প্রতিনিধি ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৮:০০:৪১ প্রিন্ট সংস্করণ
মাজহারুল ইসলাম।।ডিজিটাল যুগে মানুষ সত্য জানার জন্য সবচেয়ে বেশি নির্ভর করে গুগল সার্চ ও এআই-ভিত্তিক সার্চ/সহকারীর ওপর।কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দুটি উচ্চপ্রোফাইল রাজনৈতিক খবরকে কেন্দ্র করে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে—সার্চ ইঞ্জিন ও এআই প্ল্যাটফর্মগুলো পরস্পরবিরোধী সিদ্ধান্ত দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

অভিযোগের প্রেক্ষাপট
ব্যবহারকারীদের দাবি,তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ও বেগম খালেদা জিয়া সংক্রান্ত খবর নিয়ে অনলাইনে প্রকাশিত কনটেন্ট থাকা সত্ত্বেও কিছু সার্চ ও এআই প্ল্যাটফর্ম ‘গুজব’ বা ‘অযাচাইকৃত’ লেবেল দিচ্ছে—কোনো দৃশ্যমান আর্কাইভ রেফারেন্স,টাইমস্ট্যাম্প বা যাচাই-কার্ড দেখানো ছাড়াই।এতে সাধারণ পাঠকের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—এই সিদ্ধান্তের ভিত্তি কী?
সমস্যা কোথায়
১) স্বচ্ছতার ঘাটতি: ‘ভুল’ বা ‘গুজব’ বলার সময় নির্দিষ্ট সূত্র,আর্কাইভ লিংক বা যাচাইয়ের পদ্ধতি প্রকাশ করা হয় না।
২) অ্যাগ্রিগেশন বিভ্রান্তি: কপি/স্ক্র্যাপড কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়লে প্ল্যাটফর্মগুলো অরিজিনাল সোর্স আলাদা করে দেখাতে ব্যর্থ হয়।
৩) রিয়েল-টাইম বনাম স্থায়ী রেকর্ড: অ্যালগরিদমিক সিদ্ধান্ত দ্রুত বদলায়,কিন্তু সংশোধনের ট্রেস (চেঞ্জলগ) থাকে না।
জনস্বার্থে ঝুঁকি
একদিকে ‘ব্রেকিং’—অন্যদিকে ‘গুজব’; এই দ্বন্দ্বে বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট তৈরি হয়।নাগরিক জানে না কোন তথ্য ধরে সিদ্ধান্ত নেবে।রাজনৈতিক খবরের ক্ষেত্রে এই বিভ্রান্তি সামাজিক অস্থিরতাও ডেকে আনতে পারে।
দায়িত্ব কার
প্ল্যাটফর্মের দায়িত্ব: ‘গুজব’ লেবেলের সঙ্গে কারণ,সূত্র ও আর্কাইভ রেফারেন্স প্রকাশ করা।
মিডিয়ার দায়িত্ব: অফিসিয়াল ডোমেইনে স্পষ্ট টাইমলাইন, সংশোধনী ও আর্কাইভ রাখা।
ব্যবহারকারীর দায়িত্ব: স্ক্রিনশট নয়—অরিজিনাল URL যাচাই করা।
নীতিগত প্রস্তাব
প্রতিটি ‘ফ্যাক্ট’ সিদ্ধান্তের সঙ্গে ফ্যাক্ট-কার্ড (কখন, কোন সূত্রে,কীভাবে যাচাই) যুক্ত করা।
অরিজিনাল ডোমেইন ও ক্লোন/কপি সাইট স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা।
ভুল হলে চেঞ্জলগসহ সংশোধন দেখানো।
উপসংহার
এটি কোনো ব্যক্তি বা দলের পক্ষে-বিপক্ষে দাঁড়ানোর প্রশ্ন নয়; এটি ডিজিটাল জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন।সার্চ ইঞ্জিন ও এআই যদি তথ্যের প্রহরী হয়,তবে তাদের সিদ্ধান্তও হতে হবে প্রমাণভিত্তিক ও ব্যাখ্যাসহ।নচেৎ প্রযুক্তি সত্যকে আলোকিত না করে বিভ্রান্তিই বাড়াবে।
















