প্রতিনিধি ৬ জানুয়ারি ২০২৬ , ১২:৫৪:১৪ প্রিন্ট সংস্করণ
মাজহারুল ইসলাম।।তাহরিমা জান্নাত সুরভীর ঘটনা আমাদের বিচারব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনে এক কঠিন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে—প্রভাবশালী পরিচয় থাকলে কি ন্যায়বিচার বিলম্বিত বা বিকৃত হতে পারে?এই মামলার প্রাথমিক পর্যায়ে যা ঘটেছে,তা উদ্বেগজনক এবং আত্মসমালোচনার দাবি রাখে।

একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক নারী ভিকটিম যখন নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে থানায় যায়,তখন তার নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়াই রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব।কিন্তু এখানে আমরা দেখি ঘুষের অভিযোগ,আলামত নষ্ট হওয়ার ঘটনা এবং ভিকটিমকে উল্টো আসামি বানানোর প্রবণতা।এটি শুধু একটি মামলার ব্যর্থতা নয়; এটি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার প্রতিচ্ছবি।
রিমান্ড আবেদনে বয়স পরিবর্তন,বিলম্বিত গ্রেপ্তার দেখানো এবং মিডিয়ায় একতরফা প্রচারণা—এসবই ‘ক্যামেরা ট্রায়াল’-এর আশঙ্কা তৈরি করে।বিচার আদালতের রায় যেন সংবাদ শিরোনামে নয়,বরং প্রমাণ ও আইনের ভিত্তিতে হয়—এটাই প্রত্যাশিত।
এমন প্রেক্ষাপটে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের হস্তক্ষেপ কেবল একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনের প্রতিফলন।আইনের শাসন তখনই কার্যকর হয়,যখন ভিকটিম পরিচয়হীন হলেও ন্যায়বিচার পায় এবং অভিযুক্ত যত প্রভাবশালীই হোক,আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে না পারে।
সুরভী মামলার আইনি নিষ্পত্তি তাই একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে—যদি এটি সত্যিই স্বচ্ছ,নিরপেক্ষ এবং মানবাধিকারসম্মত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়।এই ঘটনাকে ঘিরে অযথা বিতর্ক নয়; বরং ভবিষ্যতে যেন কোনো ভিকটিম প্রভাব ও ক্ষমতার কাছে হারিয়ে না যায়,সেটাই হওয়া উচিত আমাদের সম্মিলিত প্রত্যাশা।

















