প্রতিনিধি ৭ জানুয়ারি ২০২৬ , ১২:৪৭:৫২ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।শেখ হাসিনা বর্তমানে ৭৮ বছর বয়সী। তিনি প্রায় ২১ বছর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন—যা তাঁকে বিশ্বের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষমতাসীন নারী সরকারপ্রধানদের অন্যতম করেছে।তাঁর নেতৃত্ব ও অর্জন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও স্বীকৃত। Arab News একে আখ্যায়িত করেছে—“Bangladesh dynamic leap: Sheikh Hasina’s landmark fifth term.”

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
Time Magazine–এর বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় তিনি ৩০তম স্থানে ছিলেন।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার মানবিক সিদ্ধান্তের জন্য তাঁকে “Mother of Humanity” উপাধিতে অভিহিত করে।
Foreign Affairs–এর মতে, বিশ্বের ১০০ চিন্তাশীল মানুষের তালিকায় তাঁর অবস্থান ছিল ১৩তম।
People & Politics–এর জরিপে ১৭৩ জন রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে সৎ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি ৩য় স্থানে ছিলেন।
২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার ডেকিন ইউনিভার্সিটির Center for Humanitarian Leadership–এর জরিপে তিনি “Champion of Humanity” নির্বাচিত হন।
বিখ্যাত কলামিস্ট আব্দুল গাফফার চৌধুরীর মতে,শেখ হাসিনার শাসনামল একদিন বাংলার ইতিহাসে হোসেনশাহী আমলের মতো স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। মানবাধিকার কর্মী ও শিক্ষাবিদ রিচার্ড ও ব্রায়ান তাঁদের Women Presidents and Prime Ministers গ্রন্থে বিশ্বের ইতিহাসে আলোড়ন সৃষ্টিকারী সাতজন নারী রাষ্ট্রপ্রধানের একজন হিসেবে শেখ হাসিনাকে স্থান দিয়েছেন।
রাজনৈতিক সংগ্রাম
প্রধানমন্ত্রীত্বের বাইরেও শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাস দীর্ঘ। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন থেকে শুরু করে প্রায় চার দশক তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন।পিতার হত্যার দীর্ঘ ২১ বছর পর বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করা, নূরেমবার্গ ট্রায়ালের আদলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার,এবং জিয়া,এরশাদ ও মঈন ইউ আহমেদের সামরিক শাসনের অবসানে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
নির্বাসিত জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়েই নির্মিত হয়েছে প্রামাণ্যচিত্র “Hasina: A Daughter’s Tale”। দুর্যোগকালে মাঠে নেমে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে একাধিকবার প্রাণনাশের চেষ্টা—সবকিছু পেরিয়ে তিনি রাজনীতিতে অটল থেকেছেন।
রাষ্ট্রীয় অর্জন
১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সহিংসতার অবসান।
১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে স্ট্যাটাস এবং ২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস অর্জন।
১৯৯৯ সালে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার স্বীকৃতি ও সেরেস পদক লাভ।
একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি আদায়।
পুরস্কার ও সম্মান
শেখ হাসিনা প্রায় ৫৪টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র,জাপান,স্কটল্যান্ড,অস্ট্রেলিয়া,বেলজিয়াম,রাশিয়া ও ভারতের বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন। ইউনেস্কোর হুপে–বোয়ানি শান্তি পুরস্কার (১৯৯৮) ও শান্তির বৃক্ষ উপাধি (২০১৪) তাঁর মানবিক নেতৃত্বের স্বীকৃতি।
পরিবার ও ব্যক্তিগত পরিচয়
শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় যুক্তরাষ্ট্র ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) আঞ্চলিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।তাঁর স্বামী ড. এম. এ. ওয়াজেদ মিয়া ছিলেন খ্যাতিমান পরমাণু বিজ্ঞানী।
উপসংহার
শেখ হাসিনা কেবল একজন রাষ্ট্রনায়ক নন—তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা হিসেবে উত্তরাধিকার বহন করার পাশাপাশি তিনি নিজ কর্মগুণে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। ইতিহাস তাঁকে নেতৃত্ব,সংগ্রাম ও অর্জনের প্রতীক হিসেবেই স্মরণ করবে।
> “Respect is not given, it’s earned.”

















