অর্থনীতি

সঞ্চয়পত্রের সার্ভারে অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে অর্থ আত্মসাতঃ-তিন ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দ

  প্রতিনিধি ৩০ অক্টোবর ২০২৫ , ১:৫০:৪৭ প্রিন্ট সংস্করণ

নিজস্ব প্রতিবেদক।।সঞ্চয়পত্রের সার্ভারে অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় সন্দেহভাজন তিন ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।একইসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসে সঞ্চয়পত্র লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত তিন কর্মকর্তার কম্পিউটারও জব্দ করেছে তদন্ত কমিটি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি বুধবার (২৯ অক্টোবর) এই পদক্ষেপ নেয়।

পাশাপাশি জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের সার্ভার ও তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবস্থার নিরাপত্তা আরও জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে,সম্প্রতি মতিঝিল অফিস থেকে কেনা ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র একটি জালিয়াত চক্র ভুয়া লেনদেনের মাধ্যমে আত্মসাৎ করে। সঞ্চয়পত্রটি কেনা হয়েছিল অগ্রণী ব্যাংকের জাতীয় প্রেস ক্লাব শাখা থেকে,কিন্তু টাকা চলে যায় এনআরবিসি ব্যাংকের দিনাজপুর উপশাখার আরিফুর রহমান নামে এক ব্যক্তির হিসাবে।পরে তিনি ঢাকার শ্যামলী শাখা থেকে নগদ অর্থ তুলে নেন।

একই পদ্ধতিতে আরও দুটি লেনদেনে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের একটি হিসাবে ৩০ লাখ এবং এনআরবি ব্যাংকের মাধ্যমে ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ভাঙানোর চেষ্টা করা হয়।তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে এলে শেষ মুহূর্তে ওই লেনদেনগুলো স্থগিত করা হয়।পরে বিএফআইইউ তিনটি সন্দেহজনক হিসাবই জব্দ করে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে,কীভাবে এই জালিয়াতি সংঘটিত হয়েছে তা এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে,সার্ভার হ্যাকিং বা সার্ভারে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ থাকা কেউ এতে জড়িত থাকতে পারেন। কারণ,সঞ্চয়পত্রের কেন্দ্রীয় সার্ভারভিত্তিক সিস্টেমে প্রতিটি লেনদেনের সময় গ্রাহকের নিবন্ধিত নম্বরে একবারের পাসওয়ার্ড (ওটিপি) যায়।কিন্তু সংশ্লিষ্ট তিনটি ঘটনায় কোনও ওটিপি পাঠানো হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন,প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে,এটি পরিকল্পিত জালিয়াতি।কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে,তা উদ্ঘাটনে তদন্ত কমিটি কাজ করছে।”

এদিকে,এই ঘটনার পর জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের এনএসসি সার্ভার ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সংযোগে নতুন করে নিরাপত্তা প্রটোকল জোরদার করা হয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content