প্রতিনিধি ৭ জানুয়ারি ২০২৬ , ৬:৪৬:২১ প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকা (যাত্রাবাড়ি)প্রতিনিধি।।রাজধানীর যাত্রাবাড়িতে পুলিশের হাতে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ১৩ বছরের ছাত্রকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী,ছেলেটির মা যুব মহিলা লীগের একজন নেত্রী।অভিযোগ রয়েছে,তাকে না পেয়ে পুলিশ শিশুটিকে আটক করে এবং হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যায়।ঘটনাটির একটি ছবি ও বিবরণ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকারকর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সমালোচকদের দাবি,আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদ ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শিশুদের ক্ষেত্রে হাতকড়া ব্যবহার একটি গুরুতর লঙ্ঘন।তারা প্রশ্ন তুলছেন—একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক,শারীরিকভাবে দুর্বল শিশুর ক্ষেত্রে পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কতটা ছিল যে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হলো?
এদিকে একই দিনে শাহবাগ এলাকায় সংঘটিত আরেকটি ঘটনাকে টেনে এনে সামাজিক মাধ্যমে তুলনা করা হচ্ছে। অভিযোগ করা হচ্ছে,প্রকাশ্যে সংঘটিত এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিযুক্ত এক যুবককে সে সময় পুলিশ গ্রেপ্তার বা হাতকড়া পরায়নি।বিষয়টি নিয়ে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করছেন অনেকে।
একাধিক সূত্র জানায়,শিশুটির বিরুদ্ধে একটি গুরুতর মামলার অভিযোগ রয়েছে এবং তিনি আগাম জামিনের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন।আদালত জামিন নামঞ্জুর করেছেন বলেও জানা গেছে।তবে এ বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা মামলার নথি থেকে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।
মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলছেন,অভিযোগ যাই হোক না কেন,শিশুর ক্ষেত্রে আইন ও প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ সংবেদনশীলতা ও সুরক্ষার সঙ্গে অনুসরণ করা জরুরি।শিশু যদি কোনো অপরাধে অভিযুক্তও হয়,তাহলে শিশু আইন অনুযায়ী তাকে শিশু আদালত ও সংশ্লিষ্ট সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আনার বিধান রয়েছে।
এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত ও দায়িত্ব নিরূপণের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন।একই সঙ্গে শিশু অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
(১৯ জুলাই ২০২৪ ছবিটা) গুগল।
















