জাতীয়

রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা হুমকিতে গুজব রাষ্ট্রনীতি? ২৬ লাখ ভারতীয় সরকারি চাকরির মিথ্যা,সাংবিধানিক ধ্বংসযজ্ঞ ও সম্ভাব্য রাষ্ট্রদ্রোহের আইনি দায়

  প্রতিনিধি ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ , ২:৫৮:৩৯ প্রিন্ট সংস্করণ

রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা হুমকিতে গুজব রাষ্ট্রনীতি? ২৬ লাখ ভারতীয় সরকারি চাকরির মিথ্যা,সাংবিধানিক ধ্বংসযজ্ঞ ও সম্ভাব্য রাষ্ট্রদ্রোহের আইনি দায়

বিশেষ অনুসন্ধানী রিপোর্ট।।বাংলাদেশে সরকারি চাকরির অনুমোদিত পদসংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ এবং বাস্তবে কর্মরত আছেন প্রায় ১২ লাখ সরকারি চাকরিজীবী।এই প্রতিষ্ঠিত বাস্তবতা উপেক্ষা করে তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যে ‘২৬ লাখ ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে সরকারি চাকরি করছে’—এমন ভিত্তিহীন ও ভয়াবহ গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয়। অনুসন্ধানে অভিযোগ এসেছে,তৎকালীন তথাকথিত আইন উপদেষ্টার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা ছাড়া এই অপপ্রচার রাষ্ট্রব্যাপী বিস্তার লাভ করতে পারত না।

প্রমাণহীন দাবির রাষ্ট্রীয় পরিণতি

১৬–১৭ মাস অতিক্রান্ত হলেও অভিযুক্ত পক্ষ একটি তালিকা, একটি নাম,একটি নথি কিংবা একটি যাচাইযোগ্য প্রমাণও হাজির করতে পারেননি।সরকারি চাকরিতে কর্মরত কোনো ভারতীয় নাগরিকের অস্তিত্ব প্রমাণিত না হওয়া সত্ত্বেও এই গুজব সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে,প্রশাসনের ওপর জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করেছে এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা তৈরি করেছে—যা সরাসরি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন তোলে।

নিরপেক্ষতার ব্যত্যয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান প্রশ্নবিদ্ধ

আইন উপদেষ্টা হয়েও নিরপেক্ষতা পরিত্যাগ করে বিগত সরকারের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে পরিকল্পিতভাবে বিতর্কিত করার অভিযোগ রয়েছে।

আরও অভিযোগ,মামলা ও আইনি প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিচারিক আদালতে সাজাপ্রাপ্ত একাধিক আসামিকে নথিসহ খালাস করানো হয়েছে,যার ফলশ্রুতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুরুতর অবনতি ঘটে।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু: চিকিৎসা,নিরাপত্তা ও দায়

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু ঘিরে প্রশ্নের পাহাড় জমেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি অনুযায়ী,তিনি দীর্ঘদিন সুস্থ ছিলেন এবং প্রায় ১৬ মাস রোগমুক্ত অবস্থায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিলেন; এমনকি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে—ক্যান্টনমেন্টের সেনাকুঞ্জে একটি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণের পর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে তিনি আর বাসায় ফিরতে পারেননি।এ ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দায় নিয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের ভূমিকা সম্পর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক চলছে।

সম্ভাব্য আইনি দায়: সংবিধান ও দণ্ডবিধির আলোকে

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন,প্রমাণহীন গুজব ছড়িয়ে জনমনে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করলে সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমা লঙ্ঘিত হয়,কারণ এই স্বাধীনতা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা,জনশৃঙ্খলা ও জনস্বার্থের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যায় না।

এছাড়া অভিযোগ সত্য হলে প্রযোজ্য হতে পারে—

দণ্ডবিধি,১৮৬০ এর ১২৪ক (রাষ্ট্রদ্রোহ): রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ বা অসন্তোষ উসকে দেওয়া;

৫০৫ ধারা: জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক বা অশান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে গুজব প্রচার;

৫০৪ ধারা: ইচ্ছাকৃতভাবে শান্তিভঙ্গের উসকানি;

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে): মিথ্যা তথ্য প্রচার করে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা।

আইনবিদদের মতে,দায়িত্বশীল সাংবিধানিক পদে থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড সংঘটিত হলে বিশ্বাসভঙ্গ ও গুরুতর ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে আলাদা দায় নির্ধারণের প্রশ্ন ওঠে।

উপসংহার

এই অনুসন্ধান ইঙ্গিত দেয়—এটি নিছক রাজনৈতিক বক্তব্য নয়; বরং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা,বিচারব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক বিশ্বাসের ওপর সরাসরি আঘাত।প্রমাণহীন গুজব দিয়ে দেশ অস্থিতিশীল করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।দায় নির্ধারণ ও জবাবদিহি ছাড়া এই সংকটের সমাধান অসম্ভব।

আরও খবর

Sponsered content