দীর্ঘ ২০ বছর পর পুনরায় রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯ আসনে জয়ী হয়ে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৫৬(৩) অনুচ্ছেদের অধীনে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন।নবগঠিত মন্ত্রিসভায় মোট ৫০ জন সদস্য রয়েছেন, যার মধ্যে ২৫ পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ প্রতিমন্ত্রী অন্তর্ভুক্ত। দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসিত থাকার পর দেশে ফেরার এই ঘটনাটি তারেক রহমানের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই স্থানীয় সরকারের বড় তিন মহানগরীর নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে কমিশনে পাঠানো চিঠিতে ঢাকা উত্তর,ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ১ জুন, ঢাকা উত্তরের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ২ জুন, এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়াদ আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি শেষ হচ্ছে।স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী,মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন বাধ্যতামূলক। গত ২০২৪ সালের জুলাইয়ে অভ্যুত্থানের পর অনেক সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জনপ্রতিনিধি পদত্যাগ বা অপসারণ করা হয়।বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠান প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।তবে আদালতের আদেশে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন ডা. শাহাদাত হোসেন। ইসি জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের চিঠিগুলো উপস্থাপন প্রক্রিয়া শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।সৌদি আরবে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে।মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় দেশটির সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে পবিত্র এই মাস শুরুর ঘোষণা দেয়।এর ফলে সৌদি আরবে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে প্রথম রোজা শুরু হচ্ছে। সৌদিভিত্তিক ওয়েবসাইট হারামাইন জানিয়েছে,দেশটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অর্ধচন্দ্রের দেখা মিলেছে।তাই মঙ্গলবার রাত থেকেই ১৪৪৭ হিজরির পবিত্র রমজান মাস শুরু হয়েছে। সৌদি আরবের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারেও একই দিনে চাঁদ দেখা যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ফলে এসব দেশেও বুধবার থেকে মুসল্লিরা সিয়াম সাধনা শুরু করবেন। তবে সৌদি আরবের প্রতিবেশী দেশ ওমানে মঙ্গলবার চাঁদ দেখা যায়নি।এ কারণে দেশটিতে প্রথম রোজা শুরু হবে বৃহস্পতিবার।একইভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই ও সিঙ্গাপুরেও চাঁদ দেখা না যাওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে রমজান মাস শুরু হবে। এছাড়া মধ্য এশিয়ার কিরগিজস্তান,কাজাখস্তান,উজবেকিস্তান ও আজারবাইজানেও চাঁদ দেখা না যাওয়ায় এসব দেশে প্রথম রোজা পালিত হবে বৃহস্পতিবার। মধ্যপ্রাচ্যে চাঁদ দেখা যাওয়ার পর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতেও রমজান শুরুর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।সাধারণত সৌদি আরবের একদিন পর বাংলাদেশে রোজা ও ঈদ উদযাপিত হয়ে থাকে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। গেজেটে জানানো হয়,গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের আস্থাভাজন সংসদ সদস্য তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।একই সঙ্গে তার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়েছে বলে গণ্য হবে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের নিয়োগ সংক্রান্ত পৃথক গেজেটও প্রকাশ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Rules of Business, 1996-এর Rule 3(B)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় মোট ১০ জন উপদেষ্টা নিয়োগ দিয়েছেন।মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জারি করা এক সরকারি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন— ১. মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ ২. নজরুল ইসলাম খান ৩. রুহুল কবির রিজভী আহমেদ ৪. মোঃ ইসমাইল জবিউল্লাহ ৫. ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এছাড়া প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন— ১. হুমায়ুন কবির ২. