রাজনীতি

মাহমুদুর রহমান: ভারতবিদ্বেষের মুখোশের আড়ালে বিতর্কিত অতীত?

  প্রতিনিধি ১১ জানুয়ারি ২০২৬ , ২:৪০:৩৮ প্রিন্ট সংস্করণ

মাহমুদুর রহমান: ভারতবিদ্বেষের মুখোশের আড়ালে বিতর্কিত অতীত?

নিজস্ব প্রতিবেদক।।বর্তমানে নিজেকে তীব্র ভারতবিরোধী ও ‘মহা বিপ্লবী’ হিসেবে উপস্থাপন করলেও সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমানের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।বিভিন্ন সময়ের জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী,তাঁর ভূমিকা ও অবস্থান ছিল বহুক্ষেত্রেই বিতর্কিত এবং পরস্পরবিরোধী।

সরকারি পদে থেকেও বেসরকারি সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ

দৈনিক প্রথম আলো ও যুগান্তর-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী,বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মাহমুদুর রহমান একই সঙ্গে সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো গ্রুপের পরিচালক হিসেবে সুবিধা গ্রহণ করতেন।সরকারি দায়িত্বে থেকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এমন আর্থিক ও প্রশাসনিক সম্পর্ক চাকরিবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে সে সময় অভিযোগ ওঠে।

এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করলেও তিনি সরকারের অনুমোদন নিয়েছিলেন কি না—সে প্রশ্নও তুলেছিলেন বিশ্লেষকেরা।দৈনিক জনকণ্ঠ-এ প্রকাশিত এক সংবাদ বিশ্লেষণে বলা হয়,সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে অনুমোদন ছাড়া সংবাদ সম্মেলন ও রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

উত্তরায় গোপন বৈঠক ও আমলাদের পলায়ন

২০০৪ সালে দৈনিক যুগান্তর-এ প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়,উত্তরায় মাহমুদুর রহমানের একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ৩৫–৪০ জন বর্তমান ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তা গোপন বৈঠকে মিলিত হন।সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে আলো নিভিয়ে মুখ ঢেকে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন আমন্ত্রিত কর্মকর্তারা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী,ফটো সাংবাদিকদের ক্যামেরা এড়াতে কেউ জ্যাকেট,কেউ কাপড় দিয়ে মুখ ঢাকার চেষ্টা করেন।এই ঘটনা তৎকালীন রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তোলে এবং বিএনপির জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

টাটার সঙ্গে গ্যাস নিশ্চয়তা ও জাতীয় স্বার্থ বিতর্ক

দৈনিক জনকণ্ঠ ও অন্যান্য পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে আসে,ভারতের টাটা গ্রুপকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য ২০ থেকে ২৫ বছর গ্যাস সরবরাহের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়।রতন টাটার সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই নিশ্চয়তার বিষয়টি জ্বালানি মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করে।

সমালোচকদের মতে,দেশের সীমিত প্রাকৃতিক গ্যাস দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী ছিল।অভিযোগ রয়েছে,এই প্রক্রিয়ায় মাহমুদুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

একাদশের আগে বিএনপিকে বিব্রত করার অভিযোগ

এক এগারোর প্রাক্কালে সরকারি কর্মকর্তা ও আমলাদের নিয়ে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।সে সময় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী,এসব কর্মকাণ্ড বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে।

প্রশ্ন থেকে যায়

বর্তমানে তুরস্কের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে ভারতবিরোধী অবস্থানকে জোরালোভাবে তুলে ধরা মাহমুদুর রহমানের অতীত ভূমিকা ও সিদ্ধান্তগুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে।প্রশ্ন উঠছে—এই অবস্থান আদর্শিক পরিবর্তন,না কি সময় ও পরিস্থিতিভেদে রূপ বদল?

সত্যের অনুসন্ধানে থাকা নাগরিক সমাজের একাংশ মনে করেন,অতীতের দলিল ও পত্রিকার রেফারেন্স সামনে রেখে এসব প্রশ্নের জবাব দেওয়া জরুরি।



আরও খবর

Sponsered content