অপরাধ-আইন-আদালত

মেহেন্দিগঞ্জে জেলে হাবীব মাঝির মৃত্যু সংবাদের প্রতিবাদ ঘিরে কোস্টগার্ডের জিজ্ঞাসাবাদ

  প্রতিনিধি ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ , ৪:০৬:৩৯ প্রিন্ট সংস্করণ

নিজস্ব প্রতিবেদক।।বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কালাবদর নদীতে জেলে হাবীব মাঝির মৃত্যুর ঘটনায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে একজন সাংবাদিককে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করার অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি ২০২৬) আছরের নামাজের সময় মেহেন্দিগঞ্জের শ্রীপুর ইউনিয়নে দায়িত্বরত কোস্টগার্ড ক্যাম্পের ইনচার্জ সংবাদকর্মীকে খবর দিয়ে ডেকে নেন।পরে মাগরিব পর্যন্ত সংবাদের উৎস,তথ্য সংগ্রহের ভিত্তি এবং প্রকাশের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান তিনি।

এ সময় সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তথ্যদাতার পরিচয় ও অভিযোগকারীর গোপনীয়তা বজায় রেখে গণমাধ্যম আইনের ভাষায় সকল প্রশ্নের উত্তর দেন। একই সঙ্গে কোস্টগার্ডের চাহিদা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র, প্রমাণাদি এবং বিভিন্ন পত্রিকায় কর্মরত অবস্থায় প্রকাশিত সংবাদের পেপার কাটিং জমা দেন বলে জানা গেছে।

আটক ও হয়রানির অভিযোগ

অভিযোগে বলা হয়েছে,শনিবার আছরের নামাজ পড়তে গ্রামের বাড়ির মসজিদে যাওয়ার পথে যুগান্তর বার্তা নিউজ পোর্টালের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক,লেখক-কলামিস্ট এম মাজহারুল ইসলামকে নির্বাচনী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার অজুহাতে শ্রীপুরে অবস্থানকারী কোস্টগার্ড সদস্যরা মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে চরফেনুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত অস্থায়ী কোস্টগার্ড ক্যাম্পে নিয়ে যান। সেখানে তাকে আটকে রেখে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয় এবং সাংবাদিকতার নীতিবহির্ভূত তথ্য দিতে চাপ ও ভিডিও বক্তব্য দিতে বাধ্য করার অভিযোগ ওঠে।

এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে কেন—এমন প্রশ্নও করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।হাবীব মাঝির মৃত্যুর ঘটনায় সংবাদের জেরে সংবাদকর্মীকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা চলছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,হাবীব মাঝি নদীতে পড়ে মারা গেলেও এ ঘটনায় এখনো কোনো ইউডি (অপমৃত্যু) মামলা দায়ের হয়নি।

আইনি বিশ্লেষণ

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী,কোনো সংবাদের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড বা অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাংবাদিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকতে হলে সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।

১. লিখিত সমন বাধ্যতামূলক: ফৌজদারি কার্যবিধির (CrPC) ১৬০ ধারা অনুযায়ী,কোনো ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করতে হলে লিখিত নোটিশ বা সমন দিতে হয়। মৌখিকভাবে ডেকে নেওয়া বা অনানুষ্ঠানিকভাবে চাপ প্রয়োগ আইনসম্মত নয়।

২. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা: সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবাদপত্রের স্বাধীনতা একটি মৌলিক অধিকার।সংবাদের উৎস (source) প্রকাশে সাংবাদিককে বাধ্য করা বা এ বিষয়ে হয়রানি করা এই অধিকারের পরিপন্থী।

৩. ডিজিটাল/সাইবার আইন প্রয়োগের সীমা: কোনো সংবাদ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হলে এবং তা নিয়ে অভিযোগ উঠলে সুনির্দিষ্ট মামলার ভিত্তিতে তদন্ত করা যেতে পারে।তবে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয়।

৪. প্রেস কাউন্সিলই সঠিক ফোরাম: সংবাদের সত্যতা বা নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সংক্ষুব্ধ পক্ষ বা সংস্থা সরাসরি সাংবাদিককে জিজ্ঞাসাবাদের পরিবর্তে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ জানাতে পারে। এটিই স্বীকৃত আইনি পথ।

মানবাধিকার ও সাংবাদিক নেতাদের মতামত

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে,কোনো সাংবাদিককে লিখিত সমন ছাড়া ডেকে নেওয়া,আটকে রাখা বা মানসিক চাপ সৃষ্টি করা ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের লঙ্ঘন। সাংবাদিক নেতারা বলছেন,এ ধরনের ঘটনা পেশাগত স্বাধীনতার জন্য হুমকি এবং এটি গণমাধ্যমে ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করে।

তারা অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত,দায়ীদের জবাবদিহি এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

কোস্টগার্ডের বক্তব্য

এ বিষয়ে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও খবর

Sponsered content