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম ৩. ডা. জাহেদুর রহমান ৪. ড. মাহাদি আমিন ৫. রেহান আসিফ আসাদ প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে,এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ নিয়োগাদেশ জারি করা হয়েছে। সরকারি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,নতুন সরকারের নীতিনির্ধারণ, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং বিভিন্ন খাতে কার্যক্রম গতিশীল করতে এসব উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভায় আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে স্পষ্ট বৈষম্যের চিত্র উঠে এসেছে।মন্ত্রিসভায় সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্ব পেয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ,আর সবচেয়ে কম স্থান পেয়েছে সিলেট বিভাগ। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়,চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে মোট ১২ জন মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।এর মধ্যে ১০ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন—আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী,সালাহউদ্দিন আহমদ,আব্দুল আওয়াল মিন্টু,কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি,জাকারিয়া তাহের,দীপেন দেওয়ান, আ ন ম এহসানুল হক মিলন,মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ এবং ড. খলিলুর রহমান।একই বিভাগ থেকে প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি ও মীর মুহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। ঢাকা বিভাগ থেকে পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন আফরোজা খানম রিতা, ফকির মাহবুব আনাম স্বপন,সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল ও শেখ রবিউল আলম।এ বিভাগ থেকে প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন ইশরাক হোসেন,শামা ওবায়েদ ইসলাম,সুলতান সালাউদ্দিন টুকু,ববি হাজ্জাজ,হাবিবুর রশিদ এবং আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। রাজশাহী বিভাগ থেকে পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ ও মিজানুর রহমান মিনু।প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এম এ মুহিত,মীর শাহে আলম,ফারজানা শারমিন ও মুহাম্মদ আব্দুল বারী। বরিশাল বিভাগ থেকে পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও জহির উদ্দিন স্বপন।প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন আহমদ সোহেল মঞ্জুর,রাজিব আহসান ও মো. নুরুল হক নুর। খুলনা বিভাগ থেকে পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন নিতাই রায় চৌধুরী। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন মো. আসাদুজ্জামান,অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও শেখ ফরিদুল ইসলাম। ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে কোনো পূর্ণমন্ত্রী না থাকলেও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে স্থান পেয়েছেন মো. শরিফুল আলম,কায়সার কামাল,এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত,ইয়াসের খান চৌধুরী ও এম ইকবাল হোসেইন। অন্যদিকে,সিলেট বিভাগ থেকে মাত্র দুজনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে,যা আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্বের দিক থেকে সর্বনিম্ন। বিশ্লেষকদের মতে,নতুন মন্ত্রিসভায় অঞ্চলভিত্তিক ভারসাম্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা…
মাজহারুল ইসলাম॥বরিশাল ও ভোলা জেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় ৪০ লক্ষাধিক মানুষ।নৌপথই এখনো দুই জেলার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হওয়ায় প্রতিদিন সময়, অর্থ ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। সরেজমিনে জানা যায়,বরিশাল থেকে ভোলার দূরত্ব নৌপথে প্রায় ৪০ কিলোমিটার।অথচ মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের কালাবদর নদী থেকে তেতুলিয়া নদী পর্যন্ত মাত্র ৬ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন এবং কালাবদর–তেতুলিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করা গেলে বরিশাল-ভোলা দূরত্ব প্রায় ১৬ কিলোমিটারে নেমে আসবে।এতে দুই জেলার মধ্যে যোগাযোগ সময় ৫ ঘণ্টা থেকে কমে দেড় ঘণ্টায় নামিয়ে আনা সম্ভব বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। বর্তমানে যাত্রীদের লঞ্চ,ট্রলার ও স্পিডবোটে ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথে চলাচল করতে হচ্ছে।বর্ষা মৌসুমে উত্তাল ঢেউ এবং শীতকালে নাব্যতা সংকটে নৌযান চলাচল ব্যাহত হয়।