নিজস্ব প্রতিবেদক।।বরিশালের এক গৃহকর্মী নারী সৌদি আরব থেকে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে দেশে ফেরার পর তার ওপর হওয়া নির্যাতনের ভয়াবহ তথ্য সামনে এসেছে।চারবার হাতবদল, শারীরিক ও যৌন নির্যাতন,বেতন না পাওয়া এবং অমানবিক জীবনযাপনের অভিযোগ তুলে বর্তমানে তিনি রাজধানীর আশকোনা এলাকার ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে অবস্থান করছেন।
জানা গেছে,২০২৪ সালে এক দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে যান ওই নারী।সেখানে পৌঁছানোর পর প্রথমে তাকে একটি অফিসে রাখা হয় এবং পরে একের পর এক বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে পাঠানো হয়।ভাষাগত সমস্যার কারণে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি তিনি।দীর্ঘদিন খাবার না পেয়ে ক্ষুধার জ্বালায় ডাস্টবিন থেকে খাবার কুড়িয়ে খেতে বাধ্য হন। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন,তার তিন মাসের বেতন আগেই নিয়োগকর্তাকে পরিশোধ করা হলেও তিনি নিজে কোনো টাকা পাননি।
পরবর্তীতে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মদিনায় পালিয়ে যান এবং খণ্ডকালীন কাজ শুরু করেন।পরে মক্কায় গিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করলে পুলিশি হেফাজতেই জানতে পারেন তিনি অন্তঃসত্ত্বা।অসুস্থ অবস্থায় তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির সহকারী পরিচালক শরীফুল ইসলাম হাসান জানান,বিদেশ থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে ফেরা নারীদের জন্য দেশে কোনো নির্দিষ্ট পুনর্বাসন কর্মপদ্ধতি না থাকায় তারা নানা সংকটে পড়ছেন।
এদিকে,১৩ দিন আগে সৌদি আরব থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় দেশে ফেরা আরেক নারীকে পাসপোর্ট ও পরিচয়পত্র না থাকায় স্বজনরা শনাক্ত করতে পারেননি।পরে পুলিশ ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে তার পরিচয় নিশ্চিত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মানবাধিকারকর্মীদের মতে,বিদেশগামী নারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা,োদালাল চক্র নিয়ন্ত্রণে আনা এবং দেশে ফেরার পর পুনর্বাসন ও আইনি সহায়তা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।
![]()




















































সর্বশেষ সংবাদ :———