নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হলেও গত কয়েক দশকে দখল,ভরাট,অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও পলি জমার কারণে দেশের অসংখ্য খাল ও জলপথ নাব্যতা হারিয়েছে।এমন প্রেক্ষাপটে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের ঘোষণা রাজনৈতিক ও পরিবেশ মহলে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন,পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এটি দেশের পানি ব্যবস্থাপনা ও কৃষি অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে, তবে বাস্তবায়নে রয়েছে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।
খাল পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয়তা
সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী,দেশে প্রায় ৪০–৫০ হাজার খাল থাকলেও এর বড় অংশ বর্তমানে মৃতপ্রায় বা দখল হয়ে গেছে।আনুমানিক ১০–১২ হাজার কিলোমিটার খাল নাব্যতা হারিয়েছে এবং বহু খাল মানচিত্র থেকেও বিলীন হওয়ার পথে।
পানি বিশেষজ্ঞদের মতে,খালগুলোই ছিল প্রাকৃতিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা।এগুলো ভরাট হওয়ায়—
শহরে জলাবদ্ধতা বাড়ছে
কৃষি সেচব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে
ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ বাড়ছে
জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে
২০ হাজার কিলোমিটার খনন: কতটা বাস্তবসম্মত?
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করতে হলে দেশের প্রায় অর্ধেক অকার্যকর খাল পুনরুদ্ধার করতে হবে।পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক কর্মকর্তারা বলছেন, এটি সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া বাস্তবায়ন কঠিন।
মূল চ্যালেঞ্জগুলো হলো—
১. দখলমুক্ত করা: জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী হাজার হাজার দখলদার ইতোমধ্যে চিহ্নিত। উচ্ছেদ কার্যক্রম রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে সংবেদনশীল।
২. রক্ষণাবেক্ষণ সংকট: অতীতে খাল খননের পর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় অনেক প্রকল্প ব্যর্থ হয়েছে।
৩. অর্থায়ন: বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে কয়েক লাখ কোটি টাকার সমপরিমাণ ব্যয় হতে পারে।
৪. সমন্বয়হীনতা: স্থানীয় সরকার, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিটি করপোরেশন ও ভূমি প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় জরুরি।
সম্ভাব্য সুফল
যদি পরিকল্পনাটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে—
জলাবদ্ধতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে
কৃষি উৎপাদন বাড়বে
অভ্যন্তরীণ নৌপথ পুনরুজ্জীবিত হবে
বন্যা নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা শক্তিশালী হবে
পরিবেশবিদদের মতে, শুধু খনন নয়; খালের প্রাকৃতিক প্রবাহ, সংযোগ ও জলাধার ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন,খাল পুনরুদ্ধারকে উন্নয়ন প্রকল্প নয়,বরং জাতীয় পানি নিরাপত্তা কর্মসূচি হিসেবে নিতে হবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল ম্যাপিং,আইনি সুরক্ষা এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করলে খনন কার্যক্রম দীর্ঘস্থায়ী ফল দেবে না।
উপসংহার
বাংলাদেশের ভৌগোলিক বাস্তবতায় খাল পুনরুদ্ধার শুধু পরিবেশগত নয়,অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রয়োজনও বটে। ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হলে তা হতে পারে দেশের পানি ব্যবস্থাপনায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ—তবে এর সফলতা নির্ভর করবে দখলমুক্তকরণ,সুশাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের ওপর।
![]()


















































সর্বশেষ সংবাদ :———