ফলে অফিস-আদালত,হাসপাতাল,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে সময়মতো পৌঁছাতে না পেরে দুর্ভোগে পড়ছেন বিভিন্ন পেশার মানুষ। অনেকেই বাধ্য হয়ে অবৈধ স্পিডবোট ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনে যাতায়াত করছেন,যার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরিশাল-ভোলা সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু এবং তেতুলিয়া ও কালাবদর নদীর ওপর সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন।পরবর্তীতে বরিশাল বিভাগের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।এ প্রকল্পের অংশ হিসেবে সড়ক উন্নয়ন,নদী শাসন এবং সেতু নির্মাণে প্রায় ২৩ হাজার ৯৬ কোটি টাকার প্রস্তাব ও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সেতু ও সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে,বরিশাল-ভোলা সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে তেতুলিয়া নদীর ওপর বৃহৎ সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) সম্পন্নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) আসনের সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য রাজীব আহসান সড়ক পরিবহন…
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আজ নতুন সরকার গঠন করেছে।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভায় আইনজীবীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া সাতজনই সুপ্রিম কোর্টের নিয়মিত আইনজীবী। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় উন্মুক্ত আকাশের নিচে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে তারা শপথ গ্রহণ করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে ২৮ জন আইনজীবী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।এর মধ্যে ২৪ জন বিজয়ী হন।নির্বাচিত এই আইনজীবীদের মধ্য থেকে চারজন পূর্ণমন্ত্রী এবং তিনজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। কক্সবাজার-১ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি ২ লাখ ২০ হাজার ৫৬৬ ভোটে জয়ী হন এবং জজ কোর্টের আইনজীবী। রাঙ্গামাটি আসনের সংসদ সদস্য দিপেন দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি ২ লাখ ১ হাজার ৫৪৪ ভোটে নির্বাচিত হন এবং জজ কোর্টের আইনজীবী। মাগুরা-2 আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী সংস্কৃতি মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।তিনি ১ লাখ ৪৬ হাজার ৬৯৬ ভোটে জয়ী হন। তিনি সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। ঝিনাইদহ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান আইন,বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী হয়েছেন।তিনি ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৯৮ ভোটে জয়ী হন এবং সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিন আইনজীবী চট্টগ্রাম-৫ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।তিনি ১ লাখ ৪৩ হাজার ৯৬৫ ভোটে জয়ী হন এবং সুপ্রিম কোর্টের নিয়মিত আইনজীবী। নাটোর-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন।তিনি ১ লাখ ২ হাজার ৪১৯ ভোটে…
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি।।বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন,সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি হলো সততা।একজন ভালো সাংবাদিক কখনও মিথ্যা বা পক্ষপাতদুষ্ট খবর প্রচার করেন নাতিনি বলেন,গণমাধ্যমের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো বিশ্বাসযোগ্যতা। কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সভায় কাদের গনি চৌধুরী আরও বলেন,বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সমাজে শান্তি আনে, আর মিথ্যা খবর অশান্তি সৃষ্টি করে।সাংবাদিকদের দায়িত্ব হলো সত্য উদ্ঘাটন,দুর্নীতি উন্মোচন ও জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, সাংবাদিকদের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে হচ্ছে।গত দুই দশকে ৬৮ জন সাংবাদিক নিহত এবং শত শত আহত হয়েছেন।তাই সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী আইন প্রণয়নের প্রয়োজন। কাদের গনি চৌধুরী সাংবাদিকদের জাতির বিবেক ও মানবতার প্রহরী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন,সংবাদপত্র সমাজকে আলোকিত করে এবং সাংবাদিকরা মানুষের সত্যিকারের কন্ঠস্বর।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন মন্ত্রিসভায় বরিশাল বিভাগের প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।স্পীকারসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন এই বিভাগের পাঁচজন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ও জাতীয় ব্যক্তিত্ব। নতুন সরকারে জাতীয় সংসদের স্পীকার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন।দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংসদীয় কার্যক্রমে দক্ষতার কারণে তাকে এ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া মন্ত্রিসভায় পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে স্থান পেয়েছেন চারজন নেতা। মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হয়েছেন এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী। তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে।অন্যদিকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নুরুল হক নুর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন মন্ত্রিসভায় বরিশাল বিভাগের এই শক্তিশালী উপস্থিতি অঞ্চলটির উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত অগ্রগতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম, সাংগঠনিক দক্ষতা ও দলের প্রতি অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য রাজীব আহসান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে আসীন হয়েছেন বলে দলীয় ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা রাজীব আহসান বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের একজন পরীক্ষিত নেতা হিসেবে পরিচিত। ২০১৪ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনায় আসেন।পরবর্তীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মাঠপর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। রাজনৈতিক জীবনে একাধিক মামলা,গ্রেপ্তার ও কারাবরণের অভিজ্ঞতা থাকলেও তিনি সক্রিয়ভাবে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নেতাকর্মীদের কাছে আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠেন।দলীয় সূত্র বলছে,তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ,সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনপ্রিয়তার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েই তাকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন,রাজীব আহসানের এই দায়িত্বপ্রাপ্তি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ এলাকার মানুষের প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক সংগ্রামেরও স্বীকৃতি। নতুন দায়িত্বে তিনি এলাকার উন্নয়ন,নদীভাঙন রোধ এবং প্রশাসনিক সেবার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন তারা।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথগ্রহণের পরপরই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে বিএনপি ও এর জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-নেত্রীদের ফোন করে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি জানানো হয়। দলীয় সূত্র জানায়, আজ বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন।রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন।বিএনপি চেয়ারম্যান ও নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে। 📌 মন্ত্রিসভার আকার মোট সদস্য: ৪৯ জন পূর্ণমন্ত্রী: ২৫ জন প্রতিমন্ত্রী: ২৪ জন ✅ পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে নিশ্চিত নাম মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ড. খলিলুর রহমান (টেকনোক্রেট), আবদুল আউয়াল মিন্টু, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, আমিনুর রশিদ (টেকনোক্রেট), আফরোজা খানম রিতা, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আসাদুল হাবীব দুলু, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের সুমন, দিপেন দেওয়ান, আ ন ম এহসানুল হক মিলন, সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, ফরিদ মাহবুব আনাম এবং শেখ রবিউল আলম। ✅ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রিত রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শরীফুল আলম, ফরহাদ হোসেন আজাদ, শামা ওবায়েদ, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশিদ হাবিব, রাজিব আহসান, আজিজুল বারী হেলাল, মীর শাহে আলম, জোনায়েদ সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন পুতুল, ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক নুর, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেন, এম এ মুহিত, আহমেদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ, আলী নেওয়াজ খৈয়াম এবং আমিনুল হক (টেকনোক্রেট)। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, অভিজ্ঞ ও নবীন নেতৃত্বের সমন্বয়ে একটি কার্যকর…
