প্রতিনিধি ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ , ৪:৩০:০২ প্রিন্ট সংস্করণ
OHCHR প্রতিবেদনকে ‘অত্যন্ত পক্ষপাতদুষ্ট’ আখ্যা

নয়াদিল্লি, ১৮ জানুয়ারি (ইউএনআই):বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা ড. হাসান মাহমুদ দৃঢ়ভাবে বলেছেন,আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে সরকার গঠন করবে। শনিবার নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয়ের (OHCHR) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনকে “অত্যন্ত পক্ষপাতদুষ্ট” ও “একপেশে” বলে আখ্যা দেন।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর দিল্লিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের আয়োজিত এটি ছিল প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন। প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হাসান মাহমুদ স্পষ্ট করে বলেন,নির্বাসিত সরকার গঠনের কোনো পরিকল্পনা আওয়ামী লীগের নেই।
তিনি বলেন,“আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে সরকার গঠন করব।”
নির্বাচন ‘একপক্ষীয় ও পূর্বনির্ধারিত’
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে হাসান মাহমুদ বলেন,নির্বাচনটি হবে “একপক্ষীয়” ও “পূর্বনির্ধারিত”।তাঁর অভিযোগ,আওয়ামী লীগের প্রতি জনগণের সমর্থন প্রায় ৬০ শতাংশ হলেও দলটিকে পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নয়।”
OHCHR প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত OHCHR প্রতিবেদনের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন,ওই প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর সংঘটিত সহিংসতার চিত্র উপেক্ষিত হয়েছে।
তার দাবি,আন্দোলন চলাকালে প্রায় ৩ হাজার পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন এবং একটি ঘটনায় একটি পুলিশ স্টেশনে আটক থাকা প্রায় ৪০ জন পুলিশ সদস্যকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখিত হতাহতের সংখ্যার নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।কিছু হত্যাকাণ্ড স্নাইপারের গুলিতে সংঘটিত হয়েছে উল্লেখ করে হাসান মাহমুদ দাবি করেন,এ ধরনের অস্ত্র বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে নেই—যা বিদেশি বা শত্রু উপাদানের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন,সাধারণত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে এ ধরনের প্রতিবেদন তৈরি হলেও,এক্ষেত্রে শুধুমাত্র ইউনূস সরকারের অনুরোধে প্রতিবেদনটি করা হয়েছে।সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও যথাযথ তথ্য যাচাই ছাড়াই এটি প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।এমনকি ইউনূস প্রশাসনের গেজেটে নিহত হিসেবে তালিকাভুক্ত কয়েকজন ব্যক্তিকে পরবর্তীতে জীবিত পাওয়া গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সাংবাদিক গ্রেপ্তার ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে হাসান মাহমুদ অভিযোগ করেন,২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে শত শত সাংবাদিককে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।পাশাপাশি সংবাদপত্রের কার্যালয় ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
তিনি দাবি করেন,বর্তমানে প্রায় এক লাখ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী কারাবন্দি রয়েছেন।
এছাড়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়,বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর পদ্ধতিগত হামলা ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী,গত দুই সপ্তাহে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত আটজন সদস্য নিহত হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক মহলে প্রতিবেদন জমার ঘোষণা
সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক অপরাধ গবেষণা ফাউন্ডেশনের আইনি দলের প্রধান গোলাম মারুফ মজুমদার নিঝুমের সঙ্গে যৌথভাবে জানানো হয়,২০২৪ সালের আগস্টের বিদ্রোহ-পরবর্তী হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের ওপর একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে।
এই প্রতিবেদন জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় (OHCHR), ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং কমনওয়েলথ সচিবালয়ে জমা দেওয়া হবে।একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অথবা স্বাধীন তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানানো হবে।
উল্লেখ্য,OHCHR-এর প্রতিবেদনটি ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়েছে।তবে ইউনূস-নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
















