সম্পাদকীয়

শুভ নববর্ষ ২০২৬, পাঠক-পাঠিকা!

  প্রতিনিধি ১ জানুয়ারি ২০২৬ , ৯:৫৫:২১ প্রিন্ট সংস্করণ

শুভ নববর্ষ ২০২৬, পাঠক-পাঠিকা!

মাজহারুল ইসলাম।।আপনি এই লেখা পড়ছেন নতুন সূর্যকিরণ মাথায় নিয়ে।পুরোনো বছরের আবর্তন শেষ হয়েছে।পেছনে পড়ে আছে হতাশা,বেদনা,অপূর্ণতা—পড়ে থাক।আজ এক নতুনের দিকে যাত্রা শুরু।নতুন প্রত্যাশা,নতুন প্রত্যয়—জীবনের নতুন অধ্যায় রচনা করার পালা।পেছনে হয়নি বলেই কি সামনে হবে না?সামনে যে হবে—এই অনুভব আর আশাতেই নতুন বছরের সৌন্দর্য।

বছরের প্রথম দিনের সূর্যে সেই আশারই নীরব আভাস।দিন আসে,দিন যায়—একই সূর্য ভোরে উদিত হয়ে সন্ধ্যায় অস্ত যায়।কিন্তু বছরের প্রথম দিনের সূর্যের মধ্যেই থাকে নতুন করে শুরু করার আহ্বান।এই নবীন সূর্য তার কাঁচা দুধের মতো কোমল কিরণে স্নান করিয়ে আপনাকে নিয়ে যায় প্রত্যাশাভরা ভবিষ্যতের দিকে।

নানা দুঃখ-বেদনা ও উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে আমরা কোভিডের এক দীর্ঘ ও কঠিন সময় পার করেছি।জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক টানাপোড়েন আমাদের জীবনযাত্রায় বিঘ্ন এনেছে।সামনে এখনো অনিশ্চয়তার কালো মেঘ।তবু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায়— “আমি মারের সাগর পাড়ি দেব রে।” সেই মারের সাগর পাড়ি দিয়ে আমরা ২০২৬-এর সৈকতে এসে ভিড়েছি।বাস্তবের মার আমাদের নিয়তি নয়—তা আমাদের অতীত।

পেছনে আপনি যা করে এসেছেন,তা আপনার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিতে পারে না; এ বছর আপনি কোথা থেকে শুরু করবেন—শুধু সেটুকুই দিক নির্ধারণ করে।তাই একটু গভীর নিশ্বাস নিন।নতুন করে স্বপ্ন সামনে রাখুন।এবার এগিয়ে যান—২০২৬ নিশ্চয়ই আপনার হবে।

শুধু ব্যক্তি নয়—যুগে যুগে সমাজ ও রাষ্ট্রও নববর্ষ সামনে রেখে নতুন লক্ষ্য স্থির করেছে।প্রাচীন ব্যাবিলনে চার হাজার বছর আগেও মানুষ এই উদ্দেশ্যেই নববর্ষ উদ্‌যাপন করত—এক বছরের চক্রে পারিনি তো কী হয়েছে,নতুন বর্ষচক্রে অর্জন করব।

জানুয়ারির প্রথম দিনের রোমান নববর্ষের মূলে ছিলেন সম্রাট নুমা পম্পিলিউস।তখন বছরে মাস ছিল দশটি,শুরু হতো মার্চে।তিনি জানুয়ারি থেকে বছরের সূচনা নির্ধারণ করেন। জানুয়ারি নামকরণ হয় দেবতা জানুসের নামে—নবসূচনার প্রতীক।তাঁর দুই মুখ—একটি অতীতের দিকে,অন্যটি ভবিষ্যতের দিকে।অতীতের পর্যালোচনা আর প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতের অগ্রযাত্রা—এই চেতনাই নববর্ষের সারকথা।

শতাব্দী পেরিয়েছে,যুগ বদলেছে,সভ্যতার স্তর পাল্টেছে—কিন্তু এই চেতনা বদলায়নি।

বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রে আমাদের আরও অনেক কিছু অর্জন করা বাকি।তবে যা অর্জিত হয়েছে,তা অভাবনীয়—এ সত্য অস্বীকার করলে সাধারণ মানুষের প্রাপ্য মর্যাদা খর্ব হয়। সামাজিক সূচকে অগ্রগতি,শিক্ষা ও অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ,কৃষকের অসামান্য অবদান,প্রবাসী শ্রমিকদের ঘামঝরা উপার্জন—সব মিলিয়ে বাংলাদেশ আজও বিশ্বের সামনে এক বিস্ময়কর উদাহরণ।সাম্প্রতিক প্রতিকূলতাতেও এই সাফল্যের ধারা থামেনি।এটাই বাংলাদেশের অজেয় আত্মা, অদম্য চেতনা।সেই শক্তি নিয়েই আমরা ২০২৬-এ পা রেখেছি।

নতুন বছরে আপনাদের আনন্দ-বেদনার সঙ্গী হিসেবে যুগান্তরবার্তা পাশে থাকবে।ভালো-মন্দ সব পরিস্থিতিতে সত্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্য পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব আমরা আগেও নিয়েছি,আগামীতেও নেব।আরও বিশ্বাসযোগ্য,আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে আপনাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি রইল।

২০২৬ হোক সম্ভাবনা,সাহস আর সার্থকতার বছর।আপনার পথ আলোকিত হোক।

আরও খবর

Sponsered content