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠান রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হয়। শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সকাল থেকেই নির্বাচিত এমপি ও দলীয় নেতারা সংসদ ভবনে উপস্থিত হতে শুরু করেন।পুরো এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সরকারি ফলাফল অনুযায়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে এবং সরকার গঠনের পথে এগিয়ে রয়েছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি আসনে বিজয়ী হলেও তিনি বগুড়া–৬ আসনটি ছেড়ে দিয়ে ঢাকা–১৭ আসন থেকে শপথ গ্রহণ করেন। শপথ অনুষ্ঠান শেষে দলের সংসদীয় নেতা নির্বাচন নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।ওই বৈঠকের মাধ্যমে সংসদের হাউস লিডার নির্বাচন করা হবে,যা নতুন সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এদিকে বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর বিএনপির পুনরায় ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।কক্সবাজার–১ আসনের বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কোনো বিধান এখনো সংযোজিত হয়নি।এ কারণে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আপাতত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিচ্ছেন না। তিনি বলেন, “আমরা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হইনি এবং সংবিধানে বিষয়টি এখনো অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হয়,তবে আগে সেটি সংবিধানে সংযোজন করতে হবে। পাশাপাশি পরিষদের সদস্যদের কে শপথ পড়াবেন— সেই বিধানও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে।” সালাহউদ্দিন আহমদের মতে,জাতীয় সংসদে সাংবিধানিকভাবে বিষয়টি অনুমোদিত হওয়ার পরই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।তিনি আরও বলেন, “আমরা এখন পর্যন্ত সংবিধান মেনেই চলেছি এবং ভবিষ্যতেও সংবিধান অনুসরণ করেই এগিয়ে যেতে চাই।” উল্লেখ্য,সাম্প্রতিক গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হওয়ার পর জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা রয়েছে।প্রক্রিয়া অনুযায়ী,নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রথমে সংসদ সদস্য হিসেবে এবং পরে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও বিএনপি আপাতত দ্বিতীয় ধাপের শপথে অংশ নিচ্ছে না।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার কিছু আগে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে এ শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা শপথ গ্রহণ না করে শপথকক্ষ ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে। এদিকে বিএনপি জানিয়েছে,তারা আপাতত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিচ্ছে না।দলটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক।।দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক,সামাজিক ও গণতান্ত্রিক অগ্রগতির চিত্র মূল্যায়নের উদ্দেশ্যে ২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সূচক ও অর্থনৈতিক তথ্য টাইমলাইনে সংরক্ষণ করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী,এ সময় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। আন্তর্জাতিক সূচকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৯তম এবং মানব উন্নয়ন সূচকে (HDI) অবস্থান ১২৯তম। গণতন্ত্র সূচকে দেশের অবস্থান ৭৫তম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।অন্যদিকে বৈশ্বিক অর্থনীতির সূচকে বাংলাদেশ রয়েছে ৩৬তম স্থানে।দেশের অর্থনীতির আকার আনুমানিক ৪৫০ থেকে ৪৫৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ প্রায় ৭৮ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে,প্রতি বছর একই সূচকের হালনাগাদ তথ্যের সঙ্গে তুলনা করলে দেশের প্রকৃত অগ্রগতি বা পিছিয়ে পড়ার চিত্র স্পষ্টভাবে বোঝা সম্ভব হবে।এজন্য তথ্যগুলো ভবিষ্যৎ তুলনার জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।
