সারাদেশ

মেহেন্দিগঞ্জ ভূমি অফিসে দুর্নীতির মহাকাব্য: নামজারি থেকে খাসজমি—সবখানেই কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ

  প্রতিনিধি ২০ জানুয়ারি ২০২৬ , ১২:০৪:০৪ প্রিন্ট সংস্করণ

মেহেন্দিগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি।।বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নামজারি,খাজনা আদায়,খাসজমি ব্যবস্থাপনা ও হাট–বাজার ইজারা নিয়ে ভয়াবহ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে।অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে—সরকার নির্ধারিত ফি উপেক্ষা করে সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে হাজার থেকে শুরু করে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঘুষ আদায় করা হচ্ছে।

সম্প্রতি কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ হানিফ রাড়ী (পিতা: মৃত মোহাম্মদ আলী রাড়ী) এর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ভূমি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ শাখায় বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

ভূমি অফিসের মৌলিক তথ্য

অবস্থান: পাতারহাট বন্দর,মেহেন্দিগঞ্জ,বরিশাল

ইউনিয়নের আয়তন: ৭৯ বর্গ কিলোমিটার

লোকসংখ্যা: প্রায় ১,১০,৫২০ জন

গ্রামের সংখ্যা: ৪৩টি

মৌজার সংখ্যা: ৪৩টি

হোল্ডিং সংখ্যা: ২০,৭৮১টি

জমির পরিসংখ্যান

মোট জমি: ১৭,৯৮৭.৩৩ একর

কৃষি জমি: ১৫,০৯০.০০ একর

অকৃষি জমি: ২,৮৯৭.৩৩ একর

খাস জমি: ১,৬২৫.৫০ একর

ভিপি “ক” গেজেটভুক্ত অর্পিত সম্পত্তি: ১৮০ একর

হাট–বাজার: ০৩টি

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা

সহকারী কমিশনার (ভূমি):
মোঃ ফাহিম হাসান খান (Md. Fahim Hasan Khan)
পরিচিতি নম্বর: ১৯৪১৪
পদায়ন: ০১ ডিসেম্বর ২০২৫,মেহেন্দিগঞ্জ

ইউনিয়ন তহশিলদার / উপ সহকারী কমিশনার (ভূমি):
মোঃ সাইফুল ইসলাম

কানুনগো:
মোঃ সোলায়মান খান

নামজারিতে সর্বোচ্চ ফি ১১৭০ টাকা,আদায় হচ্ছে লাখ টাকা

সরকারি বিধি অনুযায়ী নামজারি (জমাখারিজ) করতে সর্বোচ্চ খরচ ১,১৭০ টাকা। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে—

সাধারণ নামজারিতে ৭ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা

জমির মূল্য বেশি হলে ৫–১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঘুষ

মামলা বা আপত্তির ভয় দেখিয়ে আবেদন আটকে রাখা

“ম্যানেজ” না করলে খতিয়ান বন্ধ

একাধিক ভুক্তভোগী জানান,টাকা না দিলে মাসের পর মাস ঘুরিয়েও নামজারি মেলে না।

খাসজমি ও হাট–বাজারে ভয়াবহ লুটপাট

অভিযোগ রয়েছে—

সরকারি খাসজমি ভূমিদস্যুদের দখলে রেখেই ম্যানেজ বাণিজ্য

দখলমুক্ত না করে লাখ লাখ টাকা অবৈধ আয়

হাট–বাজার নামমাত্র ইজারা দিয়ে গোপন আতাঁতে ১০–১২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া

খাজনা অনলাইন হলেও দাখিলা পেতে ঘুষ

সরকার খাজনা আদায় অনলাইন করলেও বাস্তবে—

১০০ টাকার খাজনায় ১–৩ হাজার টাকা আদায়

নির্ধারিত খাজনা পরিশোধ করেও দাখিলা না পাওয়া

দালাল ছাড়া কাজ হয় না—এমন অভিযোগ

লিখিত অভিযোগ থেকে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ভয়াবহ তথ্য

কালিকাপুর গ্রামের মোঃ হানিফ রাড়ীর লিখিত অভিযোগ অনুসন্ধান করে দেখা যায়—

তার নামজারি আইনগতভাবে বৈধ হলেও আটকে রাখা হয়েছে

একই খতিয়ানে অন্যদের নামে নামজারি হয়েছে

আদালতের নিষেধাজ্ঞা না থাকা সত্ত্বেও হয়রানি করা হয়েছে

এই অভিযোগের সূত্র ধরে ভূমি অফিসে দুর্নীতি ও অনিয়মের মহাকাব্য সামনে আসে।

তদন্ত শুরু,অভিযুক্তদের দৌড়ঝাঁপ

বিশ্বস্ত সূত্র জানায়—

বিষয়টি বর্তমানে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ও

জেলা প্রশাসকের রেভিনিউ শাখার দুই কর্মকর্তা তদন্ত করছেন

তদন্তের খবর ছড়িয়ে পড়তেই অভিযুক্তরা—

নিজেদের বাঁচাতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন

গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্টদের “ম্যানেজ” করার চেষ্টা করছেন

অন্যদিকে,অভিযুক্ত কর্মকর্তারা আত্মপক্ষ সমর্থনে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

প্রশাসনের নীরবতা,জনমনে ক্ষোভ

এলটি নোটিশ ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নামজারি দ্রুত সম্পন্ন করার কথা থাকলেও মেহেন্দিগঞ্জে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে।এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

এখন দেখার বিষয়—
তদন্ত শেষে সত্যিই কি দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে,
নাকি সবকিছু “ম্যানেজ” হয়ে যাবে?

(চলবে…)

"

আরও খবর

Sponsered content