নিজস্ব প্রতিবেদক।।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু) প্রদত্ত ভাষণকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।ভাষণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার কিছু কর্মকাণ্ডের সমালোচনা তুলে ধরা হলে সংসদে হট্টগোল শুরু হয় এবং কয়েকটি বিরোধী দল ওয়াকআউট করে।
বৃহস্পতিবার সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভাষণ প্রদান করেন।এ সময় তিনি সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা,রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং অতীত সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনামূলক মূল্যায়ন তুলে ধরেন বলে জানা গেছে।
রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার কিছু কর্মকাণ্ডকে “ফ্যাসিবাদী প্রবণতা” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।এতে সংসদ কক্ষে তাৎক্ষণিক উত্তেজনা তৈরি হয়।কিছু বিরোধী সদস্য তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন এবং পরে ওয়াকআউট করেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেছেন,সাবেক সরকারের বিরুদ্ধে এ ধরনের ভাষা ব্যবহার রাজনৈতিকভাবে অশোভন এবং ইতিহাসের বিকৃতি।
অন্যদিকে সরকারপক্ষের কয়েকজন সংসদ সদস্য বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ মূলত সরকারের নীতিগত অবস্থান ও রাজনৈতিক মূল্যায়ন তুলে ধরেছে।অতীত সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ বলেও তারা মন্তব্য করেন।
সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে,সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ সাধারণত সরকারের প্রস্তুত করা নীতিগত বক্তব্য হয়ে থাকে।সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে এই বিতর্ক দেশের ইতিমধ্যেই মেরুকৃত রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে।তবে সংসদীয় গণতন্ত্রে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে ঘিরে বিতর্ক বা বিরোধী দলের প্রতিবাদ নতুন নয় বলেও তারা উল্লেখ করেন।
এদিকে ভাষণ শেষে সংসদের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার জন্য স্পিকার সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
![]()

















































সর্বশেষ সংবাদ :———