মাজহারুল ইসলাম।।বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতা ও জুলাই আন্দোলনকে ঘিরে প্রকাশিত জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদন নতুন করে এক গভীর প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে রাষ্ট্র,রাজনীতি এবং বিচারব্যবস্থাকে। প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা,ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন এবং সম্ভাব্য দায়ীদের বিষয়ে আংশিক তথ্য প্রকাশ পেলেও পূর্ণাঙ্গ সত্য এখনো অন্ধকারেই রয়ে গেছে।আর এই অসম্পূর্ণতা থেকেই জন্ম নিয়েছে সন্দেহ,বিতর্ক এবং অবিশ্বাস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১,৪০০ জন নিহতের মধ্যে ৬৬ শতাংশ মানুষ ৭.৬২ মিলিমিটার মিলিটারি গ্রেড বুলেটে নিহত হয়েছেন।এটি কোনো সাধারণ তথ্য নয়।এই ধরনের গুলি সাধারণ নাগরিকের হাতে থাকার কথা নয়; এটি মূলত সামরিক বা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর অস্ত্রশস্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত।ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে—এই অস্ত্র কারা ব্যবহার করেছে? কোন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা হয়েছে? আদেশদাতা কে ছিলেন?এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ছাড়া কোনো তদন্তই বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে না। সরকারি হিসাবে নিহতদের মধ্যে ৮৪৬ জন ছাত্র ও সাধারণ জনগণ বলে উল্লেখ থাকলেও বাকি শত শত মানুষের পরিচয় অস্পষ্ট।তারা কি রাজনৈতিক কর্মী,নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, নাকি সম্পূর্ণ নিরীহ পথচারী?রাষ্ট্র যদি নিহতদের পরিচয় স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়,তবে পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যা হয়—মানুষ নয়।আর মানুষহীন পরিসংখ্যান বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো শর্টগান ও পিস্তলের গুলিতে নিহতদের প্রসঙ্গ।কারা এই অস্ত্র ব্যবহার করেছে,কোন পক্ষ থেকে গুলি চালানো হয়েছে,কিংবা সংঘর্ষের প্রকৃতি কী ছিল—এসব বিষয়ে প্রতিবেদনের নীরবতা প্রশ্নকে আরও জোরালো করেছে।একইভাবে ২০ শতাংশ নিহত “অন্যান্য সহিংসতায়” মারা গেছেন বলা হলেও সেই সহিংসতার প্রকৃতি ব্যাখ্যা না থাকায় সত্যের জায়গায় অনুমানই জায়গা করে নিচ্ছে। প্রতিবেদনে রাজনৈতিক সংগঠন ও পুলিশের কিছু সদস্যের সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হলেও নাম-পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে তদন্তের স্বার্থে কিছু তথ্য গোপন রাখা হতে পারে—কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে দায় নির্ধারণে অস্পষ্টতা ন্যায়বিচারের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।অপরাধী যদি পরিচয়হীন…
সিলেট জেলা প্রতিনিধি।।সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদসহ মোট সাতটি পদে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা জয়লাভ করেছেন।অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদকসহ ১০টি পদে আওয়ামী লীগপন্থি এবং তিনটি পদে জামায়াতপন্থি আইনজীবীরা বিজয়ী হয়েছেন।২৪টি পদের মধ্যে চারটি পদের বিজয়ীদের দলীয় পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রোববার ভোটগ্রহণ শেষে সোমবার সকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছয়ফুল আলম আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।নির্বাচনে মোট ১ হাজার ৬৬৫ জন ভোটারের মধ্যে ১ হাজার ৩৩৪ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচনে সভাপতি পদে গোলাম ইয়াহইয়া চৌধুরী (সুহেল) ৫৭৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।সাধারণ সম্পাদক পদে জুবায়ের বখত জুবের ৩৪৮ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। অন্যান্য পদে বিজয়ীরা হলেন— সিনিয়র সহসভাপতি পদে (আ.লীগ) পান্না লাল দাশ ৪৩৮ ভোট, সহসভাপতি পদে (আ.লীগ) আব্দুস সোয়েব আহমদ ৫১০ ভোট, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক-১ পদে (বিএনপি) আব্দুল মুকিত (অপি) ৩১৩ ভোট এবং যুগ্ম সম্পাদক-২ পদে (বিএনপি) হেদায়েত হোসেন তানবীর ৪৮৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ক্রীড়া ও সমাজবিষয়ক সম্পাদক পদে (জামায়াত) মঈনুল ইসলাম ৫৮১ ভোট,সহক্রীড়া ও সমাজসেবা সম্পাদক পদে (আ.লীগ) দেবব্রত চৌধুরী লিটন ৬৮৯ ভোট,লাইব্রেরি সম্পাদক পদে (আ.লীগ) ঝুমকি পুরকায়স্থ ৬৭৮ ভোট পান। প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে (জামায়াত) সৈয়দ ফেরদৌস আহমদ ৭২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।সহকারী নির্বাচন কমিশনার পদে আবুল কালাম আজাদ রিপন ৫৯৭ ভোট ও নাজমুল ইসলাম ৫৭৮ ভোট পান। মহিলাবিষয়ক সম্পাদক পদে (আ.লীগ) সোনিয়া জেরীন চৌধুরী ৬৬২ ভোট পেয়ে জয়ী হন এবং সৈয়দা হেলেন বেগম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।সহসম্পাদক পদে (বিএনপি) জাহিদুল হক জাবেদ ৯২০ ভোট,ওয়ায়েছ কুরুনী উজ্জ্বল ৬৯৪ ভোট এবং জিয়াউল হক মোস্তাক ৬৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া কার্যনির্বাহী কমিটির সাতটি সদস্য পদে চারজন আওয়ামী লীগ,দুজন বিএনপি এবং একজন জামায়াতপন্থি আইনজীবী বিজয়ী হয়েছেন।নির্বাচিত সদস্যরা হলেন—…
সর্বশেষ সংবাদ :———