প্রতিনিধি ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৩:১২:১৯ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি)-র দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ সম্প্রতি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় “সেভেন সিস্টার্স” রাজ্যগুলোকে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয় দিয়ে ভারত থেকে আলাদা করার হুমকি দিয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেছেন,ভারত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রকারীদের আশ্রয় দিচ্ছে।তার এই মন্তব্য ভারতের মধ্যে এবং দেশের ভেতরে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
সাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে,এনসিপির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা আরও তীব্র হয়েছে,বিশেষ করে দলের জামায়াতে ইসলামীর সাথে সম্ভাব্য জোট নিয়ে।এই পরিকল্পনার কারণে কয়েকজন শীর্ষ নারী নেতা এবং অন্তত ৩০ জন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন বা পদত্যাগ করেছেন।
পদত্যাগকারী প্রধান নারী নেত্রীদের তালিকা:
১. তাসনিম জারা – সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব।
পদত্যাগের কারণ: স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা।
২. তাজনূভা জাবীন – যুগ্ম আহ্বায়ক।
পদত্যাগের কারণ: জামায়াতের সঙ্গে জোটের প্রক্রিয়াগত অসন্তোষ।
৩. সামান্থা শারমিন – সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক।
পদত্যাগের কারণ: জামায়াতকে “নির্ভরযোগ্য মিত্র নয়” বলে মন্তব্য।
এই পদত্যাগগুলো দলীয় কৌশল,নেতৃত্ব এবং জোটবদ্ধতা নিয়ে গভীর মতবিরোধের প্রকাশ।
বিশ্লেষণ:
১. রাজনৈতিক প্রভাব:
শীর্ষ নারী নেত্রীদের পদত্যাগ দলের ক্ষমতা ভারসাম্যকে ভেঙে দিয়েছে।বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলীয় সমন্বয় ও নির্বাচনী কার্যক্রমে বড় ধরণের শূন্যতা তৈরি হচ্ছে।
নেতা ও সমন্বয়কারীর অভাবে দলীয় Grassroots কার্যক্রম এবং নির্বাচন প্রস্তুতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
২. অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা:
পদত্যাগ মূলত জোটবদ্ধতা,কৌশলগত মতবিরোধ এবং নেতৃত্বের স্বচ্ছতার অভাব-এর কারণে।
দলীয় নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে।
৩. সম্ভাব্য ফলাফল:
দ্রুত দলীয় পুনর্গঠন না হলে এনসিপি রাজনৈতিক শূন্যতার দিকে ধাবিত হবে।
অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে,শীর্ষ নেত্রীদের কিছু অংশ দলত্যাগ বা নতুন জোটে যোগদানের দিকে যেতে পারে।
উপসংহার:
হাসনাত আব্দুল্লাহর “সেভেন সিস্টার ভাঙা” মন্তব্য এবং এনসিপির শীর্ষ নারী নেত্রীদের পদত্যাগ দলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও রাজনৈতিক সংকটকে দৃশ্যমান করেছে।এই ঘটনাগুলো এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় কার্যক্রম,নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থানকে ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্থিতিশীল করেছে।
















