প্রতিনিধি ১০ জানুয়ারি ২০২৬ , ৪:২১:৫৪ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক।।রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় ফাতেমা আক্তার লিলি (১৭) নামের এক স্কুলছাত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।নিহত লিলি স্থানীয় রেডিয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টার মধ্যে দক্ষিণ বনশ্রীর প্রধান সড়কের ‘প্রীতম ভিলা’ নামের একটি বাসায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে,নিহত লিলির বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার লাখাই থানার বামৈন গ্রামে।তার বাবা সজীব মিয়া।পরিবারটি বর্তমানে বনশ্রীতে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল।
নিহতের বড় বোন শোভা জানান,জমিজমা সংক্রান্ত কাজে তাদের বাবা-মা গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) গ্রামের বাড়িতে যান।পরিবারের একটি হোটেল ব্যবসা রয়েছে।বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে হোটেলের কর্মচারী মিলন খাবার নেওয়ার জন্য বাসায় এলে লিলির সঙ্গে তার কিছুটা বাগ্বিতণ্ডা হয়।
তিনি আরও জানান,শনিবার দুপুরের দিকেও মিলন খাবার নিতে বাসায় আসে।সে সময় শোভা জিমে ছিলেন।পরে বাসায় ফিরে তিনি দেখেন ঘরের দরজা খোলা এবং ভেতরের আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে।
শোভা বলেন,“বাসার ভেতরে বড় একটি পাতিলের মতো জিনিসের নিচে আমার বোনকে কুঁকড়ানো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি।প্রথমে মনে হয়েছিল মাথায় আঘাত পেয়েছে। পরে হিজাব সরিয়ে দেখি গলায় রশি প্যাঁচানো এবং বঁটি দিয়ে গলা কাটা।আমাদের হোটেলের কর্মচারী মিলনের ওপরই আমাদের সন্দেহ।”
তিনি অভিযোগ করেন,বোনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার সময় বাসার মালিক বা আশপাশের কেউ সহায়তায় এগিয়ে আসেননি।পরে এক বন্ধুর সহযোগিতায় রিকশায় করে লিলিকে ফরাজী হাসপাতালে নেওয়া হয়।
খিলগাঁও থানার ওসি মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, বিকেলের দিকে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে।পরে ফরাজী হাসপাতাল থেকে লিলির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন,“হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়,নিহতের গলা কাটা।হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”
এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।













