প্রতিনিধি ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৫:১৯:৩৭ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পদত্যাগের পরিকল্পনা করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেছেন,অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের দ্বারা তিনি অপমানিত বোধ করছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।ঢাকায় নিজের বাসভবন বঙ্গভবন থেকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে এ সাক্ষাৎকার দেন তিনি।
রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সাহাবুদ্দিন সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক।তবে এ পদ অনেকটাই আলংকারিক।দেশের নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে থাকে।
অবশ্য ২০২৪ সালের আগস্টে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থানে দীর্ঘ সময় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা শেখ হাসিনা নয়াদিল্লি পালিয়ে যেতে বাধ্য হলে রাষ্ট্রপতির পদের গুরুত্ব বাড়ে।কারণ,অভ্যুত্থানের পর সংসদ ভেঙে দেওয়া হলে রাষ্ট্রপতিই একমাত্র সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে বহাল থাকেন।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন ৭৫ বছর বয়সী সাহাবুদ্দিন।কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না আওয়ামী লীগ।
কোণঠাসা করে রাখার অভিযোগ
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘আমি সরে যেতে চাই।আমি চলে যেতে আগ্রহী।’তিনি বলেন,নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমার দায়িত্ব পালন করে যাওয়া উচিত।সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতির পদে থাকায় আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।’
রাষ্ট্রপতি বলেন,প্রায় সাত মাস হয় অধ্যাপক ইউনূস তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি।তাঁর জনসংযোগ বিভাগ নিয়ে নেওয়া হয়েছে।সেপ্টেম্বরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস থেকে তাঁর ছবি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন,সব কনস্যুলেট,দূতাবাস ও হাইকমিশনে রাষ্ট্রপতির প্রতিকৃতি,রাষ্ট্রপতির ছবি ছিল।হঠাৎ এক রাতেই সেগুলো উধাও করে ফেলা হয়েছে।এতে মানুষের কাছে একটি ভুল বার্তা গেছে যে সম্ভবত রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।আমি খুবই অপমানিত বোধ করেছিলাম।’
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন জানান,প্রতিকৃতি সরিয়ে ফেলার বিষয়ে অধ্যাপক ইউনূসকে তিনি লিখিতভাবে বলেছেন,কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।তিনি আরও বলেন,আমার কণ্ঠরোধ করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে অধ্যাপক ইউনূসের প্রেস সচিবরা তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি।
সেনাপ্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন,সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার–উজ–জামানের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ হয়।
২০২৪ সালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলা প্রাণঘাতী বিক্ষোভের সময় সেনাবাহিনী নিরপেক্ষ অবস্থান নিলে প্রবীণ এই রাজনীতিকের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যায়।
সাহাবুদ্দিন বলেন,জেনারেল ওয়াকার–উজ–জামান স্পষ্ট করেছেন দেশের ক্ষমতা নেওয়ার কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই।
বাংলাদেশে সামরিক শাসনের ইতিহাস রয়েছে।তবে জেনারেল ওয়াকার–উজ–জামান বলে আসছেন,তিনি চান দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসুক।
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন,যদিও কিছু ছাত্র বিক্ষোভকারী শুরুর দিকে তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছিল,কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কোনো রাজনৈতিক দল তাঁকে পদত্যাগ করতে বলেনি।
জনমত জরিপগুলোতে আভাস পাওয়া যাচ্ছে যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠনের দৌড়ে এগিয়ে থাকবে।দল দুটি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতাসীন জোটের অংশ ছিল।
২০ বছর দেশ শাসন করা শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছেন কি না—এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন।তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর থেকে তিনি দলনিরপেক্ষ,কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।

















