প্রতিনিধি ১ জানুয়ারি ২০২৬ , ৩:৩৩:৪৫ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের (পিআইও) অধীনে পরিচালিত টিআর/কাবিখা প্রকল্পের ৩১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় অফিস সহকারী মশিউর রহমান (৪০) গ্রেফতার করা হয়েছে।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
গ্রেফতারকৃত: মশিউর রহমান,দিনাজপুরের বিরল উপজেলার বৈদ্যনাথপুর গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে।
দায়িত্ব: ডিমলা পিআইও অফিস সহকারী, প্রকল্পের হিসাবরক্ষক।
ধাপসমূহ:
১. ২৪ ডিসেম্বর ও ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ — মশিউর রহমান দুই দফায় সোনালী ব্যাংক, ডিমলা শাখা থেকে চেক জাল করে মোট ৩০,৮৩,৫০০ টাকা উত্তোলন করে গা-ঢাকা দেয়।
২. অফিসে অনুপস্থিতির কারণে অফিস প্রধান ঘটনা জানতে পারেন।
৩. ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ — প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশরাফুল হক বাদী হয়ে ডিমলা থানায় প্রতারণার মামলা দায়ের করেন।
৪. আত্মগোপনে থাকা আসামি ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ দুপুরে রংপুর সিও বাজার এলাকার একটি বাসা থেকে র্যাব-১৩ ও সিপিসি-২ যৌথ অভিযানে গ্রেফতার।
গ্রেফতার পর তাকে ডিমলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আইনি বিশ্লেষণ
১. অপরাধের প্রকৃতি:
অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণা,যা বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৪০৬ ও ৪২০ এর আওতায় আসতে পারে।
জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে সরকারি তহবিল উত্তোলন করা হয়েছে,যা ফৌজদারি অপরাধ।
২. প্রকল্প ও তহবিল ব্যবস্থাপনা লঙ্ঘন:
সরকারি প্রকল্পের হিসাবরক্ষক দায়িত্ব পালন করেও নিয়মিত তহবিল নিয়ন্ত্রণ ব্যর্থ।
চেক উত্তোলন ও ব্যাংকিং ট্রানজেকশন সতর্কতা ও তদারকির অভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
৩. সংশ্লিষ্টদের দায়:
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের তদারকি যথাযথ হলে এমন বড় টাকা আত্মসাৎ সম্ভব হতো না।
সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব
জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত: সরকারি তহবিলের এমন বিশৃঙ্খল ব্যবহার সাধারণ মানুষের আস্থা কমায়।
ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রকল্পে অনিয়মের ফলে সেবা গ্রহণকারীদের ক্ষতি হয়।
অর্থনৈতিক ক্ষতি: ৩১ লাখ টাকা সরকারি তহবিল থেকে অবৈধভাবে সরানো হয়েছে,যা সরাসরি প্রকল্পের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।
নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণমূলক বিশ্লেষণ
সরকারি তহবিল ব্যবস্থাপনায় অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা প্রকাশ পায়।
ব্যাংকিং ট্রানজেকশন ও হিসাবরক্ষণ পর্যবেক্ষণ না থাকায় সরকারি তহবিলের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে।
প্রাথমিকভাবে দেখা যাচ্ছে—স্বল্পপরিসরে রিস্ক ম্যানেজমেন্ট প্রয়োগ করলে বড় পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ আটকানো সম্ভব হতো।
উপসংহার
মশিউর রহমানের গ্রেফতারের ঘটনা প্রমাণ করে—
সরকারি প্রকল্পে আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছতা অপরিহার্য।
আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে, যাতে অন্য কর্মকর্তাদের মধ্যে নিরাপত্তা ও দায়িত্ববোধ নিশ্চিত হয়।
জনগণের আস্থা ফেরানোর জন্য প্রকল্প ও ব্যাংকিং তদারকি জোরদার করতে হবে।
















