সম্পাদকীয়

সংবিধানকে ধ্বংস করে কোটায় দায়মুক্তি: রাষ্ট্র কি এমন এক বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে?

  প্রতিনিধি ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ , ৩:৪১:৩৩ প্রিন্ট সংস্করণ

মাজহারুল ইসলাম।।রাষ্ট্রের চেহারা কেবল আইনের কাগজে লিখে চলে না; রাষ্ট্র চলে নৈতিকতা,আস্থা এবং সংবিধানের প্রতি আনুগত্যের ওপর।কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলী—চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ৯ জুলাই যোদ্ধাকে কোটায় পদায়ন থেকে শুরু করে দায়মুক্তির সংস্কৃতিতে—স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে,এই রাষ্ট্র নিজেই সংবিধানকে অমান্য করছে।

জুলাই আন্দোলনের সময় পুলিশের হত্যা,থানা লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং দেশের কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি ঘটানো হয়েছিল।যারা এই নৃশংস কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত,তাদেরই আজ কোটায় পদায়ন করা হচ্ছে।একে কি আমরা ‘আইনি ও প্রশাসনিক সঠিকতা’ হিসেবে দেখবো? না,এটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের অপব্যবহার, যা আগামী প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।

দায়মুক্তির সংস্কৃতি রাষ্ট্রকে ফ্যাসিস্ট বানায়।নির্বাহী বিভাগ, পুলিশ,বিচার বিভাগ,গণমাধ্যমকর্মী—যারা দায়িত্ব পালন করেছে—তাদের উপর কাল্পনিক দায় চাপিয়ে দমন করা হচ্ছে। অপরদিকে,সহিংস,ধ্বংসাত্মক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্তরা কোটায় পুনর্বাসন পাচ্ছে।এটা রাষ্ট্রীয় ন্যায়বিচারের চরম অবমূল্যায়ন।সংবিধান শুধু শপথের বই নয়,এটি দেশের নৈতিক অবকাঠামো।যখন রাষ্ট্রই সংবিধানকে নিজের সুবিধার জন্য বিকৃত করে,তখন সাধারণ নাগরিক,আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সমাজের আস্থা ধ্বংস হয়।

আমরা যদি এই প্রবণতাকে নিরব দেখাই,তবে আগামী দিনে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ধ্বংস রাজনৈতিক সহিংসতা এবং দায়িত্বহীনতার সংস্কৃতি সাধারণ নিয়মে পরিণত হবে। আফগানিস্তান,সিরিয়া,পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা আমাদের শেখায়—যে রাষ্ট্র নিজের সংবিধানকে ক্ষমতার হাতিয়ার বানায়,সেই রাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি অরাজকতার দিকে চলে যায়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পদায়ন হয়তো আইনি কাগজে বৈধ, কিন্তু নৈতিক ও সংবিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একেবারেই বেআইনি।রাষ্ট্র যদি এমন পদক্ষেপ চালিয়ে যায়,তাহলে দেশের ভবিষ্যত অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে।সংবিধানকে রাজনৈতিক সুবিধার জন্য বিকৃত করার এই দৃষ্টান্ত বন্ধ না করলে,রাষ্ট্রই তার নিজস্ব প্রতিষ্ঠিত নিয়ম ও ন্যায়বিচারের শেকড় ধ্বংস করবে।

রাষ্ট্রীয় নীতি কি এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে,সহিংসতার পুরস্কার দেয়ার ক্ষমতা তার আছে? যদি তাই হয়,তবে সাধারণ মানুষকে আর সংবিধান নয়,শুধু ভয় ও অসহায়তার মধ্যে বেঁচে থাকতে হবে।এই অবস্থা এখনই থামাতে হবে।

আরও খবর

Sponsered content