নিজস্ব প্রতিবেদক।।টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার তরুণী মায়া আক্তারের জীবন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।প্রেম,বিয়ে এবং উন্নত জীবনের রঙিন স্বপ্ন দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত তাকে নিঃস্ব করে পালিয়ে গেছে এক চীনা যুবক।বিশ্বাস আর ভালোবাসার নির্মম প্রতারণার শিকার হয়ে সামাজিক মাধ্যমে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন এই তরুণী। 💔
প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারানো
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,প্রায় দুই দিন আগে ওই চীনা নাগরিক মায়াকে চীনে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঘাটাইলের বাড়ি থেকে ঢাকায় নিয়ে আসে।ঢাকায় এসে তারা একটি হোটেলে ওঠে।কিন্তু সেখানে ঘটে যায় ভয়ংকর প্রতারণা।
সুযোগ বুঝে মায়ার কাছে থাকা প্রায় ২ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১ লাখ টাকা নিয়ে হঠাৎ করেই উধাও হয়ে যায় সেই বিদেশি যুবক।এরপর থেকেই তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতারকের বিষয়ে মায়ার কাছে এখন কেবল একটি চীনা নাগরিক পরিচয়পত্রের ছবিই একমাত্র সূত্র হিসেবে রয়েছে।
টিকটক লাইভে কান্নায় ভেঙে পড়েন মায়া
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে লাইভে এসে ভেঙে পড়েন মায়া।চোখের জল আর অসহায় কণ্ঠে তিনি জানান,“আমি তাকে বিশ্বাস করেছিলাম।ভেবেছিলাম সে সত্যিই আমাকে ভালোবাসে।কিন্তু সে আমার সব স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে পালিয়ে গেছে।আমার সবকিছু নিয়ে আমাকে মাঝপথে ফেলে রেখে গেছে।”
বাবা-মায়ের কাছে আবেগঘন ক্ষমা প্রার্থনা
লাইভে এক পর্যায়ে নিজের বাবা-মায়ের উদ্দেশ্যে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন—“বাবা-মা, আমি তোমাদের অনেক ভালোবাসি। কখনো বলতে পারিনি।যদি কোনোদিন তোমাদের কষ্ট দিয়ে থাকি,আমাকে ক্ষমা করে দিও।আমি তোমাদের ভালো সন্তান হতে পারিনি।তোমাদের কাছে আর কিছু চাই না,শুধু দোয়া করো যেন আমি বেঁচে থাকতে পারি।”
সতর্কবার্তা সমাজের জন্য
এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল— সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা বিদেশি পরিচয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা প্রতারণার ফাঁদ কতটা ভয়ংকর হতে পারে।স্বপ্ন দেখিয়ে বিশ্বাস অর্জন করে অর্থ ও মূল্যবান সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার এমন ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে।
স্থানীয়দের দাবি,এই প্রতারককে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন,যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো তরুণী এমন প্রতারণার শিকার না হন। ⚖️
![]()


















































সর্বশেষ সংবাদ :———