অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট।।যুক্তরাষ্ট্রে এপস্টিন-সংক্রান্ত নথি ফাঁস এবং তা ঘিরে পিটার ম্যান্ডেলসনকে ওয়াশিংটনে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় সৃষ্ট বিতর্কে ব্রিটিশ রাজনীতি টালমাটাল।এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।লেবার পার্টির ভেতরে সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে নীরব আলোচনা শুরু হয়েছে। আলোচনায় সবচেয়ে জোরালোভাবে উঠে আসছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের নাম।
সংকটের সূত্রপাত
নিউইয়র্কের কারাগারে ২০১৯ সালে মারা যাওয়া কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে পিটার ম্যান্ডেলসনের পুরোনো সম্পর্কের বিষয়টি নতুন করে সামনে আসার পর থেকেই লেবার পার্টির ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়।বিতর্কের জেরে প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের চিফ অব স্টাফ মরগান ম্যাকসুইনি দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেন।যদিও এই পদক্ষেপকে প্রধানমন্ত্রীর সুরক্ষার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবু সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে,স্টারমারের টিকে থাকার সম্ভাবনা এখন ‘ফিফটি-ফিফটি’।এমন পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা ত্বরান্বিত হয়েছে।
কে এই শাবানা মাহমুদ
৪৫ বছর বয়সী শাবানা মাহমুদ বার্মিংহামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পারিবারিক শিকড় পাকিস্তান ও পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের মিরপুর অঞ্চলে।অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের লিঙ্কন কলেজ থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর ব্যারিস্টার হিসেবে পেশাজীবন শুরু করেন।
২০১০ সালে প্রথমবারের মতো পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। রুশনারা আলী ও ইয়াসমিন কোরেশির সঙ্গে যুক্তরাজ্যের প্রথম দিককার মুসলিম নারী এমপিদের একজন ছিলেন শাবানা।২০২৫ সাল থেকে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন এবং স্টারমারের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত।
কঠোর অভিবাসন নীতি
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শাবানা মাহমুদ অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।তিনি স্থায়ী বসবাসের আবেদনের ন্যূনতম সময়সীমা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার প্রস্তাব দিয়েছেন।তাঁর ভাষায়,যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস ‘অধিকার নয়, বরং একটি বিশেষ সুযোগ’।
এই অবস্থান লেবার পার্টির ভেতরে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে তিনি মধ্যপন্থী ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন,অন্যদিকে দলের প্রগতিশীল অংশের সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
নেতৃত্বের দৌড়ে কারা
শাবানা মাহমুদ ছাড়াও সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন—
ওয়েস স্ট্রিটিং, স্বাস্থ্যমন্ত্রী; দক্ষ বক্তা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী নেতা হিসেবে পরিচিত।
অ্যাঞ্জেলা রেনার,সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী; তৃণমূলভিত্তিক জনপ্রিয়তা থাকলেও কর–সংক্রান্ত বিতর্কে কিছুটা চাপে।
অ্যান্ডি বার্নহ্যাম,গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র; তবে এমপি না হওয়ায় সাংবিধানিক বাধা রয়েছে।
এড মিলিব্যান্ড,জ্বালানিমন্ত্রী ও সাবেক দলীয় প্রধান; অভিজ্ঞতার কারণে তাঁর নামও ঘুরে ফিরে আসছে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করতে অন্তত ৮১ জন লেবার এমপির সমর্থন প্রয়োজন।এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো চ্যালেঞ্জ ঘোষণা হয়নি।
ইতিহাস গড়ার সম্ভাবনা
যদি নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং শাবানা মাহমুদ নির্বাচিত হন,তবে তিনি হবেন যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম প্রধানমন্ত্রী।তবে আপাতত সবকিছুই নির্ভর করছে কিয়ার স্টারমারের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ওপর।
![]()


















































সর্বশেষ সংবাদ :———