প্রতিনিধি ৯ জানুয়ারি ২০২৬ , ৩:৫৫:৫৫ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।টানা প্রায় ১৬ বছর ক্ষমতায় থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অবকাঠামো, জ্বালানি,যোগাযোগ,সামাজিক সুরক্ষা ও ডিজিটাল সেবায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে—এমনটাই দাবি করছে সরকারি ও সংশ্লিষ্ট মহল।এই সময়ে বাস্তবায়িত ও চলমান প্রকল্পগুলো দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা,সংযোগব্যবস্থা এবং মানবিক উন্নয়নে দৃশ্যমান প্রভাব ফেলেছে।

অবকাঠামো ও যোগাযোগে বড় অগ্রগতি দেশের যোগাযোগ খাতে যুগান্তকারী প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে পদ্মা সেতু ও রেল সংযোগ,মেট্রোরেল,এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে,যমুনা রেল সেতু,কর্ণফুলী টানেল,কক্সবাজার রেললাইন ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর,ঢাকা–চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে,মেরিন ড্রাইভ এবং বিভিন্ন ফ্লাইওভার ও উড়ালসেতু।মহাসড়কগুলো চার,ছয় ও আট লেনে উন্নীতকরণ এবং এশিয়ান হাইওয়ে রোড প্রকল্পে সংযুক্তির উদ্যোগ দেশের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক সংযোগ জোরদার করেছে।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে সক্ষমতা বৃদ্ধি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র,পায়রা,রামপাল ও মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ মোট ১১৯টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বহুগুণে বাড়ানো হয়েছে।‘ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ কর্মসূচির আওতায় গ্রামাঞ্চলেও বিদ্যুৎ সংযোগ বিস্তৃত হয়েছে।
বন্দর,অর্থনীতি ও শিল্পায়ন পায়রা সমুদ্র বন্দর ও ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ আকর্ষণে ভূমিকা রাখছে।রপ্তানি আয় ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জন করেছে।
ডিজিটাল রূপান্তর ও সেবা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট,ডিজিটাল পাসপোর্ট,ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিজিটাল তথ্যসেবা,মোবাইল ও ইন্টারনেট বিস্তার এবং মোবাইল ব্যাংকিং চালুর মাধ্যমে ডিজিটাল সেবার পরিধি বেড়েছে।শিক্ষা ক্ষেত্রে কম্পিউটার ল্যাব ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাস চালু হয়েছে।
শিক্ষা,স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা ২৬,১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণ,১,৪৫৮টি নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন,বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ এবং আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।শেখ হাসিনা বার্ন হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা বিস্তৃত হয়েছে। বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
বয়স্ক,বিধবা,প্রতিবন্ধী,মাতৃত্বকালীন,স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা; মুক্তিযোদ্ধা ভাতা; শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি; জেলেদের খাদ্য সহায়তা; ইমামদের ভাতা; ভিজিএফ, ডি-জি-ডি কার্ড; ওএমএস ও ১০ টাকা দরে চাল বিতরণসহ নানা সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়েছে।
কৃষি,নারী ও মানবিক উদ্যোগ কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন,কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে।রোহিঙ্গাদের আশ্রয় প্রদান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানবিক উদাহরণ হিসেবে আলোচিত।ছিটমহল সমস্যার সমাধান জাতীয় ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।
ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অবকাঠামো ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ,১,৬৮১টি মাদ্রাসা ভবন নির্মাণ এবং কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে।দেশের বিভিন্ন স্থানে বিনোদন কেন্দ্র ও বহুতল আদালত ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন,এসব উদ্যোগ ও প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ অবকাঠামো ও মানব উন্নয়নে এক নতুন ধাপে প্রবেশ করেছে।সমর্থকদের ভাষ্য—এই অগ্রযাত্রা ভবিষ্যতেও টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

















