প্রতিনিধি ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ , ১০:২২:০১ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতা-বিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার দীর্ঘ ১৩ বছর পলাতক থাকার পর আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন।ঘটনাটি দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁর অনুপস্থিতিতে বিচার সম্পন্ন হয় এবং ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি রায়ে তাঁকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।এটি ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে ঘোষিত প্রথম রায়।রায়ের পর আপিলের জন্য নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে তিনি আত্মসমর্পণ বা আপিল কোনোটিই করেননি।ফলে ট্রাইব্যুনালের রায়ই চূড়ান্ত রায়ে পরিণত হয়।
তবে ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ২২ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা-২ শাখা থেকে জারি করা এক আদেশে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের দণ্ডাদেশ এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়।আদেশে বলা হয়, আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিল দায়েরের শর্তে এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে।
এই আদেশের পর সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরে ঢাকায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।কিন্তু মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে কারাগারে না রেখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তাঁর ক্ষেত্রে ‘যেমন আছেন,তেমন থাকার’ নির্দেশ দেন।এর ফলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি মুক্ত অবস্থায় থাকবেন।
বাচ্চু রাজাকারের জন্ম ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলার খরদিয়া গ্রামে।তিনি কওমি মাদ্রাসায় পড়াশোনার পর রাজেন্দ্র কলেজে ভর্তি হন।মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি আলী আহসান মুজাহিদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন এবং রাজাকার বাহিনী ও পরবর্তীতে আলবদর বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।নিজ গ্রামের তরুণদের নিয়ে তিনি ‘খরদিয়া মিলিটারি’ নামে একটি স্বতন্ত্র মিলিশিয়াও গড়ে তোলেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁর বিরুদ্ধে অপহরণ,নির্যাতন,হত্যা ও ধর্ষণসহ মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়।এর মধ্যে সাতটি অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।চারটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় বাকি অভিযোগগুলোর জন্য আলাদা কারাদণ্ড দেওয়া হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে,সুপ্রিম কোর্টে আপিলে যদি মৃত্যুদণ্ড বাতিল হয়,তবে অন্য কোনো কার্যকর দণ্ড না থাকায় তিনি মুক্ত ব্যক্তি হিসেবে বের হয়ে আসতে পারেন—যা বিচারব্যবস্থা ও যুদ্ধাপরাধ বিচারের নৈতিক ভিত্তি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে।
এই ঘটনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা,বিচারহীনতা এবং জাতির স্মৃতিভ্রংশ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

















