নির্বাচন যখন আস্থাহীনতার প্রতীকে পরিণত হয়
মাজহারুল ইসলাম।।একটি রাষ্ট্রের গণতন্ত্রকে বিচার করার সবচেয়ে বড় মানদণ্ড হলো নির্বাচন।অথচ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে নির্বাচন এখন উৎসব নয়,বরং অবিশ্বাস, অভিযোগ ও তিক্ততার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ পেরিয়ে ২০২৬—প্রতিটি নির্বাচন যেন নতুন একটি বিতর্কের নাম হয়ে ইতিহাসে জায়গা করে নিচ্ছে। এটি শুধু রাজনৈতিক ব্যর্থতা নয়; এটি রাষ্ট্রীয় আস্থার গভীর সংকটের প্রতিফলন। ২০১৪ সালের নির্বাচনকে মানুষ মনে রেখেছে “ভোটারবিহীন নির্বাচন” হিসেবে।ভোটকেন্দ্র ছিল,ব্যালট ছিল,কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না।গণতন্ত্রের প্রাণ যেখানে জনগণের অংশগ্রহণ,সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন মূলত গণতন্ত্রের শূন্য খোলস ছাড়া কিছু নয়। ২০১৮ সালে পরিস্থিতি আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়। “রাতের ভোট” শব্দটি শুধু রাজনৈতিক স্লোগান নয়,বরং জনগণের মনে গেঁথে যাওয়া সন্দেহের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।নির্বাচন যদি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যেখানে ভোটার বিশ্বাসই করতে না পারে তার ভোট সে নিজে দিয়েছে কিনা—তবে সেই ব্যবস্থাকে গণতান্ত্রিক বলা কঠিন। ২০২৪ সালের নির্বাচনকে বলা হয় “ডামি নির্বাচন”। প্রতিযোগিতা থাকলেও বাস্তব প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনুপস্থিত—এমন ধারণা যখন জনমনে জন্ম নেয়,তখন নির্বাচন আর জনগণের ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যম থাকে না; তা পরিণত হয় পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতায়। আর এখন ২০২৬। নতুন শব্দ—“ইঞ্জিনিয়ারিং নির্বাচন”। শব্দটি নিজেই ভয়ঙ্কর।এর অর্থ দাঁড়ায়,ফলাফল জনগণের ইচ্ছা থেকে নয়,বরং পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়েছে—এমন সন্দেহ মানুষের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে।অভিযোগ সত্য হোক বা না হোক,সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো জনগণ বিশ্বাস হারাচ্ছে।আর গণতন্ত্রে বিশ্বাস হারানোই সবচেয়ে বড় বিপদ। রাষ্ট্র,নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক দলগুলো হয়তো নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে পারে,কিন্তু প্রশ্ন হলো—জনগণ কি বিশ্বাস করছে? কারণ গণতন্ত্র কাগজে নয়, বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে।ভোট যদি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা হয়ে যায়,তবে সংসদ শক্তিশালী হলেও গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো,প্রতিটি নির্বাচনের পর অভিযোগ জমা হচ্ছে,কিন্তু আস্থার সংকট কমছে না। ক্ষমতাসীনরা বিরোধীদের দায়ী করছে,বিরোধীরা পুরো…
![]()












































সর্বশেষ সংবাদ :———