জাতীয়

১৬ বছরে উন্নয়ন বনাম দেড় বছরে ঋণ-বৃদ্ধি: ফলাফল কোথায়?

  প্রতিনিধি ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১:২৪:৩৭ প্রিন্ট সংস্করণ

১৬ বছরে উন্নয়ন বনাম দেড় বছরে ঋণ-বৃদ্ধি: ফলাফল কোথায়?

নিজস্ব প্রতিবেদক।।শেখ হাসিনার ১৬ বছরে দেশের অবকাঠামো,বিদ্যুৎ,যোগাযোগ ও সামাজিক নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন হয়েছে।সেই সময়ে বৈদেশিক ঋণ নেওয়া হলেও তা দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে বিনিয়োগ হয়েছে।কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাত্র দেড় বছরে নেওয়া বৈদেশিক ঋণ আগের সময়ে নেওয়ার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ: এই ঋণ মূলত বাজেট ঘাটতি পূরণ,রিজার্ভ সাপোর্ট এবং আগের দায় পরিশোধে ব্যবহার হয়েছে।ফলশ্রুতিতে, নতুন অবকাঠামো বা উৎপাদনশীল প্রকল্পে নগণ্য উন্নয়ন হয়েছে।

আইনি বিশ্লেষণ

সংসদীয় নজরদারি: দেড় বছরে নেওয়া ঋণ কি যথাযথভাবে সংসদে উপস্থাপিত এবং অনুমোদিত হয়েছে?

স্বচ্ছতা ও অডিট: প্রকল্পভিত্তিক ব্যয় ও ঋণ ব্যবহারের স্বাধীন অডিট কোথায়?

আইনগত দায়: উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ না করে ঋণ গ্রহণ করলে এটি কি Fiscal Responsibility এবং Public Finance Management নীতির লঙ্ঘন নয়?

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

সরকারের সমর্থকরা বৈশ্বিক মন্দা,যুদ্ধ-পরবর্তী অর্থনৈতিক চাপের অজুহাত দিচ্ছেন।বিরোধীরা বলছেন,দ্রুত ঋণ নেওয়া নীতিগত ব্যর্থতার প্রমাণ।রাজনৈতিক আস্থা কমতে পারে,যদি জনগণ দৃশ্যমান উন্নয়ন না দেখেন।

সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব

মূল্যস্ফীতি ও টাকার অবমূল্যায়ন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়েছে।তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ কম এবং বিনিয়োগ প্রবাহ সীমিত।সামাজিক নিরাপত্তা ব্যয় থাকলেও সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রায় প্রভাব সীমিত।

আইন-শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক প্রভাব

অর্থনৈতিক চাপ আইন-শৃঙ্খলায় প্রভাব ফেলতে পারে।

দুর্নীতি প্রতিরোধ ও স্বচ্ছতা না থাকলে জনগণের আস্থা সংকুচিত হয়।

দেশের ভবিষ্যৎ

১. বৈদেশিক ঋণের স্বচ্ছতা এবং সংসদীয় নজরদারি জরুরি।

২. উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ,রপ্তানি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

৩. মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে।

৪. ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর ঋণের বোঝা কমাতে নীতিগত দিক থেকে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

দেড় বছরে নেওয়া দ্বিগুণ ঋণের বিনিময়ে যদি দৃশ্যমান উন্নয়ন না আসে,তাহলে এটি শুধু অর্থনৈতিক নয়,আইনি ও নৈতিক প্রশ্নও তৈরি করে।রাষ্ট্রীয় স্বচ্ছতা,জবাবদিহি এবং উৎপাদনমুখী নীতি ছাড়া দেশের ভবিষ্যৎ সংকটে পড়তে পারে।

আরও খবর

Sponsered content