নিজস্ব প্রতিবেদক।।চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় যৌতুক দাবি,নির্যাতন ও বিয়ের তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগে স্বামী,শাশুড়ি ও ননদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন এক নারী।একই ঘটনায় পাল্টা বক্তব্য দিয়ে অভিযোগগুলোকে ‘গুজব ও অপপ্রচার’ দাবি করেছেন অভিযুক্ত স্বামী।
মামলার বাদী সাদিয়া নাসিম (২১) ও তার মা রোকেয়া বেগম এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন,বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে নির্যাতনের শিকার হন সাদিয়া।তাদের দাবি,১০ জুন ২০২৪ তারিখে হলফনামার মাধ্যমে তালাক ঘোষণা করা হলেও ১৬ জুলাই ডাকযোগে পাঠানো নোটিশের পরও ১১ লাখ টাকা দেনমোহর পরিশোধ করা হয়নি।
বাদীপক্ষ আরও অভিযোগ করেন,তালাকের বিষয়টি গোপন রেখে দীর্ঘদিন আটকে রাখা, লশারীরিক নির্যাতন এবং ধর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে।মামলা দায়েরের পর বিবাদীপক্ষের লোকজন থেকে হুমকি পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
অন্যদিকে অভিযুক্ত আব্দুল মান্নান,যিনি পেশায় প্রবাসী বলে দাবি করেছেন,সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।তিনি বলেন,বিয়ের কয়েকদিন পর জানতে পারেন তার স্ত্রীর এপিলেপসি (মৃগী) রোগ রয়েছে,যা বিয়ের আগে জানানো হয়নি।এরপরও তিনি সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী,কাবিন ১০ লাখ টাকা নির্ধারিত থাকলেও তার কাছে ১৮ লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়।এসব পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে তিনি তালাক দেন এবং তালাক কার্যকর হওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন বলে জানান।বর্তমানে তাকে ও তার পরিবারকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আইনি দিক
বাংলাদেশের আইনে যৌতুক দাবি,নির্যাতন বা যৌতুকের কারণে তালাক দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ।যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী যৌতুক দাবি করলে ১ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড হতে পারে।
এছাড়া তালাক আইনগতভাবে কার্যকর হওয়ার আগে দ্বিতীয় বিয়ে করলে তা দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় দ্বি-বিবাহ হিসেবে গণ্য হতে পারে,যার শাস্তি সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড।পূর্বের বিয়ের তথ্য গোপন করলে ৪৯৫ ধারায় সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
বর্তমান অবস্থা
বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,তদন্ত ও আদালতের সিদ্ধান্তের পরই অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণ হবে।

![]()





































সর্বশেষ সংবাদ :———