নিজস্ব প্রতিবেদক।।বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ইউটিউব ও ফেসবুকভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহার নিয়ে সচেতন মহলে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।অভিযোগ উঠেছে, “মেহেন্দিগঞ্জ প্রতিদিন” “মেহেন্দিগঞ্জ টাইমস”, “মেহেন্দিগঞ্জ খবর” ও “চ্যানেল বরিশাল” নাম ব্যবহারকারী কয়েকটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সাংবাদিকতার ন্যূনতম জ্ঞান বা প্রশিক্ষণ ছাড়াই বিভিন্ন বিতর্কিত ব্যক্তি ও অপরাধ সংশ্লিষ্টদের সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি,এদের অনেকেই সংবাদ কী,তথ্য যাচাই কীভাবে করতে হয়— সে সম্পর্কে মৌলিক ধারণাও রাখেন না।বরং সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে সামাজিক প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের অভিযোগ উঠেছে।
❖ ফেক আইডি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ
একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও লেখক-কলামিস্টের অভিযোগ অনুযায়ী, “নুসরাত জাহান” নামে একটি ছদ্ম ফেসবুক আইডি থেকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হয়।বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তিনি কৌশলগতভাবে কথোপকথন চালালেও পরবর্তীতে সেটিকে কেন্দ্র করে সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মেহেন্দিগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্য মোঃ ইউসুফ আলী সৈকত পরিস্থিতি বাড়াবাড়ি না করার অনুরোধ জানিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
❖ ইউটিউব কি গণমাধ্যম?
বিশেষজ্ঞদের মতে,ইউটিউব বা ফেসবুক একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম,কিন্তু নিজে থেকে গণমাধ্যম নয়।বাংলাদেশে গণমাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে সংশ্লিষ্ট আইন,নিবন্ধন, সম্পাদকীয় নীতিমালা এবং দায়বদ্ধতা থাকতে হয়।
শুধুমাত্র ভিডিও আপলোড বা পোস্ট প্রকাশ করলেই কেউ সাংবাদিক হয়ে যান না।
❖ সাংবাদিক কাকে বলে?
সাংবাদিক হলেন সেই ব্যক্তি—
যিনি তথ্য সংগ্রহ,যাচাই ও বিশ্লেষণ করে জনস্বার্থে প্রকাশ করেন
নৈতিকতা,সত্যতা ও নিরপেক্ষতার নীতি মেনে চলেন
আইন ও পেশাগত আচরণবিধির আওতায় কাজ করেন
❖ গণমাধ্যমের ভূমিকা
গণমাধ্যমের মূল কাজ—
সত্য তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা
ক্ষমতার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধ করা
সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করা
❖ আইনি ও সাংবিধানিক বাস্তবতা
বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হলেও তা আইনের সীমার মধ্যে।ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বিদ্যমান আইনে মিথ্যা তথ্য প্রচার, মানহানি,ব্ল্যাকমেইল বা ভয়ভীতি প্রদর্শন শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
❖ সচেতন মহলের প্রশ্ন
স্থানীয় সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রশ্ন—
“যে কেউ ক্যামেরা হাতে বা ইউটিউব চ্যানেল খুলে সাংবাদিক পরিচয় দিলে প্রকৃত সাংবাদিকতার মর্যাদা কোথায় থাকবে?”
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
![]()




















































সর্বশেষ সংবাদ :———