প্রতিনিধি ৬ জানুয়ারি ২০২৬ , ১২:২৪:৩০ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এক তরুণীর বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগকে ঘিরে অভিযুক্ত সাংবাদিকের আগাম জামিন,পুলিশি ভূমিকা ও তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ভুক্তভোগী সুরভী ও তাঁর পরিবারের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পরও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার না করে উল্টো তাঁদের হেনস্তা করা হচ্ছে।

ইন্টারভিউয়ের কথা বলে নির্জন স্থানে নেওয়ার অভিযোগ
ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী,গত ১৮ নভেম্বর বাংলাদেশ প্রতিদিন মাল্টিমিডিয়ার সাংবাদিক নাঈমুর রহমান দুর্জয় গাজীপুরের চান্দরা চৌরাস্তায় একটি ইন্টারভিউ নেওয়ার কথা বলে সুরভীকে ডেকে নেন।পরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁকে কালিয়াকৈর থানার সফিপুর বাজারের পাশে,মৌচাক ইউনিয়ন পরিষদের ঠিক বিপরীত একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়।সুরভী চিৎকার করলে তিনি কোনোভাবে সেখান থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন।
থানায় মামলা,তবে গ্রেপ্তার হয়নি অভিযুক্ত
ঘটনার পর ২৬ নভেম্বর সুরভীর মা ছামিতুন আক্তার বাদী হয়ে নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের বিরুদ্ধে কালিয়াকৈর থানায় ধর্ষণচেষ্টার মামলা দায়ের করেন।তবে মামলার পরও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ।বরং পুলিশি আচরণে ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবার বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
আগাম জামিন ও হুমকির অভিযোগ
মামলা দায়েরের পরপরই অভিযুক্ত সাংবাদিক নাঈমুর রহমান দুর্জয় আদালত থেকে আগাম জামিন পান।অভিযোগ রয়েছে, জামিন পাওয়ার পর তিনি সুরভী ও তাঁর পরিবারকে হুমকি-ধমকি দেন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিডিয়া ট্রায়াল চালান।
তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ
এদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালিয়াকৈর থানার এসআই ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে সুরভীর কাছে ঘুষ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে।এ অভিযোগে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন
ভুক্তভোগী পক্ষের ভাষ্য,ধর্ষণচেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার না করা এবং তদন্তে গড়িমসি আইনের শাসনের পরিপন্থী। মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন মহল মনে করছেন,মামলাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা জরুরি।
কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে—দৃষ্টি এখন সংশ্লিষ্ট মহলের দিকে
এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাংবাদিক,তদন্ত কর্মকর্তা এবং মামলার পরও গ্রেপ্তার না হওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রশাসনিক বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে—সে বিষয়ে দৃষ্টি এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দিকে।বিশেষ করে প্রভাবশালী মহলের ভূমিকা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে কি না,তা নিয়েই জনমনে কৌতূহল ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য,এ প্রতিবেদনে উল্লিখিত সব তথ্য অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থাপিত।তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি।















