প্রতিনিধি ৭ জানুয়ারি ২০২৬ , ৩:৩১:১৮ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।গাজীপুর ও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। জানা গেছে,তাহরিমা জান্নাত সুরভী (১৭) জাতীয় দৈনিক কালবেলা-এর সাংবাদিক নাঈমুর রহমান দূর্জয় কর্তৃক যৌন হয়রানির শিকার হয়ে কালিয়াকৈর থানায় অভিযোগ দিলে তার বিপরীতে হানিট্র্যাপ,চাঁদাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগ এনে গ্রেফতার করা হয়।পরে জামিন মঞ্জুর হয়।

অন্যদিকে,মাহাদী হাসান (হবিগঞ্জ সমন্বয়ক) বানিয়াচং থানার এসআই সন্তোষকে ঝুলিয়ে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।এছাড়া,থানায় লুটপাট,অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের ওপর বিভিন্ন হুমকি-ধামকি চালিয়ে তিনি এবং তার সহযোগীরা আসামিদের মুক্তি করিয়ে দিয়েছেন।
ভিডিও লাইভে মাহাদী ও সহযোগীরা ৪শ’ থানায় লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং ৩২৮০ পুলিশ সদস্যের হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।যদিও জুলাই–আগস্টের ঘটনায় ছাত্র-জনতাকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে,পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতারদের ১৫ ঘন্টার মধ্যেই মুক্তি দেয়া হয়েছে।
শিশু-কিশোরদের উগ্র প্রভাব ও রাজনৈতিক প্রভাব
দেশের ১৭–২২ বছর বয়সী ছাত্ররা “জুলাইযোদ্ধা” বা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী” হিসেবে পরিচিত।
নাবালক ও কিশোরদের বিরুদ্ধে আইনের দৃষ্টিতে শিশু পুনর্বাসন ও বিশেষ আদালত প্রযোজ্য।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন,এই ছাত্র-জনতাকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে,যেখানে নির্বাচনের আগে অশান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তাদেরকে মব হিসেবে প্ররোচিত ও সংগঠিত করা হয়।
শিশু-কিশোরদের অর্থনৈতিক ও সহযোগিতা প্রায়ই গোপন চ্যানেল বা ব্যক্তিগত পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে আসে।
মিডিয়া ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা
নির্বাচনের মাত্র ৫–৬ সপ্তাহ বাকি থাকাকালীন,দেশের জাতীয় দৈনিক ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলো মিডিয়া হুমকির শিকার।
উল্লেখযোগ্য: কালের কন্ঠ,বাংলাদেশ প্রতিদিন (বসুন্ধরা গ্রুপ),সময় টিভি (সিটি গ্রুপ),প্রথম আলো,ডেইলি স্টার।
ঘটনার পর ঢাবি মধুর ক্যান্টিনে মাহাদী ও সহযোগীরা মিডিয়াকে চিরতরে বন্ধ করার হুমকি দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে,সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্রের সঠিক চর্চা ব্যাহত হয়।সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত, হুমকি বা মব ব্যবহার নয়।
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট
দেশে পুলিশ,প্রশাসন,সরকার,নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ প্রভাবিত।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরমভাবে অবনতি।
সামাজিক অস্থিরতা ও নির্বাচনী অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশ সিরিয়া,আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মডেল শাসনের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা কিছু ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে উগ্রপন্থী ও সন্ত্রাসী হিসেবে উল্লেখ করেছেন,যা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।
বিশ্লেষণ ও পরামর্শ
১. শিশু ও কিশোরদের উগ্র কর্মকাণ্ড ও হুমকি মোকাবেলায়:
পুনর্বাসন কেন্দ্র,সামাজিক সচেতনতা এবং মনোবিজ্ঞানিক সহায়তা প্রয়োজন।
২. মিডিয়ার স্বাধীনতা রক্ষা করতে:
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
হুমকি বা চাপের বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখা
৩. রাজনৈতিক অস্থিরতা রোধের জন্য:
প্রশাসন,পুলিশ ও বিচার বিভাগ স্বাধীন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে
নির্বাচনী সময়ে অশান্তি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত
উপসংহার
বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য গভীর চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।শিশু-কিশোরদের উগ্র প্রভাব থেকে রক্ষা করা,মিডিয়ার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী শান্তি বজায় রাখা এখন সময়ের সর্বাগ্রে গুরুত্বপূর্ণ।
















