প্রতিনিধি ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ , ৫:৪২:২৯ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিক পরিচয় থাকলেই অনুমতি ছাড়া ব্যক্তির ছবি বা ভিডিও তোলা যায়—এমন ভুল ধারণা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আইনগত দিক থেকে এটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত।

বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সম্মান সুরক্ষা প্রদান করে।সংবিধানের ৪৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী,‘কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবন,গোপন তথ্য বা ব্যক্তিগত স্থান তার সম্মতি ছাড়া প্রকাশ করা যাবে না।’
আইন ও বাস্তবতা
সাংবাদিক হলেও কেউ এই অধিকারের ঊর্ধ্বে নয়। অনুমতি ছাড়া ছবি বা ভিডিও তোলা বা প্রকাশ করা বেআইনি, বিশেষ করে ব্যক্তিগত জায়গায়—যেমন:
বাড়ি,হাসপাতাল বা ব্যক্তিগত অফিস
লুকিয়ে বা গোপনভাবে করা কর্মকাণ্ড
সম্মানহানিকর বা অপমানজনক অবস্থায়
কিছু সীমিত ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের বৈধভাবে ছবি বা ভিডিও তোলার সুযোগ রয়েছে। যেমন:
পাবলিক প্লেসে জনস্বার্থে সংবাদ সংগ্রহ
কোনো অপরাধ বা অনিয়মের প্রমাণ সংগ্রহ
তবে,এই ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি বা ঘটনা বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা,টার্গেট করা বা অপমানজনকভাবে প্রকাশ করা যাবে না।
প্রযোজ্য আইনসমূহ:
সংবিধান,অনুচ্ছেদ ৪৩ (গোপনীয়তার অধিকার)
ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন,২০১৮
বাংলাদেশ দণ্ডবিধি,১৮৬০ (মানহানি/সম্মানহানি)
প্রয়োজনে অন্যান্য বিশেষ আইন
নাগরিকের অধিকার:
অনুমতি ছাড়া ছবি বা ভিডিও তোলা হলে সরাসরি আপত্তি জানানো
প্রয়োজন হলে থানায় জিডি করা
আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো
আইন বিশেষজ্ঞরা বলেন,“সাংবাদিক পরিচয় কোনো ‘অনুমতি ব্যতীত কারো ছবি বা ভিডিও ধারণ করার লাইসেন্স’ নয়। গোপনীয়তা রক্ষা করা নাগরিকের অধিকার, সাংবাদিকতার নৈতিক দায়িত্বও সমান গুরুত্বপূর্ণ।”
বিশ্লেষণ:
বাংলাদেশে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকলেও তা ব্যক্তিগত অধিকার লঙ্ঘনের মাধ্যম হতে পারবে না। সামাজিক ও রাজনৈতিক নিরাপত্তা,অপরাধ দমন ও ন্যায়বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে মিল রেখে সাংবাদিকদের অবশ্যই নৈতিক দিকটি অনুসরণ করতে হবে।

















